• Friday, May 25, 2018
logo
add image

পটিয়ায় মসজিদ-এ তৈয়্যবিয়ার পুকুরে বিষ

পটিয়ায় মসজিদ-এ তৈয়্যবিয়ার পুকুরে বিষ


সুজিত দত্ত, পটিয়া প্রতিনিধি : পটিয়ার মনসায় মসজিদ-এ তৈয়্যবিয়ার পুকুরে দুস্কৃতিকারীরা রাতের আধারে বিষ ঢেলে দিলে প্রায় দুই লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠে। এমনকি এ পুকুরে মুসল্লিরা বিষের কারণে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার সময় অযু করতে না পারায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে এ গর্হিত কাজে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।
জানা যায়, পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মনসা গ্রামের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ ইব্রাহিম বাচ্চু’র বাড়ি সংলগ্ন মসজিদ-এ তৈয়্যবিয়ার পুকুরে দুস্কৃতিকারীরা গত রবিবার (১৪ জানুয়ারী) দিবাগত রাতে বিষ ঢেলে দেয়। সকালে স্থানীয় পুকুরে মাছ ভাসতে দেখে নিশ্চিত হন এ পুকুরে বিষ দেওয়া হয়েছে।

মসজিদের মুসল্লি হাজী এমএ হাশেম চৌধুরী বলেন, মসজিদের পুকুরে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য মুসল্লিরা অযু করে থাকেন। বর্তমানে পুকুরে বিষ ঢেলে দেওয়ায় আমরা অযু করতে পারছিনা। আরেক মুসল্লি জামাল উদ্দিন বলেন, আমার মনে হয় প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে কেউ এ কাজ টি করেছে। কেননা গত ৬ মাস আগেও এ পুকরে বিষ ঢেলে প্রায় ৩ লাখ টাকার মাছ নিধন করা হয়।

মসজিদ কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বলেন, বার বার এ পুকুরে বিষ ঢেলে দুস্কৃতিকারীরা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্ঠা চালাচ্ছে। রাতের আধারে যে বা যারাই এ কাজ করেছে তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা পুকুরটি ইজারাদারের কাছে লাগিয়ত করলেও এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য মুসল্লিরা অযু করে থাকেন। বর্তমানে বিষের কারণে তারা অযু করতে পারছে না। ইজারাদার মো: দস্তগীর বলেন, পাঁচ মাসের মধ্যে দুই বার বিষ দেওয়ায় আমার প্রায় ৬/৭ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। আমি এব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
কুমুমপুরা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ  মুহাম্মদ ইব্রাহিম বাচ্চু বলেন, পাঁচ মাসের মাথায় মসজিদের পুকুরে যারা বিষ ঢেলে দিয়েছে তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য আমি পটিয়া থানা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এব্যাপারে থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।

খবর পেয়ে গতকাল এ পুকুর পরিদর্শন করেন পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম সামশুজ্জামান চৌধুরী। তিনি এ ঘটনার জন্য তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে মুসল্লিদেরকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, যে বা যারাই এ ঘটনার সাথে জড়িত হোক না কেন প্রশাসন অবশ্যই খুঁজে বের করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনবে। তিনি সকলকে যে কোন ধরণের নাশকতামূলক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার আহবান জানান।