• Monday, October 23, 2017
logo
add image
পটিয়ায় পাঁঠা ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়

পটিয়ায় পাঁঠা ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়

সুজিত দত্ত, পটিয়া প্রতিনিধি::চট্টগ্রামের পটিয়ায় উৎসব মুখর পরিবেশে সনাতনী সম্প্রদায়ের মনসা পূজা আগামী ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। এ পূঁজাকে ঘিরে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পাঁঠার হাট বসেছে সাবেক মহকুমার সদর পটিয়ায়।

পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন (পুরান থানাহাট) ও নতুন থানার হাটে এ পাঁঠার হাট বসে আসছে। এতে গত ৩ সপ্তাহ ধরে চলেছে পাঁঠা বিকিকিনি।

এ হাটগুলোতে এক একটি পাঁঠা ১০/২০ হাজার টাকা থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হাকাচ্ছে বিক্রেতারা। পটিয়ায় মনসা পূজাকে ঘিরে গত ৩ সপ্তাহে এ দু-হাটে প্রায় কোটি টাকার উপরে পাঁঠা বিক্রয় হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। বর্তমানে পটিয়ায় বর্ষণকে উপেক্ষা করেও পাঁঠা ক্রেতা-বিক্রেতাদের বাধ ভাঙা জোয়ারে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রত্যক্ষদর্শী বিপ্লব চৌধুরী জানান, এ হাট থেকে শুধু পটিয়া বা দক্ষিণ চট্টগ্রাম নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল যেমন- পাবনা, কুষ্ঠিয়া, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, ভৈরব, সিলেট, যশোর ও সন্ধীপ থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা এসে তাদের পছন্দের পাঁঠা বিকিকিনি করে থাকে। গত শুক্রবার পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার সম্মুখে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ক্রয় করেন এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী।

তাদের দাবি চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাঁঠা ক্রেতা-বিক্রেতারা সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগসহ সার্বিক অনূকুল পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় এখানে তাদের পছন্দের পাঁঠা ক্রয়ে ভীড় করে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলার অনুকূল পরিবেশ থাকায় প্রতি হাটে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রায় ১০ কোটি টাকার উপরে পাঁঠা ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে।

পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি পাঁঠার দাম হাঁকিয়েছেন কচুয়াইয়ের রাখাল চন্দ্র দে ৪ লাখ টাকা। তার আর একটি পাঁঠার দাম তিনি হাঁকিয়েছেন ৩ লাখ টাকা। তিনি জানান, গত বছর তিনি ঢাকা থেকে ১৫টি পাঠন্যাইয়া পাঁঠার বাচ্চা এনেছিলেন। যা লালন-পালন করার পর এখন এক একটি ৩/৪ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তার একটি পাঁঠা গত শুক্রবারের হাটে ৪ লাখ টাকায় বিক্রয় হয়।

তিনি স্থানীয় পশু চিকিৎসক, ডাক্তার শফিউল আলমের পরামর্শে মোটা তাজা করণের মাধ্যমে ছয় মাসেই তার পাঁঠার সর্বোচ্চ দাম আদায় করতে সক্ষম হন বলে জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী পটিয়া পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পুলক চৌধুরী জানান, সনাতনী সম্প্রদায়ের এ উৎসবে পটিয়া নতুন রূপে সেজেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঠা ক্রেতারা পটিয়া সদরে আসে সেই শত বছর আগে থেকে।

এ বাজারকে ঘিরে পটিয়ার পুরাতন থানা হাট এলাকা হিসেবে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রতি বছর বিশাল বাজার বসে।

 

Leave a reply