পটিয়ায় কালিগঞ্জ সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরুঃ ব্যয় ৩৮ কোটি টাকা

0

সুজিত দত্ত, পটিয়া প্রতিনিধিঃ পটিয়া উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নে কালিগঞ্জ খালের উপর কালিগঞ্জ সেতুটি পুনর্নিমাণের কার্যক্রম শুরু করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।এতে ব্যয় হবে ৩৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথম দিকে কালিগন্জ খালেরএ নতুন সেতু নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান করে সওজ বিভাগ। স্হানীয়রা আশা করছেন কালিগন্জ খালে এ সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ হলে তিনটি উপজেলা যথাক্রমে পটিয়া, আনোয়ারা ও চন্দনাইশ উপজেলার মানুষের মাঝে যোগাযোগ ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও দূর হবে।

জানা যায়, ১৯৭২ সালে কালিগন্জ খালের উপর নির্মিত এই সেতুটির দুই পাশে পানির স্রোতে মাটি ভেসে গেলে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। ১৯৯৬ সালে সওজ কতৃর্পক্ষ এই সেতুর দুই পাশে বেইলি বসিয়ে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ নির্দেশনা সম্বলিত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয় । এরপর থেকে বেশ কয়েকবার সেতুটি মেরামত করা হলেও এটি পুন: নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায়জন ভোগান্তি বাড়তে থাকে ।

ঝুঁকিতে থাকা স্হানীয়রা জানান, বর্তমানে সেতুটির উপর দিয়ে প্রায় ৫ শতাধিক সিএনজি,বাস, মিনিবাস,মিনি ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। এছাড়াও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গ্রামীণ সড়ক হিসেবে পটিয়া-আনোয়ারা ও চন্দনাইশ সংযোগ সড়ক দিয়েই কয়েকশ সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করতে শুরু করে।

যুবলীগ নেতা মুহাম্মদ জহির উদ্দিন জানান , প্রতিদিন এ সেতু দিয়ে ৫ শতাধিক বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু স্হায়ী সেতু না হওয়ায় যাত্রী সহ সংশ্লিষ্টদের ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি পারাপার হতে হয়। বর্তমানে সড়ক ও জনপথ বিভাগ নতুন সেতু নির্মানের
প্রক্রিয়া শুরু করায় এখন তিন উপজেলার মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। পটিয়ার কাশিয়াইশ ‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ জহির উদ্দিন চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, বর্তমানে

এ সেতু নির্মান হলে যোগাযোগের পাশাপাশি এখানের কৃষি -মৎস সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে। দ্রুত কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পন্য বাজারে নিতে পারবে। ফলে এখন ব্রীজ নির্মান কাজ শুরু হওয়ায় সবাই খুশি। উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল হোসেন রাজধন বলেন, দীর্ঘদিন

সেতুটি সংস্কার না হওয়ায় জনগনের মাঝে হতাশা ছিল। কিন্তু এখন এটির কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায সবার মাঝে এক ধরনের আনন্দ ও খুশির আমেজ দেখতে পাচ্ছি। কাশিয়াইশ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, আন্ত উপজেলা ও জেলা সড়ক ওয়ার্কিং

নেটওর্য়াক এর সুবিধা নিশ্চিত্ব করার জন্য আমি বার বার সড়ক বিভাগ ও মন্ত্রী এমপিদের সুদৃষ্টি কামনা করে বহু বছর যাবৎ এ সেতু নির্মানের দাবি জানিয়ে এসেছি। বর্তমানে এটি সকলের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন হওয়ায় আমার এলাকার মানুষ খুবই খুশি।

এ ব্যাপারে দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের পটিয়া উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানান, ২০১৭ সালে সেতুটির নকশা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। ২০১৮ সালে সেটি পাস হয়। শীঘ্রই সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার বিষয়ে তথ্য দিয়ে জানান এটি নির্মিত হলে তিন উপজেলার মানষের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্প্রীতির নব মেল বন্ধন রচিত হবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.