জুবায়ের সিদ্দিকী : গত দুই মাস আগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাধীন সকল কমিটি বিলুপ্ত কওে দল পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এ কমিটিতে গ্রুপিং এর কারনে তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। দুই বছর আগে ১১জন বিশিষ্ট চট্টগ্রাম মহনাগর কমিটি পুর্নগঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তা এখনো কেন্দ্রেই আটকে আছে। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি এখন অনেকটা অস্থীত্বহীন। এ কমিটির আহবায়ক বর্তমান বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব আসলাম চেšধুরী মোসাদ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে এখন জেলে। সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল হাসান দলীয় কার্যক্রমের সাথে নেই বললেই চলে। সবমিলে চট্টগ্রামের বিএনপির তিন জেলার কার্যক্রম নেই বললেই চলে। জানা যায়, দুই মাস আগে বিএনপির সাবেক চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার উদ্যোগ নিয়েছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর ব্যাপারে। কিন্তু তা ফলপ্রসু হয়নি। তিনি বিএনপি কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে চট্টগ্রাম দক্ষিনের সকল মেয়াদ উত্তীর্ন আওতাধীন কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া উত্তরেরও মেয়াদ উত্তীর্ন কমিটি বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তা ভেস্তে যায়। এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করার পরও কোন গতি আনতে পারেনি চট্টগ্রাম উত্তর দক্ষিণ মহানগর বিএনপির। কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আগে এ তিন কমিটি ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে কাউন্সিলের পর আর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ওই সময় যাদের দায়িত্ব বন্ঠন করে দেয়া হয়েছিল তারাও নিস্ক্রিয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি থেকে গিয়াস কাদের চৌধুরীকে অপসারন করে দায়িত্ব দেয়া হয় দলের যুগ্ন মহাসচিব ও মোসাদ কেলেঙ্কারীতে আটক আসলাম চৌধুরীকে। এ সময় সদস্য সচিব করা হয় আবদুল্লাহ আল হাসানকে। আহবায়ক ও সচিব গঠিত এ ক্ষুদ্র কমিটি গত এক বছর ধরে দলের কার্যক্রমে গতি আনতে কোন উদ্যোগ নিতে পারেনি। এমনকি কোন সম্মেলনের আয়োজন করতে পারেনি। বছরে কয়েকটি দলীয় অনুষ্টান ছাড়া তাদের কোন কার্যক্রম নেই। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কার্যক্রম নিয়ে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ভিপি নাজিম উদ্দিন বলেন, নানা অদৃশ্য কারনে বার বার উত্তর জেলা বিএনপির ঘুরে দাড়ানো ব্যর্থ হয়। একটি পক্ষ কেন্দ্রে ভুল বুঝিয়ে উত্তর বিএনপির পুনাঙ্গ কমিটি করার প্রচেষ্টা বার বার ব্যর্থ করে দেয়। এতে করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলায় দলের বিপর্যয় নেমে এসেছে। তাই কারো কান কথা না শুনে ত্যাগীদের নিয়ে উত্তর জেলা বিএনপির কার্যক্রম আরও বেগবান করা দরকার। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি সম্পর্কে জানা যায়, গত দুই মাস আগে বিএনপির সাবেক চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকারের বাসায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে দক্ষিণ জেলা বিএনপির মেয়াদ উত্তীর্ণ সকল আওতাধীন কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিলুপ্তির সিদ্ধান্তের পর কমিটি নতুন করে পুনগঠনের এলাকাভিত্তিক দায়িত্বও বন্টন করে দেয়া হয়। এ জেলা কমিটির আওতাধীন বোয়ালখালী নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব দেয়া হয় দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আহমেদ খলিল খানকে। এ উপজেলায় তিনি এখনো কোন উদ্যোগ গ্রহন করতে পারেনি। বাঁশখালী নির্বাচনি এলাকার দায়িত্ব দেয়া হয় দক্ষিণ জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে। তিনি দলের সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও বাঁশখালীর বিএনপি অনেকটা মৃত প্রায়। আনোয়ারা নির্বাচনি এলাকার দায়িত্ব দেয়া হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য সরোয়ার জামাল নিজামকে। তিনি ঢাকাতে থাকায় এলাকায় কোন সময় দেন না বলে নেতাকর্মীদের অভিযোগ। পটিয়া নির্বাচনি এলাকায় দায়িত্ব দেয়া হয় দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য গাজী শাহজাহান জুয়েলের নেতৃত্বে অপর নির্বাহী সদস্য সৈয়দ সাদাত আহমদকে। এ দুই নেতা কমিটি বিলুপ্ত করা ছাড়াও আর কোন উদ্যোগ নিতে পারেনি। অন্যদিকে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া নির্বাচনি এলাকায় দায়িত্ব ছাড়াও আর কোন উদ্যোগ নিতে পারেনি। অন্যদিকে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া নির্বাচনি এলাকায় দায়িত্ব দেয়া হয় দক্ষিণ জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য গাজী শাহজাহান জুয়েল ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকে। এ দুই এলাকায় তিন নেতা মিলে গত একমাসে একটি সভাও করতে পারেনি বলে দলীয় নেতকর্মীদের অভিযোগ। চন্দনাইশ নির্বাচনি এলাকার দায়িত্ব দেয়া হয় দক্ষিন জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েলকে। এখানে এলডিপির আধিপত্য থাকায় মৃতপ্রায় বিএনপিকে কোন রকম দাড় করানো যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার জানান, ৪৫ দিনের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্তরা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাধীন কমিটি গঠন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ৪৫ দিন পার হয়ে যাওয়ার পরও দায়িত্বপ্রাপ্তরা কোন উদ্যোগ নিতে পারেনি। এটি তাদের ব্যর্থতা। অন্যদিকে নগরে শুধুমাত্র ১১ সদস্য বিশিষ্ট নগর কমিটি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়াও থানা ও ওয়ার্ড কমিটির মেয়াদ নেই বললেই চলে। তাই নগর বিএনপির নেতারা পদবঞ্চিত। এ ব্যাপারে নগর বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবী এবার ওয়ার্ড, থানা ও নগর কমিটিতে যোগ্য নেতাকর্মীদের অন্তভুক্তি করে নগর বিএনপিকে ঢেলে সাজাতে হবে। তারা মনে করেন, শুধুমাত্র যারা কমিটির বাইরে আছে বা কোন শীর্ষ পদের কোন ব্যক্তি যদি কেন্দ্রীয় বিএনপির মুল দায়িত্বে আসে সেক্ষেত্রে নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্তি করে দল গোছানো যেতে পারে। নগর বিএনপির ব্যাপারে বর্তমান বিএনপির নবনির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক ডা. শাহদাত হোসেন বলেন, নগর বিএনপির পুর্নাঙ্গ কমিটি দেয়া হয়েছে ৬ মাস আগে। কিন্তু কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এখনো অনুমোদন দেয়া হয়নি। তাই দলের কার্যক্রমে কোন গতি আনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দলের নিয়মিত কর্যক্রমগুলো চলছে। বিশেষ করে সম্প্রতি জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসুচীর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
এ দিকে ক্ষমতার স্বাদ গ্রহনে ব্যস্ত চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতারা। সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেই। ব্যসÍ আছেন আখের গুছাতে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের তিন সাংগঠনিক কমিটি মহানগর-উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের একই অবস্থা। এ তিনি কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ বললে ভুল হবে না। কোনরকম ঢিমেতালেই চলছে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের কার্যক্রম। এদিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আর্থিক কেলেঙ্কারীতে জড়িয়েছে দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। একই অভিযোগ উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। মনোনয়ন বঞ্চিত দলের অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা নেত্রীর বাসভবনের সামনেও অবস্থান কর্মসুচী করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণের বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা ও বাঁশখালী এবং উত্তর জেলার হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়িতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন না দিয়ে টাকার বিনিময়ে কিছু অচেনা মুখ ও সুযোগসন্ধানীদের প্রার্থী করা হয়। যে কারনে দক্ষিনের (বাঁশখালী স্থগিত) ছাড়া সব উপজেলায় দলের অনেক প্রার্থী পরাজিত হয়েছে। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তর ও দক্ষিন জেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ঘটেছে নতুন মেরুকরন। এসব এলাকার স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্ব-স্ব অনুসারীদের নিয়ে ব্যস্ত থাকায় উপেক্ষিত হচ্ছে রাজনীতিতে নির্যাতন হয়রানীর শিকার দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ এমপিরা স্বজনপ্রীতি, গ্রুপিং রাজনীতি চর্চা, জামায়াত-বিএনপি তোষন ও দখল-বানিজ্যে লিপ্ত। যার প্রভাব পড়তে পারে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।
