• Monday, October 23, 2017
logo
add image
উখিয়া সীমান্তের ইয়াবা গডফাদার কারাগারে

উখিয়া সীমান্তের ইয়াবা গডফাদার কারাগারে

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া,সিটিনিউজ : সীমান্তের ইয়াবা গডফাদার যুবদল নেতা তৈয়ব উল্লাহ ইয়াবা মামলায় বিচারপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কারামুক্ত হয়ে টেকনাফ যুবদল নেতা তৈয়ুব উল্লাহকে ফের কারাগারে পাঠালো আদালত। গত ৮ আগষ্ট সকালে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের একটি টিম কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার নিজ বাড়ী থেকে যুবদল নেতা তৈয়ুব উল্লাহসহ ভাই হেলালকে আটক করা হয়। পরে ৯ আগষ্ট আটক তৈয়ুব উল্লাহকে ঢাকা স্পেশাল সেশন জজ আদালত (৪) এবং ভাই হেলালকে হাইকোর্টে সোর্পদ করা হয়। তবে গত মাস দেড়েক আগে তৈয়ুব উল্লাহ জামিন জালিয়াতির মাধ্যমে কারাগার হতে বের হন।

খোজঁ নিয়ে যানা যায়, গত বছরের ৭ জানুয়ারি ঢাকা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি টিম মতিঝিল ও গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ টেকনাফ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও সাবরাং পানছড়ি পাড়া এলাকার মো. ইউনুছের ছেলে মোঃ তৈয়ুব উল্লাহ, পটুয়াখালীর (বর্তমান কক্সবাজার কলাতলীর বাসিন্দা) ওবায়দুল ও শ্রী সঞ্চয় সাহাকে আটক করা হয়। আটকের ছয় মাস পর তৈয়ুব উল্লাহ হাইকোর্টের আদেশ জালিয়াতি করে জামিনে বেরিয়ে আসে।

পরে বিষয়টি অবগত হয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি মোঃ শওকত হোসেন ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত ২৪ নং বেঞ্জের এক আদেশের প্রেক্ষিতে তৈয়ুব ও ভাই হেলালকে আটক করে বুধবার আদালতে স্বশরীরে হাজির হন টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোঃ মাইন উদ্দিন খান। এ সময় তৈয়ুবের কক্সবাজারের আইনজীবি সেলিমুল মোস্তফা, আইনজীবি সহকারী ইমান হোসেন স্বশরীরে আদালতে হাজির ছিলেন। সম্প্রতি ইয়াবা মামলায় বিচারপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে আসামী জামিনের অভিযোগে নানা বিষয় উঠে আসে।

গত ২০১৬ সালের ২৬ জুন রাজধানীর খিলগাঁও থেকে পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ উখিয়া বালুখালী এলাকার বকতার আহমেদ ও নুরুল আলম টিটোকে আটক করে। এই মামলাটি ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৬ এ বিচারাধীন অবস্থায় আসামি বকতার ওই মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু জামিন আবেদনটি শুনানি না হওয়ার পরও বেঞ্চ কর্মকর্তা রফিকুল হাইকোর্টের দুজন বিচারপতির স্বাক্ষর জাল করে জামিন আদেশ প্রস্তুত করেন। ওই ভুয়া জামিন আদেশ বিচারিক আদালতে দাখিল করলে আসামি বকতার কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এর কিছু দিন যেতে না যেতে একই মামলার অপর আসামি নুরুল আলম টিটোও হাইকোটে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানিতে মূল আসামি বকতারের জামিন পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তখনই এই ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনা ফাস হয়। এরপরই রফিকুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রেজিষ্ট্রারকে নির্দেশ দেন হাইকোট।ওই নির্দেশের পরই সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেল হাইকোর্টের বেঞ্চ কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলামকে চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ জারি করেন। একইসঙ্গে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ সব ইয়াবা মামলার বিষয় খতিয়ে দেখতে গিয়ে ধরা পড়ে টেকনাফের যুবদল নেতা মোঃ তৈয়ুব উল্লাহর জামিন জালিয়তি। এরপর হাইকোর্টের এক আদেশের ফলে ইয়াবা মামলার আসামী তৈয়ুব উল্লাহ ও সহযোগী ভাইকে আটক করতে মাঠে নামে পুলিশ। শুধু তাই নয় তার সহোদর হেলাল উদ্দিনকেও আটক করে আদালতে সোর্পদ করে হাইকোর্টে স্বশরীরে টেকনাফ মডেল থানার ওসিকে হাজির হতে নির্দেশ দেয়। এর প্রেক্ষিতে গত ৮ আগষ্ট সকালে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মাইন উদ্দিন খানের নেতৃত্বে এসআই মাহির খানসহ একদল পুলিশ কক্সবাজার শহরের কলাতলীর গইওম তলী এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তৈয়ুব উল্লাহসহ ভাইকে আটক করা হয়। আটকদের সাথে নিয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি হাজির হন হাইকোর্টে।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মাইন উদ্দিন খান সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে ইয়াবা মামলায় মুক্ত হওয়া টেকনাফের তৈয়ুব উল্লাহর জামিন বাতিল করে হাইর্কোট। এ প্রেক্ষিতে তাকে আটক করে ঢাকা স্পেশাল সেশন জজ আদালতে সোর্পদ করে বিষয়টি স্বশ্বরীরে উপস্থিত হয়ে হাইর্কোটকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানায় ওই কর্মকর্তা।

Leave a reply