• Saturday, November 18, 2017
logo
add image

কুতুপালংয়ে অবাধে বিক্রি হচ্ছে সীম

কুতুপালংয়ে অবাধে বিক্রি হচ্ছে সীম

কুতুপালংয়ে অবাধে বিক্রি হচ্ছে সীম

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া (কক্সবাজার)::  বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশ অমান্য করে রোহিঙ্গারা যত্রতত্র বিক্রি করছে সিমকার্ড। রোহিঙ্গাদের সিমকার্ড বিক্রি না করতে সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর যারা ইতিপূর্বে দেশীয় অপারেটর কোম্পানির সিমকার্ড বিক্রি করছে এবং অবাধ ব্যবহার করছে, সে বিষয়েও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার ঘোষণা দেওয়া আছে।

রোহিঙ্গাদের টেলিযোগাযোগ সুবিধার্থে সরকারের টেলিটক অপারেটর কোম্পানি রোহিঙ্গা বস্তি অভ্যান্তরে আপাতত ১৫টি বুথ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এই নির্দেশ অমান্য করে কক্সবাজারের উখিয়া -টেকনাফের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় গড়ে ওঠা রোহিঙ্গারা পানের দোকান, সোলার দোকান, মুরগীর দোকান, ইলেক্ট্রনিক দোকান, চায়ের দোকান, ফার্মেসি, মুদির দোকানের আড়াঁলে ব্যাপক হারে রোহিঙ্গাদের হাতে চড়ামুল্যে বিনা রেজিষ্টেশনে, আংগুলের চাপ মুক্ত সিমকার্ড বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।

এসব চোরাই সিমকার্ড বিক্রির বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। পাশাপাশি বিকাশ ব্যাংকিং লেনদেনে বার্ষিক লাখ -লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকিও দিচ্ছে। সরকার অনুমোদিত অপারেটর কোম্পানির বাইরে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বাজারে মৌলবী বক্তারা আহমদ মেম্বারের মার্কেটে অন্তত অর্ধশতাধিক দোকানপাটে অবৈধ ভাবে সিমকার্ড বিক্রি করছে। এসব অসাধু রোহিঙ্গা সিমকার্ড কালোবাজারীরা স্থানীয়দের সিমকার্ড বিক্রি করেনা। চড়াঁ মুল্যে রোহিঙ্গা অসাধুরা শুধু রোহিঙ্গাদের সিমকার্ড বিক্রি করছে। প্রতিটি সিমকার্ডের মুল্য হাতিয়ে নিচ্ছে সর্বনিম্ন ২৫০ থেকে সুযোগ বুঝে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। বৈধতা শুধু প্রশাসনের কিছু কর্তা ব্যক্তিদের টুপাইস, স্থানীয় প্রভাবশালী রোহিঙ্গা দরদীদের মাসোহারা প্রদানই অবৈধ কাজের বৈধতা জাহির করা।

সরেজমিনে (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা কুতুপালং বাজারে গিয়ে দেখা গেছে রোহিঙ্গাদের দোকানে সিমকার্ড বিক্রির হিড়িঁক। নতুন -পুরনো আসা রোহিঙ্গারা মিলে খুলে বসেছে দোকান। পণ্য সামগ্রী ইলেক্ট্রনিক জাতীয় হলেও বিক্রি হচ্ছে সিমকার্ড। বক্তারা মার্কেটের জাহাঙ্গীর মুদির দোকান লাগোয়া রোহিঙ্গা মোঃ ইউনুছ (৩০) পিতা, আবদুল জব্বার, অনিবন্ধিত, তার কাছে প্রতিবেদক নিজেই একটি সিমকার্ড কিনতে চাইলে সাফ জানিয়ে দেয় আমি (ইউনুছ) সিমকার্ড বিক্রি করিনা। চলে গেলাম। এক পরিচিত রোহিঙ্গা যুবক কে ইউনুছের দোকানে পাঠিয়ে একটি সিমকার্ড কিনে আনেন, যার নং- ০১৮৭১২৬৪০১২। মুল্য নেন ২৬০ টাকা। তৎক্ষণাৎ প্রতিবেদক নিজে গিয়ে জানতে চাইলে বলেন বিক্রিত সিমকার্ড আমাকে (ইউনুছ) নুরুল ইসলাম নামক আরেক রোহিঙ্গা বিক্রি করতে দিয়েছে বলে স্বীকার করেন।

নারিকেল বাগান সংলগ্ন আরেক রোহিঙ্গার সিমকার্ড বিক্রির দৃশ্য মেলে। রোহিঙ্গাদের অহরহ সিমকার্ড বিক্রি করছেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের ছায়াকপি জমা ও হাতের আংগুলের ছাপ নিচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে কোন সদোত্তর দিতে পারেন নি সিমকার্ড বিক্রেতা ছব্বির আহমদ। আমি নিজেই একটি সিমকার্ড কিনতে চাইলে বলেন, ভাই আমি সিমকার্ড বিক্রি করিনা একজনে বেচতে দিয়েছিল, কে সে জিজ্ঞাসা করা হলে জবাব নেই।

পালংখালী ইউপির চেয়ারম্যান এম.গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা এদেশের আইনপরিপন্থি কাজ করছে। মোবাইল ব্যবহারের কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহির্বিশ্বে পাচার হওয়ার আশংকা রয়েছে। উখিয়া উপজেলা আআওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন সরকারি ঘোষিত সিমকার্ড বিক্রি বন্ধ এবং ব্যবহার করাগুলোর বিষয়ে খতিয়ে দেখা হউক।

এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন বলেন, ইতিপূর্বে রোহিঙ্গাদের হাতে থাকা মোবাইল সহ ৯০ টি অবৈধ সিমকার্ড জব্দ করে পুলিশে দিয়েছি। পুলিশের প্রতি নির্দেশনা আছে অবৈধ সিমকার্ড জব্দের এবং বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয়পত্রধারী নাগরিক ছাড়া কাউকে সিমকার্ড বিক্রি না করার সরকারী নির্দেশ রয়েছে।

উত্তর দিন