• Tuesday, August 21, 2018
logo
add image

চট্টগ্রামে রাইফা মার্ডার : আসামীরা গ্রেফতার হয়নি

চট্টগ্রামে রাইফা মার্ডার : আসামীরা গ্রেফতার হয়নি


গোলাম শরীফ টিটু : চট্টগ্রামে চিকিৎসায় অবহেলার বলি হওয়া সাংবাদিক কন্যা রাফিদা খান রাইফা মৃত্যুর এক মাস পার হয়েছে গত সপ্তাহে। সারাদেশে তোলপাড় হওয়া এ ঘটনায় তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দন্ডবিধি আইনের সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলাও দায়ের হয়েছে নগরীর চকবাজার থানায়। ২ বছর ৪ মাসের শিশু রাইফার পিতা মোহাম্মদ রুবেল খানের দায়ের করা মামলার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও আসামীদের গ্রেফতার করা হয়নি। এ বিষয়ে রাইফার পিতা মোহাম্মদ রুবেল খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,’ মামলা করলাম এতদিন হয়ে গেল। আসামীরা নিজেদের কাজকর্ম করে যাচ্ছেন।

কিন্তু গ্রেফতার হচ্ছেন না। কেন হচ্ছেন না তা একমাত্র পুলিশই বলতে পারবে’। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান জানান,’ মামলা দায়ের হওয়ার পর আমরা তদন্ত অব্যাহত রেখেছি। আসামিদেরকেও খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না’। প্রসঙ্গত: থানায় রাইফার বাবার দাখিল করা মামলাটি গত ১৯ জুলাই দাখিলের ২ দিনের মাথায় রেকর্ড করে চকবাজার থানা।

১৭ জুলাই মামলার এজাহার থানায় জমা দিয়েছিলেন মামলার বাদী ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। মামলার এজাহারের আসামীরা হচ্ছেন, শিশু বিশেষজ্ঞ বিধান রায় চৌধুরী, ম্যাক্স হাসপাতালের চিকিৎসক দেবাশীষ সেনগুপ্ত, শুভ্র দেব এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী। এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দন্ডবিধির ৩০৪ এর খ (অবহেলার কারনে মৃত্যু), ২০১ (আলামত নষ্ট করা), ১০৯ (অপরাধে উৎসাহ দেওয়া) ও ৩৪ (পরস্পর যোগসাজশে অপরাধ সংঘটন) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

জানা গেছে, আড়াই বছর বয়সী মেয়ে রাইফা গলায় ব্যথা নিয়ে গত ২৮ জুন বিকালে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ২৯ জুন দিনগত রাত সাড়ে ১২টায় তার মৃত্যু হয়। ভুল চিকিৎসায় রাইফার মৃত্যুর অভিযোগ তুলে সাংবাদিকরা বিক্ষোভ করলে পুলিশ হাসপাতালে তখন কর্তব্যরত এক চিকিৎসক ও এক নার্সকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। পরে উভয়পক্ষ একটি চুক্তির মাধ্যমে হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা থানা থেকে বেরিয়ে আসেন।

এদিকে মামলা রেকর্ডের ২ দিন পর চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) আইনী সহায়তা কমিটির (মামলা পরবর্তী সহায়তার জন্য গঠিত) সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্টানে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় যে কোন আইনী পদক্ষেপে তার পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। মতনিবিনয় সভায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন,’আইনজীবির ভুল হলে তা সংশোধন করার সুযোগ আছে। উচ্চ আদালতে আপীল করা যায়। রিভিশন হয়।

কিন্তু একজন ডাক্তারের ভুল হলে একজন রোগীকে সরাসরি কবরস্থান বা শ্মশানে চলে যেতে হয়। চিকিৎসা পেশায় অসংখ্য ভাল, মেধাবী ও মানবতাবোধ সম্পন্ন ডাক্তার রয়েছেন। দু’চার জনের অপকর্মের দায় মহান এ পেশার সকলে কেন বহন করবেন? আইনজীবিরা সবসময় মানবতার পক্ষে। জানা গেছে, শিশু কন্যা রাইফার মৃত্যুর পর চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি রাইফার মৃত্যুর জন্য চিকিৎসকদের অদক্ষতা, দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করেন।

কমিটি বেসরকারী হাসপাতাল ম্যাক্সের বিরুদ্ধেও চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ তুলেন। একই ভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাটি তদন্ত করে ম্যাক্স হাসপাতালের বিরুদ্ধে ১১টি অনিয়ম চিহ্নিত করেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ইতিমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা হলেও তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দায়ী প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত তিন দফা দাবী বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনের কর্মসুচী পালন করেন সাংবাদিক-জনতা। মামলা রেকর্ড করার একটি দাবী প্রতিষ্টিত হলেও বাকী দুই দাবী অনুমোদনহীন ম্যাক্স হাসপাতাল বন্ধ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণকারী ডা. ফয়সল ইকবালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে বলে জানা গেছে।