নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ৬ আওয়ামী লীগ নেতার দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হয়েছে। তারা হলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন (চট্টগ্রাম-১), এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৬), ড. হাছান মাহমুদ (চট্টগ্রাম-৭), ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (চট্টগ্রাম-৯), সামশুল হক চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১২), সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (চট্টগ্রাম-১৩), আলী রেজা নেজামুদ্দিন নদভী (চট্টগাম-১৫) আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ( চট্টগ্রাম-১৬)।
নওফেল অনেকটা চমকে দিয়েই চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন। বৈঠকের পর বৈঠক শেষে দলের হাইকমান্ড শেষপর্যন্ত ওই আসনের বর্তমান সাংসদ জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে সরিয়ে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র নওফেলকে মনোনয়ন দেয়। ইতিমধ্যে নওফেলের মনোনয়ন চিঠিও ইস্যু করা হয়েছে।
জানা যায়, প্রাথমিকভাবে জাপার চাহিদামতে গতবারের ধারাবাহিকতায় কোতোয়ালীর বর্তমান এমপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে এবারো আসনটি ছাড়ার সিন্ধান্ত হয়। কিন্তু বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসার কারণে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেননা, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এ আসনে নির্বাচন করার কথা রয়েছে বাকলিয়ার বাসিন্দা মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের। তার সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে জেতার মত সাংগঠনিক সামর্থ নেই জাপা নেতা বাবলুর। এছাড়া বিএনপির ডা. শাহাদাতের সঙ্গে নির্বাচনে জয়ী হতে হলে নওফেলের মত ক্লিন ইমেজের প্রার্থীর পাশাপাশি সাংগঠনিক শক্তির বিকল্প দেখছে না দল।
আওয়ামী লীগের মনোয়ন ফরম বিক্রির একেবারে শেষ দিকে এসে ফরম সংগ্রহ করেছিলেন ব্যারিস্টার নওফেল। আর জমাদানের সময় সাংবাদিকদের তিনি জানান, দেরিতে হলেও দলের সিনিয়র নেতাদের পরামর্শে মনোয়ন ফরম নিয়ে জমা দিয়েছেন। কোতোয়ালী আসনে এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে যে কেউ নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছিলেন। নিজের নাম উল্লেখ না করলেও নওফেল বলেছিলেন, এবার এই আসন থেকে নৌকার প্রার্থীই থাকবে, সে যেই হোক। তবে শেষ পর্যন্ত জয় নওফেলেরই হল।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র, চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ২০১৬ সালের অক্টোবরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের উপরই চট্টগ্রাম-১ আসনে ভরসা রাখছে দল। এবারও তিনি ওই আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদও নিজের আসনে (চট্টগ্রাম-৭) আবারো মনোনয়ন পেয়েছেন। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরী ২০০৮ সাল থেকে টানা ২ বার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাই এবারও তার উপর ভরসা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার। নিজের আসন (চট্টগ্রাম-১৩) থেকে এবারও নৌকার প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালীতে ২য় বারের মতো মনোনয়ন পেলেন আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত সূত্রে মনোনয়নের খবরটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এরা সবাই যে যার জায়গায় যোগ্য,আশা করি সবাই সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে জয় হয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে দেশ কে এগিয়ে নিবেন।