তবে চট্টগ্রাম মহানগরে চলছে দলাদলি ও গ্রুপিং রাজনীতির নোংরা খেলা। কে মহিউদ্দিন গ্রুপ, কে নাছির গ্রুপ এ নিয়ে ব্যস্ত মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। মাঝখানে আরও দুটি ধারা বিদ্যমান। এর একটির নেতৃত্বে ডা. আফসারুল আমিন ও মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। এই ধারার সঙ্গে সখ্যতা আছে সিডিএর চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের। জানা যায়, ২০১৩ সালের নভেম্বরে সাবেক সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি ও আ.জ.ম নাছির উদ্দিনকে সাধারন সম্পাদক করে নগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সাধারন সম্পাদক পদেও দৌড়ে
ডা. আফসারুল আমীন এমপি, ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল, খোরশেদ আলম সুজন সহ অনেক নেতাকে টপকে তরুন আওয়ামী লীগ নেতা ও সিজেকেএস সাধারন সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিনই পদটি ছিনিয়ে নেয়। এর আগে ২০০৬ সালের ২৭ জুন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের মাধ্যমে সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক ছিলেন কাজী ইনামুল হক দানু। দানুর মৃত্যুতে আ.জ.ম নাছিরকে সাধারন সম্পাদক করে এ কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু সাধারন সম্পাদক পদ পাওয়ার পর দলের হেভিওয়েট নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে টপকে মেয়র ননোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হয়ে চমক লাগান তিনি। তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়ে দল গোছানোর উদ্যোগ নেয়া হবে বলে ঘোষনা দিলেও ১১ মাস পার হওয়ার পরও কোন উদ্যোগ নিতে পারেননি। এমনকি মহিউদ্দিন চৌধুরীর পক্ষ থেকেও দল গোছানোর ব্যাপারে উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগররের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে বেশিরভাগ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কোন কমিটি নেই। শুধুই আছে দলাদলি। এখানে কে কোন গ্রুপ করে এ নিয়ে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ মেরুকরনে পিছিয়ে নেই শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও কথিত ভুঁইফোঁড় সংগঠনগুলোও। দল স্বীকার করুক বা না করুক, নতুন নতুন ভুঁইফোড় সংগঠন তৈরী হচ্ছে একেক নেতার আদর্শে বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে। বলতে গেলে নগর আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। কেউ মহিউদ্দিন গ্রুপ বা আ.জ.ম নাছির গ্রুপ। তবে সংকট কাটিয়ে নগর আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজাতে তৃনমুল নেতাকর্মীদের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে আহবান জানান। জানা যায়, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও সাধারন সম্পাদক পদে বহাল রয়েছেন। দীর্ঘ ৮ বছর পর অনুষ্টিত হওয়া কাউন্সিল অধিবেশনে ৩ বছরের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু ২০১৩ সালের আগষ্টে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মন্ডলীর সদস্য করা হলে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা উত্তর জেলা সভাপতি হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রদুত ও সাবেক এমপি নুরুল আলম চৌধুরীকে মনোনিত করেন। সাধারন সম্পাদক হিসেবে এম.এ সালাম বহাল থাকেন। কিন্তু এ কমিটির মেয়াদ প্রায় ৩ বছর পার হওয়ার পর কোন সাংগঠনিক কার্যক্রম তাদের নেই বললেই চলে। শুধুমাত্র দলীয় ও জাতীয় কোন অনুষ্টান ছাড়া আর কোন কার্যক্রম নেই উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের এ অভিযোগ তৃনমুল নেতাকর্মীদের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরীর এলাকা ফটিকছড়ি ও সাধারন সম্পাদক এম.এ সালামের এলাকা হাটহাজারীর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মৃত্যুর পর মোসলেম উদ্দিনকে সভাপতি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মফিজুর রহমানকে সাধারন সম্পাদক করে কমিটি দেয়া হয়। পরবর্তীতে এ কমিটি পুনাঙ্গ কমিটি ঘোষনা দেয়। এ কমিটিতেও দলের রাজনীতির বাইরে থেকে ধর্নাট্য লোকজনকে এনে পদ-পদবী দেয়ার অভিযোগ উঠে। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের এ কমিটি গঠিত হওয়ার পর কিছু কার্যক্রম চোখে পড়লেও নানা কারনে তারা বিতর্কিত হয়ে যায়। বিশেষ করে ইউপি নিব্র্াচন নিয়ে শীর্ষ নেতাদের আর্থিক কেলেঙ্কারীর খবর ফলাও করে প্রচারিত হয় মিডিয়াগুলোতে। ফলে তারা সাংগঠনিক কার্যক্রম না করে নিজেদের উন্নয়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে নেতাকর্মীদের অভিযোগ। এ ব্যাপারে জানতে দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমানকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ বিভাগের আরও খবর
