• Tuesday, August 21, 2018
logo
add image

চট্টগ্রামে আওয়ামীলীগের গ্রুপিং পলিটিক্স

চট্টগ্রামে আওয়ামীলীগের গ্রুপিং পলিটিক্স


জুবায়ের সিদ্দিকীঃ চট্টগ্রামের ১৬ টি নির্বাচনি এলাকায় স্থানীয় এমপি’র সঙ্গে তৃনমুল নেতাকর্মীদের রয়েছে অনেক দুরত্ব। দল ক্ষমতায় আসার পর এসব সংসদ সদস্যরা দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে যত ব্যস্ত ছিলেন, ততোটাই দলের নেতাকর্মীদের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও অবজ্ঞা করেছেন।

পুরনো নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে প্রত্যেক এমপি নিজস্ব গ্রুপ তৈরী করেছেন। জামাত-বিএনপিসহ বিভিন্ন দল থেকে আসা হাইব্রীড আওয়ামীলীগারদের কদর বেড়ে যায় এসব এমপিদের কাছে। আত্মীয়করন করা হয়েছে সংগঠন, স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনে। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরের কমিটিতে বসানো হয় আস্থাভাজনদের। উন্নয়ন কর্মকান্ডেও সম্পৃক্ত করা হয় নিজের লোকজনকে।

হাট-বাজার, জল মহাল, বালুর মহাল সর্বত্র স্থানীয় এমপির লোকজনের দোর্দন্ড প্রতাপ। অনেক ক্ষেত্রে আইনের আশ্রয় নিতে পারে না সাধারন মানুষ ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা। এমপির অস্থাভাজন লোকজনের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে স্থানীয় থানা। এসব কারনে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত, দু:সময়ে ভুমিকা রাখা নেতাকর্মীরা। স্থানীয় এমপিদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে দলের সমর্থক, তৃনমূলের নেতাকর্মী ও জনগন। অনেক আসনে দলীয় সাংদের আশ্রয়ে লালিত সন্ত্রাসী ও বখাটেদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন নেতাকর্মীরা।

দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকায় অভ্যন্তরীন দ্বন্ধ ও গ্রুপিং রাজনীতির রোষানলে পড়ে অনেক নেতাকর্মী গেছেন জেলে, হয়েছেন দেশান্তরী। অনেকে ভয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। এরই প্রেক্ষিতে উঠেছে এক আওয়াজ, পরিবর্তন চাই। তাই নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকের দৌড়ঝাঁপ বেড়ে গেছে । বিশেষ করে বিভিন্ন আসনে বর্তমান সংসদ সদস্যদের অনেকের সঙ্গে তৃনমুলের দুরত্বের কারনে দলের নতুন প্রার্থীরা বেশ ভাল অবস্থানে আছেন। তাই সর্বশেষ নির্বাচনপূর্ব তৃনমুল জরিপে কয়েকটি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তুলে ধরা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সন্দ্বীপ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান চৌধুরী মিতার সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মাষ্টার শাহজাহানের। অপরদিকে পৌরসভার মেয়র জাফরুল্লাহ টিটুর রয়েছে একটি গ্রুপ। আওয়ামীলীগের রাজনীতি তিন ধারায় বিভক্ত। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মাহফুজুর রহমান চৌধুরী মিতা, কেন্দ্রীয় বিএমএ নেতা ডা. জামাল উদ্দিন ও মাষ্টার শাহজাহান। এখানে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা।

চট্টগ্রাম সীতাকুন্ড আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলম। তৃনমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বরাবরই তার দুরত্ব রয়েছে। দলের অভ্যন্তরীন গ্রুপিং রাজনীতি ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। নেতাদের অনেকের অভিযোগ, উন্নয়ন ও সংগঠনের জন্য সাংসদের কোন ভুমিকা নেই। উপজেলা চেয়ারম্যান আল মামুনের সঙ্গে সাংসদের দ্বন্ধ দীর্ঘদিনের। ভাল অবস্থানে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল বাকের ভুঁইয়া। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় বেশ উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছেন। তৃনমুলেও তার গ্রহনযোগ্যতা বেশি। এ আসনে আওয়ামীলীগের বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলম. উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল বাকের ভুঁইয়া, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম আল মামুন ও মোস্তফা কামাল মনোয়ন প্রত্যাশী। বিএনপি থেকে একক প্রার্থী আসলাম চৌধুরী।

চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার মীরসরাই। দেশের বৃহত্তম ইকোনমিক জোন এখানে। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও গণপুর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন এ আসনে উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। গত দশম নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় নির্বাচিত হন। এ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনের অনুসারীদের একটি গ্রুপ রয়েছে। তৃনমূলেও রয়েছে গ্রুপিং দ্বন্দ্ব। এবার গিয়াস উদ্দিন ও নিয়াজ মোর্শেদ এলিট মনোনয়ন প্রত্যাশী। বিএনপি থেকে ক্লিফটন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। এ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ছিলেন এটিএম পেয়ারুল ইসলাম। তিনি বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন। মানবতাবিরোধী আপরাধের দায়ে সাকা চৌধুরীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর হলে বেশ নড়েচড়ে বসেন আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। গত নির্বাচনে এ আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয় নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীকে। বিএনপি নির্বাচনে না থাকায় তিনি খুব সহজে জয়লাভ করেন। এবার তৃনমূল আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার দাবী উঠেছে। তৃনমুল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করে বিভিন্ন সেবামুলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের নির্বাহী সদস্য সাদাত আনোয়ার সাদী। এ আসনে আওয়ামী লীগের সামনোনয়ন প্রত্যাশী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, ফখরুল আনোয়ার ও সাদত আনেয়ার সাদী প্রমুখ।

চট্টগ্রাম হাটহাজারী বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। গত দুই নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেয়নি। স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভিযোগ, বর্তমান সংসদ সদস্য এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডে তেমন ভুমিকা রাখেননি। যে কারনে আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এম.এ সালাম ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুছ গনী চৌধুরী। এ আসনে বিএনপি থেকে সাবেক মেয়র মীর মো: নাছির উদ্দিন ও ব্যারিষ্টার শাকিলা ফারজানা মনোনয়ন প্রত্যাশী।

চট্টগ্রাম বোয়ালখালী বর্তমান সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন খান বাদল। তিনি জাসদ একাংশের কার্য করী সভাপতি। গত দুই নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ কোন প্রার্থী দেয়নি। সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সবাই এক সুরে বলছেন,’ তিনি উন্নয়নে তেমন কোন ভুমিকা রাখেননি। যে কারনে বোয়ালখালী পিছিয়ে পড়েছে। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন,’ দলের স্বার্থে গত দুটি নির্বাচনে আসনটি জাসদকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে তাকে বিজয়ী করেছি। কিন্তু জয়ের পর তিনি এলাকার উন্নয়নে আশানুরুপ ভুমিকা রাখেননি। এতে আমাদের দলের ক্ষতি হয়েছে। তৃনমুল থেকে দাবী উঠেছে, এবার যেন আমাদের দল থেকে সেখানে প্রার্থী দেওয়া হয়। আর এ বিষয়টি আমরা কেন্দ্রকে জানিয়েছি। বিএনপি থেকে এম.মোরশেদ খান ও এরশাদ উল্লাহ মনোনয়ন প্রত্যাশী।

চট্টগ্রাম কোতোয়ালী আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। গত ৭ এপ্রিল এ আসনের জন্য আগাম ভোট চেয়ে গেছেন দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এলাকার উন্নয়নে সংসদ সদস্যের তেমন কোন ভুমিকা না থাকায় সবাই চান প্রার্থী পরিবর্তন। গত নির্বাচনে এ আসন জাতিয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামীলীগ। দলের তৃনমুল নেতাকর্মীদের দাবী শহরের গুরুত্বপুর্ন এ আসনে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হোক। অন্যথায় দলের তৃনমুলের শক্ত ভীত নষ্ট হয়ে যাবে। এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও জসিম উদ্দিন মনোনয়ন প্রত্যাশী। বিএনপি থেকে একক প্রার্থী শামসুল আলম ও নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন মনোনয়ন প্রত্যাশী।

