• Tuesday, August 21, 2018
logo
add image

গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকলে গোলাপ, না থাকলে মামলা

গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকলে গোলাপ, না থাকলে মামলা


নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দনাইশ :: চন্দনাইশের দোহাজারী ও চন্দনাইশ এলাকায় বিষেশ অভিযানে মোটরযান আইনে ১৬০টি মামলা দায়ের হয়েছে। গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকলে গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা, না থাকলে দেয়া হয়েছে মামলা।

গত ৫ আগস্ট ট্রাফিক সপ্তাহ শুরুর পর থেকে গতকাল ৯ আগস্ট সন্ধ্যা পর্যন্ত দোহাজারী সদর এলাকায় ২০টি মোটর সাইকেল, ট্রাক, বাস, পিক-আপ, কাভারভ্যান, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারসহ ১৩৫টি মামলা হয়েছে।

৯ আগস্ট ১০টি মোটর সাইকেল, বাস, ট্রাক, পিক-আপ, প্রাইভেট কারসহ ৪০টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মোটরযান আইনে মামলা হয়েছে। আরও ৬টি গাড়ি আটক করা হয়েছে।

এ দিকে চন্দনাইশ থানা পুলিশ গাছবাড়ীয়া কলেজ গেইট, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অফিসের সামনে, সাতঘাটিয়া পুকুর পাড় এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে গত ৮ আগস্ট ১৫টি মোটর সাইকেল, গতকাল ৯ আগস্ট ৩টি মাহিন্দ্রা, ৭টি মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে মোটরযান আইনে মামলা দেয়া হয়েছে।

  এ সকল এলাকায় ১দল পুলিশ সদস্য গোলাপ ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একের পর এক গাড়ি দাঁড় করে গাড়ির কাগজপত্র, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করেন পুলিশ। যে সকল গাড়ির কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্স সঠিক আছে তাদের দিকে পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে গিয়ে ১টি করে গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

যে সকল গাড়ির কাগজপত্র ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স সঠিক পাওয়া যাইনি তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। মোটর সাইকেল আরোহিদের হেলমেট না থাকলে সতর্ক করা হয়েছে। এ দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষ এবং পথিকরা পুলিশকে বাহবা দিয়েছে।

ট্র্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে গাড়ির চালক ও মালিকদের সচেতন করতে উল্টো পথে গাড়ি চালানো, হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার, হুটার, বিকন লাইট ব্যবহার, মাইক্রোবাসের কালো গ্লাস ব্যবহার করায় এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বা গাড়ির কাগজপত্র সঠিক না পাওয়ায় ১৬০টি মামলা হয়েছে চন্দনাইশে।

পুলিশের এ অভিযানের ফলে চন্দনাইশ বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন ছিল অনেকটা পাখা। ট্রাফিক বিভাগে সকল দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণ দুপুরে তাপদাহে দাঁড়িয়ে গাড়ির কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস করতে দেখা গেছে। সড়ক দুর্ঘটনারোদ, চালক-যাত্রী-পথচারীদের সচেতনতার সৃষ্টির করতে পুলিশ পরামর্শ দিতে দেখা গেছে। ট্রাফিক পুলিশের দাবি তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করে সড়ক নিরাপদ রাখতে। কিছু অনভিজ্ঞ চালক সড়কের নিয়মনীতি না জানার কারণে দেশের দুর্ঘটনার হার বাড়ছে বলে দাবি করেন।

অভিযান চলাকালে মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বেশী। গাড়ির কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ যাবতীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে অনেক গাড়ির চালক। ট্রাফিক পুলিশের এ অভিযানকে অনেক যাত্রী এবং পথচারীরা সাগত জানিয়েছে।

দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর বিদ্যুৎ বডুয়া ও চন্দনাইশ থানার এস.আই ওমর ফারুক বলেছেন, যানজট নিরসন ও দুর্ঘটনা রোধ করতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তারা আরো বলেন, যে সকল গাড়ির কাগজপত্র এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ঠিক ছিল তাদেরকে পুলিশের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে সম্মাননা দেয়া হয়েছে। আর যারা কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে সে সকল গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। অভিযান চলাকালে পথচারী, যাত্রী, চালকদের সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে সচেতনতা মূলক পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকলে গোলাপ, না থাকলে মামলা
 

বৃহস্পতিবার অভিযান চলাকালে দুপুরে আনোয়ারার এ.এস.পি (সার্কেল) মফিজুর রহমান দোহাজারীতে ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বেশ কয়েকটি গাড়ীর চালকদের কাগজপত্র দেখে ঠিক থাকলে তাদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। গাড়ীর কাগজপত্র সঠিক না পেলে সে গাড়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেন।

এসময় অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন, চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল-মামুন ভুঁইয়া, শহর ও যানবাহনের চন্দনাইশ জোনের পুলিশ পরিদর্শক উত্তম কুমার দেব নাথ, দোহাজারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বিদ্যুৎ কুমার বড়–য়া, সার্জেন্ট মতিয়ার রহমান, সহ-সার্জেন্ট রুহুল কাদের, এস.আই আবদুল মন্নান, এস.আই. আতিক, কনষ্টেবল খলিলুর রহমান-২, আবদুল মালেক, আবদুল কাদের, মাইনুউদ্দিনসহ পুলিশ ও ট্রাফিক সদস্যগণ।