• Wednesday, September 19, 2018
logo
add image

চন্দনাইশ বিএনপিতে নেতৃত্ব সংকট ?

চন্দনাইশ বিএনপিতে নেতৃত্ব সংকট ?


মো. দেলোয়ার হোসেন,চন্দনাইশ : মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কর্নেল অলি পৃথকভাবে এলডিপি গঠন করায় চন্দনাইশ বিএনপিতে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছিল। প্রাণহীন হয়ে পড়েছে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্বের হাতে দলের দায়িত্ব তুলে দেয়ার দাবী জানান।

২০০৬ সালের ৬ অক্টোবর কর্নেল অলি বিএনপি থেকে বেরিয়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন। ফলে চন্দনাইশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনে নেতৃত্ব সংকট দেখা দেয়। পরবর্তীতে দক্ষিণ জেলা বিএনপি ২০০৭ সালে আহবায়ক কমিটি। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে চাঙ্গাভাব ফিরে আনে।

পরবর্তীতে আবু তাহের চৌধুরীকে সভাপতি, এম এ হাশেম রাজুকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত আরেকটি কমিটি প্রকাশ পায়। একই সাথে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি প্রফেসর ডা. মহসিন জিল্লুর করিম নতুনভাবে বিএনপিতে যোগদান করে তার অনুসারীদের নিয়ে আরেকটি ধারা মাঠে-ময়দানে কাজ করে যায়। ফলে চন্দনাইশ বিএনপি ত্রি-ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে।

সে রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিএনপি চাঙ্গাভাব পরিলক্ষিত হলেও মাঝপথে বিরোধী দলের আন্দোলনে সরকারি দলের দমন-নিপীড়ন ও মামলার ভয়ে পিছিয়ে যায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। কোন্দলে জর্জরিত হয়ে পড়ে চন্দনাইশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন। বিষয়টি অনুধাবন করে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ জেলার সবকটি উপজেলা ও পৌরসভা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। ফলে সাধারণ কর্মী-সমর্থকেরা হতাশায় রয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা দলের ভবিষ্যত রাজনীতি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।

বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, চন্দনাইশ বিএনপিকে সাংগঠনিক ও জনপ্রিয় করতে নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল তৎকালীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য কর্নেল অলি। উন্নয়ন কর্মকান্ডের পাশাপাশি তিনি দলকে সুসংগঠিত করেছিলেন। ২০০১ সালের চার দলীয় জোট সরকারের শাসন আমলে কর্নেল অলি মন্ত্রীত্ব না পাওয়ায় রাজনীতিতে কিছুটা পিছুটান পড়েছিল। সে ক্ষোভ থেকে কর্নেল অলি ২০০৬ সালের ৬ অক্টোবর নিজেই এলডিপি প্রতিষ্ঠা করেন। এতে চন্দনাইশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতিতে ভাটা পড়ে।

বিগত সময়ে সরকার পতন আন্দোলনে বিএনপি সফল হতে না পারায় নেতা-কর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্যতা হারিয়ে যায়। ঘুরে দাড়াতে পারেনি পরিকল্পনা অনুযায়ী বিএনপি। এখন মূল টার্গেট দলকে নতুন নেতৃত্বে নবআঙ্গিকে ঢেলে সাজিয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে গঠন করতে। এক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের ইয়াং এনারজেটিক নেতৃত্বের আসা করছেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। তবে তারা এখন নজর দিচ্ছেন সাংগঠনিক স্থবিরতার অচলায়তন ভাঙ্গার দিকে।

বিগত আন্দোলনে হতাশাজনক পারফরমেন্স করা নেতাদের সাইট লাইনে রেখে দলের ভেতর থেকে বিশ্বস্ত, ত্যাগী, লড়াকু নেতাদের সামনের দিকে তুলে আনতে চায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এ ব্যাপারে তারা দলীয় হাইকমান্ডের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। যারা নিরবিচ্ছিন্ন আন্দোলনে সরাসরি মাঠে থাকেন, পৌরসভা নির্বাচনের পর দল পুনর্গঠনে কেন্দ্রীয় যে নির্দেশনা রয়েছে তাকে কাজে লাগিয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। চন্দনাইশ বিএনপি সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সম্মেলন না হওয়ার কারণে যোগ্য নেতাদের স্থান হয়নি পদ-পদবীতে।

বদলে গেছে চন্দনাইশ বিএনপি ও অফিসের চিরচেনা দৃশ্যপট। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যেত। মুখরিত ছিল নেতা-কর্মীদের পদচারনায় চন্দনাইশ বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়। কিন্তু সে চিরচেনা দৃশ্যটি এখন আর চোখে পড়ে না।

উপজেলা বিএনপি ত্রি-ধারায় বিভক্ত হওয়ার কারণে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়টি নেতা-কর্মীশূন্য অনেকটা নিষ্প্রাণ হয়ে যায়। যান না অধিকাংশ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। সারা বাংলাদেশে সরকার পতনের আন্দোলন-সংগ্রাম থাকলেও চন্দনাইশে সে রকম কোন কর্মসূচি দৃশ্যমান ছিল না। মাঠে ছিল না বিএনপি’র নেতৃবৃন্দরা। মামলা ও গ্রেফতার এড়াতে অনেকে বিএনপি কার্যালয়ের আশে পাশেও যায়নি। ২০ দলীয় জোটে কর্নেল অলির নেতৃত্বাধীন এলডিপি সংযুক্ত হওয়ার পর থেকে যৌথভাবে কোন কর্মসূচিতে অংশ নেয়নি এলডিপির সাথে বিএনপি। শুধু তাই নয় বিএনপির কোন সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দলকে শৃঙ্খলায় রাখতে কোন রকম পদক্ষেপ পর্যন্ত গ্রহণ করেন নি। তারা মেনে নেয়নি এলডিপির অংশগ্রহণ।