চন্দনাইশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস বিক্রয়

0

চন্দনাইশ প্রতিনিধিঃ চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী দেওয়ানহাট সাঙ্গু কোল্ড স্টোর সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ভ্রাম্যমান গাড়িতে করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস বিক্রি করলেও দেখার যেন কেউ নাই। একইভাবে বিভিন্ন মুদির দোকানের সামনে রেখে গ্যাস সিলিন্ডারের বোতল বিক্রি করা হচ্ছে। তাছাড়া দু’টি স্থানে গ্যাসের বোতলে গ্যাস অবৈধভাবে ভর্তি করা হলেও দেখার যেন কেউ নাই। যেকোন সময় এ ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস বিষ্ফোরন হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোহাজারী পৌরসভার দেওয়ানহাট সাঙ্গু কোল্ড স্টোর সংলগ্ন একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মারের পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভ্রাম্যমান গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, ডাম্পারসহ বিভিন্ন যানবাহনে। একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মুদির দোকানের সামনে, সড়কের উপর রেখে গ্যাস সিলিন্ডারের বোতল বিক্রি করা হচ্ছে অবাধে। তাছাড়া গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজের উত্তর পাশে একটি ঘরে এবং ছৈয়দাবাদ পদ্মার ডেবা এলাকায় বড় গ্যাসের বোতল থেকে ছোট বোতলে গ্যাস পরিবর্তন করা হচ্ছে অবৈধভাবে।

সরকারিভাবে বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে দিবালোকে বেআইনীভাবে গ্যাসের গাড়ি থেকে গ্যাস স্থানান্তর করে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে প্রকাশ্যে দিবালোকে বিনা বাধায় বিপদজনকভাবে গ্যাস বিক্রি করলেও দেখার যেন কেউ নাই। যেকোন সময় গ্যাস স্থানান্তর কালে বড় ধরনের গ্যাস বিষ্ফোরনের মাধ্যমে দুর্ঘটনাসহ প্রাণহানীর আশংকার করছেন বিজ্ঞমহল।

মহাসড়কের পাশে, সাঙ্গু কোল্ড স্টোর, সাঙ্গু কমিউনিটি সেন্টার, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার, আশে-পাশে বেশ কিছু জনবসতি এলাকায় এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ভ্রাম্যমান গ্যাস বিক্রি অত্যন্ত বিপদজনক বলে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন আশ-পাশের লোকজন।

একইভাবে গাছবাড়িয়া কলেজের উত্তর পাশে ও ছৈয়দাবাদ পদ্মার ডেবা এলাকায় গ্যাস স্থানান্তরের আশেপাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতি রয়েছে। যেকোন দূর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানির আশংকা করছেন স্থানীয়রা। গ্যাস বিক্রেতারা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তিরা নিরব থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রি করে যাচ্ছে মহলটি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ.ন.ম বদরুদ্দোজা ও থানা অফিসার ইনচার্জ কেশব চক্রবর্তী এ বিষয়ে অবহিত নয় বলে জানান।

তবে সংবাদটি পেয়ে সরজমিনে গিয়ে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় গ্যাস বিক্রি করতে দেখা গেলে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন।

সম্প্রতি পাথরঘাটা এলাকায় গ্যাাস বিষ্ফোরণে ৭ জন মারা যায় ২৪ জন আহত হয়। একইভাবে গত ৩ বছর আগে চন্দনাইশ জোয়ারা রাস্তার মাথা এলাকায় গ্যাসের বোতল থেকে বোতলে গ্যাস স্থানানন্তরের সময় বিষ্ফোরনে আগুন লেগে বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে যায়। ২ জন অগ্রিদগ্ধ হয়। এদের মধ্যে ১ জন মারা যায়।

চলতি বছর সাতকানিয়া নলুয়া এলাকায় মো. আয়ুবের রান্নাঘরের গ্যাস বিষ্ফোরণে ৭টি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়। বেশ কয়েকদফা গাড়িতে গ্যাস বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটার পরেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের।

যত্রতত্র এলপি গ্যাস বিক্রি করা হলেও দেখছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। লাইসেন্স না নিয়ে মুদির দোকান সাইকেল গ্যারেজ, পানের দোকান, তুষ ও কাঠের দোকান, কোকারিজের দোকান, রড় সেমিন্টের দোকান, ফ্ল্যাক্সিলোড, ফটোকপি, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের দোকানে অবৈধভাবে এলপি গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। অনভিজ্ঞ লাইসেন্স বিহীন গ্যাসের দোকানের কারণে সিলিন্ডার বিষ্ফোরনের দূর্ঘটনা ঝুঁকি বাড়ছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.