• Wednesday, September 19, 2018
logo
add image

রাজনীতির সুবিধাবাদীরাও মনোনয়ন প্রত্যাশী

রাজনীতির সুবিধাবাদীরাও মনোনয়ন প্রত্যাশী


জুবায়ের সিদ্দিকী/দিলীপ তালুকদারঃ সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর মাত্র চার মাস বাকী। হাতে সময় খুব বেশী নেই। একারনে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থী এবং নেতারা এখন রাজনীতি করছেন নির্বাচনমুখী। নির্বাচনের আগে শেষ ঈদ সামনে রেখে তারা হয়েছিলেন গ্রামমুখী।

ঈদ শেষ হলেও রাজনীতির রেশ এখনো কাটেনি। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে গণসংযোগ, মতবিনিময়, উঠোন বৈঠক, মেজবান ও পোস্টার ব্যানারে এলাকাবাসীর মন জয় করার তৎপরতা চালাচ্ছেন। অনেকে আবার বিশাল শো’ডাউনের মাধ্যমে নিজ নিজ দলের হাই কমান্ড ও জনগনের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

ঈদ পরবর্তী নির্বাচনী তৎপরতায় আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরাই বেশী সক্রিয়। ক্ষমতাসীন হওয়ার সুবাদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এক্ষেত্রে অনেক বেশী তৎপরতা চালাচ্ছেন। বিএনপি নেতাদের তৎপরতাও থেমে নেই। ঈদ উপলক্ষ্যে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান বিশাল মেজবানের মাধ্যমে শো’ডাউন করেছেন। আরেক নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গ্রেফতারী পরোয়ানা মাথায় নিয়ে রাজনীতির মাঠ থেকে হাওয়া হয়ে গিয়েছে।

রাজনীতির মাঠে সরকার বিরোধী প্রধানদল বিএনপি সরকারীদলের মামলা হামলায় বিপর্যস্থ হয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে অনেকটা নিরবে। উচ্চ আদালতের রায়ে নিবন্ধন হারানো জামাতে ইসলামের সম্ভাব্য প্রার্থীরা রয়েছেন গোপনে সক্রিয়।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে আওয়ামীলীগ বিএনপি জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী এলাকায় অবস্থান করছেন। প্রার্থীদের এমন সরব উপস্থিতি উপভোগও করছেন ভোটাররা। ভোটারদের কেউ কেউ শো’ডাউনে অংশ নিয়ে গায়ে লাগাচ্ছেন নির্বাচনী হাওয়া।

এবারের ঈদে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী রাউজানে নিজ এলাকায় আয়োজন করেছিলেন ঐতিহ্যবাহী মেজবান। রাউজান থেকে তিনি নির্বাচন করতে চান। ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল মেজবানের আয়োজন করেছিলেন চশমা হিলের বাসভবনে। তিনি নির্বাচন করতে চান নগরীর কোতোয়ালী আসন থেকে।

চট্টগ্রাম নগর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান তার বাসভবনে করেছেন ঈদ পুনর্মীলনী অনুষ্ঠান। তিনি নগরীর চান্দগাঁও বোয়ালখালী আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। চট্টগ্রাম ১০ (ডবল মুরিং-পাহাড়তলী) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী নগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফরিদ মাহমুদ নগরীর লাভ লেইনস্থ বাসায় মেজবানের আয়োজন করেছিলেন।

ফটিকছড়িতে সাদাত আনোয়ার সাদী নানুপুরে তার বাড়ীতে মেজবান ও ঈদ পুনর্মীলনী অনুষ্ঠান করেছেন। বিভিন্ন এলকায় স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান সংসদ সদস্য ও পুরনো প্রার্থীদের চেয়ে নতুন প্রার্থীদের তৎপরতাই বেশী।লিফলেট ও পোষ্টার সাঁটানো এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ে এগিয়ে আছেন তারা।

অতীতে যাদের বছরে একবারও এলকায় দেখা যেত না নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা এলাকায় অবস্থান করছেন দিনের পর দিন। আবার কেউ কেউ শহরথেকে সকালে গাড়ীর বহর নিয়ে এলাকায় যান আবার বিকেলে শহরে ফিরে যান। বিগতদিন গুলোতে যাদের ছায়া দেখেননি এলকাবাসী এবং যাদেরকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি তারা এখন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

দরিদ্রদের মধ্যে কোরবানীর মাংস, শাড়ী, লুঙ্গি ও নগত অর্থ বিতরণ করেছেন কোন কোন এলাকায়। চট্টগ্রাম নগরের বিধ্বস্ত এলাকা দুর্ভোগের সাক্ষী হয়ে বসবাস করছেন হালিশহর আগ্রাবাদবাসী এসব মৌসুমী নেতাদের দেখা পাননি। দুর্গত মানুষের পাশে তারা দাঁড়ায়নি। জোয়ারের পানি ও জলাবদ্ধতায় যাদের জীবন জীবিকা এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় দিন অতিবাহিত হচ্ছে তাদের পাশে বর্তমান এমপি ও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দাঁড়াননি। তবে তাদের রঙ্গিন পোষ্টারগুলো এ দুর্ভাগা বাসিন্দাদের দেওয়ালে সাঁটানো হয়েছে।

এ যেন কাঁটা গায়ে নুনের ছিটা। নগরীর বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২নংগেইট, পতেঙ্গা, হালিশহর ও আগ্রাবাদ এলাকায় হাজার হাজার মানুষের জীবন যাত্রা থমকে আছে। এসব সমস্যা সমাধানের কোন আবাস না দিয়ে মনোনয়নের জন্য এরা যাচ্ছেন এমপি মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে। চট্টগ্রামে বন্দর পতেঙ্গা হালিশহর আগ্রাবাদ বিস্তীর্ণ জনপদের হাজার হাজার মানুষের দুর্গতি ও দুর্ভোগকে যেসব নেতা প্রাধান্য না দিয়ে মনোনয়ন নিয়েই ব্যস্ত তাদের ঘৃণাভরে এলাকাবাসী প্রত্যাখান করবে ভোটের সময়। উন্নয়নের ঢাক-ঢোল পিটানো হলেও চট্টগ্রাম নগরী অবহেলিত।

জনগনের মৌলিক চাহিদা পূরণ না করে ক্ষমতাসীন দলের কিছু কিছু নেতা নিজেদের ভাগ্য গড়ার কাজে ব্যস্ত। এরাই সরকারের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাড়াবে। সরকারের ভাবমুর্তি বিনষ্ট ও দলের ক্ষতি সাধন করে কিছু মুখ চেনা নেতা পাতি নেতা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি সন্ত্রাসের মাধ্যমে টাকার পাহাড়ের উপর বসে এমপি হওয়ার খায়েশ দেখছেন। হালিশহর আগ্রাবাদ বন্দর পতেঙ্গা এলাকার স্থানীয় মানুষ জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারলে এসব ধান্ধাবাজদের সমুচিত জবাব দেয়া হবে ভোটের মাধ্যমে।