জুয়েল মল্লিক : ঈদের মাত্র কয়েক দিন বাকি । তাই এই ঈদে কোরবানির পশু কিনতে যাওয়া থেকে শুরু করে কোরবানি দেওয়া, কোরবানির পর করণীয় নানা দিক খেয়াল রাখতে হবে আপনাকে। তাই অবশ্যই আগে থেকে পরিকল্পনা করে নিন কীভাবে কি কি করবেন।
পশু কেনার পর যা করবেন:
পশুর যাতে ঠান্ডা না লাগে এমন স্থানে রাখুন। পশুকে শুকনো স্থানে রাখা প্রয়োজন। পশু রাখার স্থানে মেঝেতে চট বা খড় বিছিয়ে দিন। পশুর গায়েও চট দিতে পারেন। পশু অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। পশুর খাবার হিসেবে খড়, দানাদার খাদ্য যেমন—কুড়া, গমের ভুসি, ছোলাভাঙা, ভাতের মাড়, চিটাগুড়, ছাগলের জন্য কাঁঠালপাতাসহ অন্যান্য পাতা ও দানাদার খাদ্য খাওয়ানো যায়।
পশুর চামড়া ছাড়াতে:
পশুর চামড়া একটি জাতীয় সম্পদ। ঠিকমতো চামড়া ছাড়াতে পারলে এর দাম ঠিক পাওয়া যায়। পশুকে কোরবানির আগে প্রচুর পানি খাওয়াতে হবে এতে চামড়া ছাড়াতে সুবিধা হবে। পশু জবাই করার পর দক্ষ লোক দিয়ে চামড়া ছাড়াতে হবে। অনেকে চামড়ার সঙ্গে লেগে থাকা মাংস বাঁচাতে গিয়ে চামড়া কেটে ফেলেন। এ ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ কাটা চামড়ার দাম ও মান অনেক কম। চামড়া ছাড়াতে ধারালো চাকু বা ছুরি ব্যবহার করতে হবে। তবে পশু জবাই করার পরপরই চামড়া সাইজ করে নিতে হয়। এতে চামড়া কাটতে সুবিধা হয়। চামড়া কাটা হয়ে গেলে তা থেকে ধুলা ও রক্ত এবং লেগে থাকা মাংস পরিষ্কার করতে হবে। এরপর পর্যাপ্ত লবণ মেখে চামড়া সংরক্ষণ করতে হবে।
মাংস কাটার যন্ত্রপাতি:
মাংস টুকরা করার জন্য দরকার হয় নানান রকম ছুরি। জবাই করার জন্য সবচেয়ে ভালো রেতের লোহার ছুরি। মান অনুযায়ী কেজি প্রতি এগুলোর দাম ৫শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণ লোহার ছুরিগুলোর দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকা থেকে ১শ’ টাকা। কোরবানির পশু চামড়া ছাড়ানোর জন্য আছে কামেলা ছুরি এবং ছিলা ছুরি। আকারে ছোট, হালকা ও তীক্ষ্ণ আগার এই ছুরিগুলোর দাম পড়বে প্রতিটি ৬০ থেকে দেড়শ টাকা হতে পারে । মাংস কাটার ছুরিগুলোর দাম ৫০ টাকা থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা পর্যন্ত হতে পারে । আরও আছে মাংস কাটার বটি, কোপদা।
মাংস রাখার জিনিস:
কাটা মাংস রাখার জন্য প্রয়োজন হয় পাটি বা বড় আকারের পলিথিন। তেরপলও ব্যবহার করা যেতে পারে। পলিথিন আর তেরপল কিনতে হবে গজ দরে। “আকারভেদে পাটির দাম গজ প্রতি ৫০ টাকা থেকে ১শ’ টাকা হতে পারে । পলিথিনের দাম গজ প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা। আর তেরপলের দাম গজ প্রতি ৭০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। মাংস আনা নেওয়া করার জন্য বাঁশের ডালিগুলো ৫০ থেকে ১৩০ টাকা হতে পারে । মাংস বিলি করার জন্য পলিথিনের ব্যাগ বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে।
মাংস রান্নার পাত্র:
বছরের অন্যান্য সময়ে মাংস পরিমাণ মতো রান্না করা হয়। তবে কোরবানির ঈদে মাংস রান্নার যেন কোনো হিসেব থাকে না। তাই রান্নার হাঁড়িটাও চাই একটু বড় আকারের। বড় হাঁড়ি ও ডেগচি বিক্রি হয় ওজন হিসেবে। হাড়ির দাম কেজি প্রতি ৩২০ থেকে ৫শ’ টাকা, ডেগচি ৩৩০ থেকে ৫শ’ টাকা হতে পারে। প্রেশার কুকার ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকায় পাওয়া যেতে পারে। তবে ব্র্যান্ড হিসেবে এই দাম ভিন্ন হতে পারে। এছাড়া মাংস রাঁধতে মসলা তো লাগবেই।