চট্টগ্রাম ডবলমুরিং আসনে নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সংসদ সদস্য ডা. আফসারুল আমীনের বিরুদ্ধে দলীয় সভা-সমাবেশে উপস্থিত না থাকা ও উন্নয়নে ভুমিকা না রাখার অভিযোগ নেতাকর্মীদের। আসনের অনেক এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত জলাবদ্ধতা, মাদকের আগ্রাসন ও অভ্যন্তরীন সড়কের বেহাল অবস্থায় মানুষ ক্ষুদ্ধ। এখানেও পরিবর্তন চান তৃনমুলের নেতাকর্মীরা। এ আসনে এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী ডা. আফছারুল আমীন, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা সৈয়দ মাহমুদুল হক, নগর যুবলীগের আহবায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, নগর যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক ফরিদ মাহমুদ ও সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ নজরুল ইসলাম মনোনয়ন প্রত্যাশী। এদের মধ্যে ফরিদ মাহমুদ ও জাবেদ নজরুল সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার ও বিভিন্ন সেবামুলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান করে নিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর-পতেঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য এম.এ লতিফের বিরুদ্ধে তৃনমুল নেতাকর্মী ও নগর আওয়ামী লীগের নেতাদের অভিযোগের শেষ নেই। এ আসনের অধিকাংশ এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে নিমর্জ্জিত হলেও এ ব্যাপারে তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। অভ্যন্তরীন সড়ক গুলোর অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। তৃনমুলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এমপির কোন সম্পর্ক নেই। বিভিন্ন কর্মকান্ডে তিনি বিতর্কিত হয়েছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ও একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর নজুরুল ইসলাম বাহাদুর। বিএনপি থেকে একক প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী পর-পর দুইবার নির্বাচিত হলেও তার সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুরত্ব রয়েই গেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাক ও পৌর মেয়র হারুনুর রশিদের সঙ্গে দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এর আগের কমিটির সঙ্গেও সাংসদের দুরত্ব ছিল দীর্ঘদিন। জানা যায়, বিগত ইউপি নির্বাচনে স্থানীয় বড়লিয়া ও শোভনদন্ডি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। দলের অভ্যন্তরে রয়েছে দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং রাজনীতি। এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাছির উদ্দিন। বিএনপি থেকে সাবেক সংসদ সদস্য গাজী শাহজাহান জুয়েল।

চট্টগ্রাম চন্দনাইশ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য নুজরুল ইসলাম চৌধুরী। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় তিনি সহজে বিজয়ী হন। এ আসনে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে। তৃনমুল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলে জামায়াত-বিএনপির লোকজন ঢুকে পড়েছে। তাদেরই কদর বেড়েছে। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দিন আহমদ ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমান।

চট্টগ্রাম সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব গ্রুপিং সৃষ্টি হয়ে গেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রচার চালিয়ে আবু রেজা নদভীকে এমপি নির্বাচিত করেছিলাম। বিজয়ী হওয়ার পর থেকে তিনি দলের মুল ধারার নেতাকর্মীদের সঙ্গে দুরত্ব রেখে চলেছেন। একই অভিযোগ লোহাগাড়ার আওয়ামী লীগ নেতাদের। অভিযোগ আছে,’ উন্নয়ন কর্মকান্ড ও দলের কর্মসুচীর চেয়ে নিজের ফয়জুল্লাহ ফাউন্ডেশন নিয়ে বেশি ব্যস্ত। দলের কোন্দল ও গ্রুপিং এর কারনে অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান। বিএনপি থেকে শেখ মো: মহিউদ্দিন।

চট্টগ্রাম বাঁশখালী আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আছেন আব্দুল্লাহ কবির লিটন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের অর্থ সম্পাদক মুজিবুর রহমান সিআইপি। আগামী নির্বাচনে জাতিয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সিটি মেয়র মাহামুদুল ইসলাম চৌধুরী নির্বাচন করতে আগ্রহী। এ আসনে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব-গ্রুপিং দীর্ঘদিনের। অপরদিকে হেফাজতে ইসলামের নেতা মুফতি ইজহারুল ইসলামও এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন। শেষ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ তার শরিকদল জাতিয় পার্টিকে ছেড়ে দিতে পারে এ গুঞ্জন জোরে শোরে প্রচার করছেন জাপা।তবে তৃণমূলের সমর্থন রয়েছে বর্তমান এমপির দিকে।

এদিকে মনোনয়ন বঞ্চিত হবার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে একাধিক সংসদ সদস্যের কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ বেড়ে গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং এলাকার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্টানে অংশগ্রহন এই নিয়ে ব্যস্ত তারা। জেলা ও কেন্দ্রীয়নেতাদের বাসাবাড়িতেও যাচ্ছেন। এলাকার রাজনীতিতে দুর্বল ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হওয়া এসব সংসদ সদস্যদের অনেকেই মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন।