সিটিনিউজ ডেস্ক:: নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ বলেছে, শিক্ষার্থী এবং তরুণদের আন্দোলনে সহিংসতা উদ্বেগের বিষয়।
ইইউয়ের হেড অব মিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা চাই, যেন সব পক্ষকেই শান্ত এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাক। সাংবাদিক বা অন্যদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের সহিংসতা বন্ধ করা উচিত।
গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের জেরে পরদিন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলনে নামে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। আর তারা রাস্তায় নেমে যান চলাচল ব্যাহত করার মধ্যে অছাত্ররাও স্কুলের পোশাক পরে অংশ নেয়ার ঘটনারও প্রমাণ মিলেছে।
এর মধ্যে আবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে চার জন ছাত্রদের হত্যা ও চার ছাত্রীকে ধর্ষণের গুজব ফেসবুকে ছড়ানো হয় পরিকল্পিতভাবে। আর এর মাধ্যমে উত্তপ্ত করা হয় পরিস্থিতি। পরে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।
এর মধ্যে রবিবার থেকে ছোটরা রাস্তা থেকে সরে গেলেও বড়রা আবার রাস্তায় নামে। রামপুরা এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও বহিরাগতদের সংঘর্ষ হয়।
এর মধ্যে আবার হেলমেটধারীদের আবির্ভাব ঘটে, যারা আবার সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এরা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী। তবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, হামলাকারীরা ছাত্রলীগ, এটা প্রমাণ করতে পারলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এরই মধ্যে যেসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে সেগুলোও তদন্ত করার পাশাপাশি তার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।’
স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে ভীতির পাশাপাশি সড়ক নিয়ে আইন ও নিয়ম প্রয়োগকারীদের প্রতি ভীতির বিষয়টা আরো উজ্জ্বল হয়েছে বলেও মনে করে সংস্থাটি। বলা হয়, ‘সরকারের উচিত এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া। আমরা চাই কোনো বিলম্ব ছাড়াই এ নিয়ে পদক্ষেপ দেখতে।’
