নানামুখি সংকটে শ্রীলংকা

0

সিটি নিউজ ডেস্ক :  একই সময়ে দুই রাজনীতিক আইনগত প্রধানমন্ত্রী দাবি করায় সাংবিধানিক সংকটে পড়েছে শ্রীলংকা। নানামুখি সংকটে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইত্রিপালা সিরিসেনা জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহকে বরখাস্ত করে ওই পদে বসিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মাহিন্দা রাজপাকসেকে।

রনিল বিক্রমেসিংকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি সিরিসেনা নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সংসদ স্থগিত করেছেন। জরুরি ভোটের মাধ্যমে তার সিদ্ধান্তকে কেউ যেন চ্যালেঞ্জ করতে না পারেন, সেজন্য তিনি সংসদ স্থগিত করেছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

শ্রীলংকার আইন অনুসারে, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো প্রধানমন্ত্রী ২২৫ আমনবিশিষ্ট সংসদের আত্মবিশ্বাস না হারান, ততক্ষণ প্রেসিডেন্ট তাকে বরখাস্ত করতে পারে না।

কিন্তু বাস্তবতা হলো এর আগে জরুরি ভোটে বিক্রমাসিংহের ইউনাইটেড পার্টি সংসদের বেশিরভাগ আসন লাভ করেছেন। সেরকমটি আবার হওয়ার আগেই সিরিসেনা এবার বেশ সতর্ক।

শুক্রবার রাত ৭টার দিকে দেশবাসী এই খবর জানতে পারেন। তখন হঠাৎ করেই টেলিভিশনের সব অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে রাজাপাকসের শপথ অনুষ্ঠান সরাসরি প্রচার করা হয়। রাজধানী কলম্বোতে তার সমর্থকরা উল্লাস করতে থাকে।

ওই সময় বরখাস্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।

রাজাপাকসেকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি আপনাকে শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী সম্বোধন করছি, তবে আমি এখনো প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবো।

বিক্রমাসিংহ গতকাল পর্যন্তও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন টেম্পল ট্রিতে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু সিরিসেনা তার নিয়োগ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

শুক্রবার রাতেই রাজাপাকসের সমর্থকরা রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র ও টেলিভিশন দখল নিয়েছে। প্রধান প্রধান ভবনে ইতোমধ্যে শ্রীলংকার পুলিশের আধা সামারিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজাপাকসের ছেলে নামাল রাজাপাকসেও একজন সংসদ সদস্য। তার বাবা সংসদের সংখ্যাগরিষ্ট সদস্যের সমর্থন পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেনি। বলেন, আমাদের মাত্র সপ্তাহ দুয়েক সময় লাগবে জানতে যে কীভাবে এই সরকার কাজ করতে যাচ্ছে।

তবে শ্রীলংকার এই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের অ্যালান কিনান বলেন, দেশটি এখন গভীর সংকটে আছে। দীর্ঘদিন যুদ্ধের পরও দেশটির ক্ষমতা হস্তান্তরে কখনো আইনি প্রশ্ন দেখা দেয়নি। আগামী তিন সপ্তাহে দুই পক্ষ সমর্থনের জন্য যে যুদ্ধ করবে এখন শুধু তা দেখার অপেক্ষা।

এ যুদ্ধ হবে মূলত সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ পক্ষে আনার। ধারণা করা হচ্ছে, রাজাপাকসে তার প্রতিপক্ষ বিক্রমাসিংহের দলের সংসদ সদস্যদের ভাগিয়ে অানবেন। সেই প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন তিনি। তবে কাজটা খুব যে, সহজ হবে তাও না।

এ অবস্থায় যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত তাদের নাগরিকদের শ্রীলংকার রাজনৈতিক সমাবেশ এড়িয়ে চলতে বলেছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সহিংসতা এড়াতে এবং সংবিধান সমুন্নত রাখতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

পশ্চিমা কূটনীতিকরা আশা প্রকাশ করছেন, তার আগমন যে নতুন বাস্তবতা, তা সেটা প্রমাণ করতে রাজাপাকসে দ্রুতই মন্ত্রিসভা গঠন করবেন।

এ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Leave A Reply

Your email address will not be published.