• Saturday, October 21, 2017
logo
add image
চকরিয়ায় গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনার ধুম

চকরিয়ায় গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনার ধুম

বশির আলমামুন,চকরিয়া(কক্সবাজার)থেকে::কক্সবাজারের চকরিয়ায় পবিত্র ইদুল ফিতরে বেচাকেনায় ধুম পড়েছে। পৌর শহরের মার্কেটগুলোতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নারী-পুরুষ সহ সবধরনের ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত থাকে বিপণিবিতানগুলো। তবে পুরুষের চেয়ে নারী ক্রেতাদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে বেশী। ক্রেতাদের পাশাপাশি ব্যস্ত সময় পার করছে দোকানিরা। তারা এখন নির্ঘূম রাত কাটাচ্ছে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দু’ পাশে লাগোয়া পৌর শহরের চিরিঙ্গা-সোসাইটির সুপার মার্কেট, নিউ সুপার মার্কেট, মতলব শফিং, হাজেরা শফিং, আনোয়ার শপিং, সিটি সেন্টার, ইদ্রিছ সেন্টার, নিউমার্কেট, ওয়েষ্টার্ণ প্লাজা,ওসান সিটি মার্কেট, হাশেম মার্কেট, রওশন মার্কেট, হক সুপার মার্কেট, সমবায় মার্কেট, রুপালী শপিং, চকরিয়া শপিং ও বাবু মিয়া মার্কেটের বস্ত্র বিতান, কসমেটিক ও ক্রোকারিজ সহ বিভিন্ন পন্যের দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। ইদ যতই কাছে আসছে ক্রেতাদের ভীড় ততই বেশী বাড়ছে। চকরিয়ার ব্যবসায়ীরা প্রতি বছররের মতো এবারও নিত্যনতুন পোশাক আমদানি করায় চকরিয়া ছাড়াও জেলার পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেষখালী, ইদগাঁ, পার্শ্ববতী বান্দরবনের লামা, আলীকদম, আজিজনগর ও চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকা থেকে এলাকা থেকে ইদের মার্কেট করতে আসছে লোকজন পরিবার নিয়ে।

এ ছাড়া ও চকরিয়ার হারবাং, বরইতলী, পহরচাদাঁ, কাকারা, মানিকপুর, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, বদরখালী, বিএমচর, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া,পশ্চিম বড় ভেওলা থেকে ও প্রতিদিন সব বয়সি ক্রেতারা ছুটে আসছে ইদের কেনাকাটা করতে। পছন্দের পোশাকটির জন্য শত শত তরুণ-তরুণী, শিশু সবাই ঘুরছেন এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে। বিভিন্ন মার্কেটের ব্রান্ডের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। দোকানগুলোতে তরুণদের বাহারি শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট,ফতোয়া থেকে শুরু করে তরুণীদের বিভিন্ন ডিজাইনের দেশী বিদেশী থ্রিপিচ, সালোয়ার, কামিজ, ফতুয়া, বিভিন্ন নামের পায়জামা, গহনা, বিক্রি হচ্ছে। ঈদে ঘর সাজানোর আসবাবপত্রও বিক্রি হচ্ছে দেদাছে। জুতার দোকানগুলোতেও একই অবস্থা। ক্রেতারা তাদের পছন্দের জুতা সংগ্রহ করতে মার্কেটের এপেক্স, ডাটাবাজার, বাটা, টাটা সহ বিভিন্ন জুতার দোকানে ভিড় করছেন। দোকানিরাও ব্যস্ত ক্রেতাদের সন্তুষ্ট করতে।

চকরিয়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রেজাউল হক সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক শরাফত উল্লাহ জানান, ঈদ মৌসুমের সময় মহিলাদের পছন্দ বেনারসি, জামদানি ও কাতান শাড়িসহ নতুন ডিজাইনের কাপড়। তাই চকরিয়া পৌরশহরের বিভিন্ন মার্কেটে কেনাকাটা করতে বেশি উৎফুল্ল থাকেন মেয়েরা। আর এই উৎসবে আনন্দ যোগাতে নারীদের পছন্দ অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি ও সালোয়ার কামিজ এবং দেশ-বিদেশি ব্যান্ডের থান কাপড় সংগ্রহ করে থাকেন। ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানগুলোতে মওজুত করেছে বাহারি ডিজাইনের লেহেঙ্গা শাড়ি, লেহেঙ্গা নেট শাড়ি, ইতালিয়ান ক্রেফ, বুটিকস, কাতান শাড়ি, ইন্ডিয়ান সুতি শাড়ি, ঢাকাইয়া ও ইন্ডিয়ান জামদানি, ইন্ডিয়া স্কুসিফ ট্রি পিচ, ক্রাফটেট ট্রিপিচসহ আকর্ষণীয় ডিজাইনের পণ্য। পাশাপাশি ছোটদের কাপড়ের জন্য বিপুল সম্ভার রয়েছ দোকানে। বাচ্চাদের পোশাকের মধ্যে রয়েছে পায়জামা,পাঞ্জাবি, টিশার্ট ও শার্ট-প্যান্ট। ক্রেতাদের কাছে দাম বড় নয় দামের বদলে তারা ভাল মানের কাপড়টি কিনতে চান।

স্থানীয় গৃহবধূ আয়েশা বেগম মিনার ও স্কুল ছাত্রী সুবহা বিনতে মামুন জানান, মার্কেটগুলোতে এবার পছন্দের ও নির্দিষ্ট নামের কোন পোশাক পাওয়া যাচ্ছেনা। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার সব কিছুর দামও একটু বেশী। এরপর ও কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি।
চকরিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) দিদারুল আলম বলেন ইদ মওসূমে মার্কেট গুলোতে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা যাতে পণ্যের দাম বেশী নিতে না পারে সে জন্য নিয়মিত মোবাইল কোর্টের নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশী দামে কাপড় বিক্রি করায় কয়েকজন দোকানিকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।
চকরিয়া থানার ওসি বখতেয়ার উদ্দিন চৌধূরী বলেন, ইদকে সামনে রেখে পৌর শহরে সব ধরনের নাশকতা এড়াতে পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে। মার্কেটগুলোতে অপ্রীতিকর ঘটনাসহ চুরি-ডাকাতি ও চিনতাই রোধে সিসি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a reply