• Tuesday, August 21, 2018
logo
add image

গোয়ালঘরে আগুনে গরু-ছাগল পুড়ে ছাই

গোয়ালঘরে আগুনে গরু-ছাগল পুড়ে ছাই


নেজাম উদ্দিন রানা :: রাউজানে গোয়াল ঘরে আগুন লেগে জ্বলে অঙ্গার হয়েছে একাধিক গবাদি পশু। আসন্ন কুরবানীর হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে গবাদি পশুগুলো লালন-পালন করে আসছিলেন উপজেলার রাউজান ইউনিয়নের জারুলতলা গ্রামের আকিল মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ির মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র মো. সালাউদ্দিন।

বুধবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক  ২টার দিকে দুষ্কৃতকারীদের দেওয়া আগুণে দেড় লক্ষ টাকা মূল্যের গবাদি পশু জ্বলে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হওয়ার পথে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। এই ঘটনায় তার ২টি গরু ১টি ছাগল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।  অগ্নিদগ্ধ হয় আরো ৩টি গরু।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো.জহির উদ্দিন, তরুন সংগঠক মনির উদ্দিন মোর্শেদসহ স্থানীয় লোকজন বলেন, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এলাকায় আগুণের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় লোকজন সালাউদ্দিনের গোয়ালঘরে ছুটে গিয়ে আগুণ নিয়ন্ত্রণে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা করে। ততক্ষণে আগুণের তীব্রতা বেশী থাকায় তিনটি গবাদি পশু জ্বলে অঙ্গার হয়ে যায়। যেগুলোর মূল্য দেড় লক্ষ টাকার মতো।

 ক্ষতিগ্রস্থ গরুর মালিক মো. সালাউদ্দিন  বলেন, আমি নিতান্তই গরিব মানুষ। রাতদিন অনেক পরিশ্রম করে গবাদি পশুগুলো কুরবানীর হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে লালন-পালন করে আসছি। কিন্তু কে  বা কারা আমার এতবড় সর্বনাশ করলো তা বুঝতে পারছি না। সালাউদ্দিন আরো বলেন, হয়তো শত্রুতাবশঃত হয়ে কেউ আমার গোয়ালঘরে আগুণ ধরিয়ে দিয়েছে। গোয়ালঘরে বৈদ্যুতিক সংযোগ নাই। পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া ২টি গরুর মধ্যে ১টি গরু কিছুদিন পর বাচ্চা প্রসব করত। ছাগলটি আমি বুধবার স্থানীয় রমজান আলী হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে গেলে একজন ক্রেতা ৩০হাজার টাকা পর্যন্ত বলেছিল, কিন্তু আমি ৪০হাজার টাকার জন্য ছাগলটি বিক্রি করিনি। এখন আমার সব শেষ হয়ে গেছে। অগ্নিকান্ডের তিনটি গবাদি পশু সম্পূর্ণ পুড়ে দগ্ধ হওয়া বাকী ৩টি গরুও বাঁচানো যাবে কিনা বলা যাচ্ছেনা।

 স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মো. সালাউদ্দিন খুবই সাদাসিধে ছেলে। তার সাথে প্রকাশ্যে কারো শত্রুতা নেই। এখন কে বা কারা তার গোয়ালঘরে আগুণ জ্বালিয়ে তার সব শেষ করে দিয়েছে। সে এখন নিঃস্ব প্রায়। গবাদি পশুগুলোকে বাঁচাতে আগুন নেভাতে গিয়ে তার মাথাও ফেটে যায়। পরে হাসপাতালে গিয়ে তাকে চিকিৎসা করানো হয়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা রাউজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএম জসিম উদ্দিন হিরু বলেন,  ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীকে শাস্তির আওতায় আনা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্থ সালাউদ্দিনকে সাহায্য সহযোগীতা করা হবে।