• Monday, October 23, 2017
logo
add image
ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’য় বিপর্যস্ত অসহায় মানুষের ঘরদোর বানিয়ে দিন

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’য় বিপর্যস্ত অসহায় মানুষের ঘরদোর বানিয়ে দিন

আ ব ম খোরশিদ আলম খান-
এবার মাহে রমজানের শুরুতেই আগে দেশের বড় একটি এলাকায় প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। কক্সবাজার, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সন্দ্বীপসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি-বান্দরবানে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ ব্যাপকভাবে আঘাত হানায় জানমালের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, কয়েকটি জেলা-উপজেলায় ‘মোরা’র তা-বে পঞ্চাশ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে হাজার হাজার পরিবার গৃহহারা ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।

বৃহত্তর চট্টগ্রামে এক বছরের মাথায় দুইবার দুই দুইটি ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে গরিব পরিবারগুলো। এর কয়েক বছর আগে আইলা-সিডর-রোয়ানুর তা-বে লাখ লাখ মানুষের জীবনে নেমে এসেছিল অশেষ দুর্ভোগ-দুঃখ। বছর বছর ধরে প্রাকৃতিক বৈরী পরিস্থিতিতে পড়ে গরিব মানুষেরা পিষ্ট হচ্ছে। বাড়ি ঘর ও সহায় সম্পদ হারিয়ে তারা বিপন্ন-বিপর্যস্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বছর দুয়েক পর পর প্রকৃতি রুদ্রমূর্তি ধারণ করে অসহায় মানুষকে আরো বেশি অসহায়-অনিরাপদ করে তোলে।

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ সারা দেশের সব জেলায় আঘাত না হানলেও এর আগের নানা ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত মানুষ এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অসহায় গরিব মানুষগুলো আরো অসহায় ও নিঃস্ব হয়ে পড়ে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে। ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’য় শুধু জানমালের ক্ষতি হয়েছে তা নয়, লক্ষ লক্ষ টাকার বনভূমি এতে উজাড় হয়ে পরিবেশের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। ‘মোরা’র তা-বে ৮৬ লক্ষ টাকার বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হবার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। (সমকাল, ৮ জুন, ২০১৭)

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার বিশাল বনভূমি ঘূর্ণিঝড়ে লন্ড ভন্ড হয়ে যাওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য যেমন বিপন্ন হয়েছে, তেমনি বনভূমি হারিয়ে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। আমাদের দেশে বনভূমির বিস্তৃতি ১০/১২ ভাগের বেশি হবে না। ফলে পরিবেশ হারাচ্ছে ভারসাম্য। প্রকৃতি হয়ে পড়েছে রুক্ষ। পরিবেশ-প্রতিবেশের সংকটে বাড়ছে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা। সমুদ্র ফুলে-ফেঁপে স্ফীত হয়ে উঠায় আগামী কয়েক দশকের মধ্যে পৃথিবীর বহু দেশ ও শহর-জনপদ পানির নিচে তলিয়ে যাবে বলে পরিবেশবিদরা ইতিমধ্যে আশংকা প্রকাশ করেছেন।

পরিবেশ সুরক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও পরিবেশবান্ধব। মানবতার নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবেশ সুরক্ষায় গাছ লাগানোর জোরালো তাগিদ দিয়েছেন। জীবনকে নিরাপদ করতে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় প্রতিটি মানুষকেই গাছ লাগানোর নির্দেশনা পেশ করেন তিনি। পরিবেশ বাঁচলে বাঁচবে মানুষ, বাঁচবে ধরিত্রীÑএই হচ্ছে ইসলামের নির্দেশনা। যা আজ আমরা কতোটা মেনে চলছি তাই ভাববার বিষয়।

প্রকৃতির বিরূপ আচরণে তথা ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে বিশ্ববাসী আজ বড় অসহায়। পশু-পাখির জীবনও আজ বিপন্ন। রুক্ষ পরিবেশের অসহায় শিকার প্রাণীকুলও। অন্যদিকে ধনী দেশগুলো শিল্পায়ন তথা শিল্পকারখানা প্রসারের নামে প্রতিনিয়ত কার্বন নিঃসরণ ঘটিয়ে পরিবেশকে বিপন্ন করে তুলেছে। ফলে দিন দিন বাড়ছে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটা। উন্নত দেশগুলো পরিবেশকে বিপন্ন করে প্রকৃতিকে রুক্ষ করে তুললেও এর অসহায় শিকার অনুন্নত দেশগুলো। এটাই হচ্ছে আজ বিশ্ববাস্তবতা। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে বাংলাদেশও আজ রুক্ষ জলবায়ু পরিস্থিতির শিকার।

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে সরকারকে। তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন নিশ্চিত করতে হবে। যাদের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে তাদের ঘরদোর বানিয়ে দিতে হবে। প্রতিটি পরিবারের কর্মক্ষম মানুষকে চাকরি-বাকরির সুযোগ করে দিতে হবে। গ্রামে গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। ধনীগণ জাকাতের টাকায় নানাভাবে গরিবের পাশে দাঁড়াতে পারে। আর সরকার রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে জাকাত সংগ্রহ ও বণ্টনের মাধ্যমে দেশ থেকে দারিদ্র্য নির্মূল করতে পারে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন শুধুই সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগ।

আ ব ম খোরশিদ আলম খান: সাংবাদিক, ইসলামি চিন্তাবিদ।

Leave a reply