জুবায়ের সিদ্দিকীঃ আগামী চার মাস পর জাতীয় নির্বাচন। ফলে স্বভাবতই সারাদেশে বইছে নির্বাচনী আবহ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। নির্বাচনের আগে আগামী বুধবার পালিত হবে শেষ ঈদ। এ কারনে সারা দেশে জমে উঠেছে ঈদ রাজনীতি। নির্বাচন সামনে রেখে ঈদে সব দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছুটে যাচ্ছেন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায়। চালাচ্ছেন ব্যাপক প্রচার প্রচারনা ও গণসংযোগ।
সারা দেশে ৩শ আসনে তৎপর রয়েছেন আওয়ামীলীগের ১৫শ প্রার্থী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতি আসনে গড়ে ৫জন প্রার্থী আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চান। তবে কিছু আসনে একক প্রার্থী আবার কিছু আসনে ডজন প্রার্থীও রয়েছেন। ফলে গড়ে ৩শ আসনে নৌকার টিকেট পেতে চান ১৫শ প্রার্থী।চট্টগ্রামে ১৬ আসনেই ব্যস্ত আওয়ামীলীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
চট্টগ্রামে বেশীরভাগ এমপি ও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ঈদের দিন ও পরের দিন মেঝবানের আয়োজন করেছেন। আবার কোন কোন প্রার্থীরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে গরু ছাগলও দিচ্ছেন। কোন কোন সংসদ সদস্য ও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আগে ২/১টি গরু কোরবানী দিলেও এবার গরু ছাগলের সংখ্যা বাড়িয়েছেন।
এমনকি অন্যবারের চেয়ে এবার গরীব দুস্থদের মাঝে দান খয়রাত সহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী একটু বেশীই বিতরণ করছেন সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। অবশ্য ঈদুল ফিতরের মতো আসন্ন ঈদুল আজহায়ও ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতাই চোখে পড়ছে বেশী। হাট বাজার, পাড়া মহল্লা ও রাস্তাঘাটে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থক নেতা কর্মীরা সরব হয়ে উঠেছেন।
প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীদের নানা রকম পোষ্টার ব্যানার ও ফেষ্টুনে ছেয়ে গেছে। তৃণমূলকে আস্থায় নিতে যে যার মতো দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন। শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই কঠিন হবে। তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে চার স্তরের জরীপ মিলিয়ে দেখা হবে।
সে কারনে বর্তমান এমপি কিংবা আওয়ামীলীগ নেতা, সাবেক ছাত্রনেতা এসব যোগ্যতা থাকলেই নৌকার টিকেট পাওয়া যাবে না। যাকে মনোনয়ন দিলে জিতে আসার সম্ভাবনা বেশী আগামী নির্বাচনে তাকেই দেওয়া হবে নৌকার টিকেট। সবকিছু যাচাই বাছাই করে যিনি সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় তাকেই বেশী মনোনয়ন দেবেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। সে কারনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন তৃণমূলের দিকেই ঝুঁকছেন।
