নির্বাচনে ছুটি নিয়ে হঠকারী সিদ্ধান্তঃ ভোগান্তিতে পড়তে পারে মানুষ
সিটি নিউজঃ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি থাকছে না। এদিন সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলবে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেগুলো বন্ধ থাকবে। একইসাথে কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের সুবিধার্থে অন্যান্য দিনের মতো যানবাহনও চলবে।
গত ২৩ জানুয়ারি বিকেলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান। ইসি সচিব বলেন, ‘আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি থাকবে না। গাড়ি চলাচল ও অফিস-আদালত যথারীতি চলবে। তবে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো ভোটার থাকলে তাদের ভোট দেয়ার সুযোগ দিতে হবে’
মো. আলমগীর আরও বলেন, ‘ইভিএমের মাধ্যমে ভোট হলে জালিয়াতি করার সুযোগ থাকে না। ভোটবাক্স ছিনতাইয়েরও সুযোগ থাকে না। ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছি বলে ইভিএম ব্যবহার করছি, বিষয়টি এমন নয়। দুষ্ট লোকেরা যাতে কোনো সমস্যা করতে না পারে এবং সুন্দরভাবে ভোট সম্পন্ন করা যায়, সে জন্যই ইভিএম ব্যবহার করা। ইভিএম হলো একটি বাড়তি সুযোগ।’এ সময় ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে ও গুরুত্বের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান তিনি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন যেসব প্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, শুধু সেগুলো বন্ধ থাকবে। এছাড়া অন্যান্য অফিস চালু থাকবে। মানুষ যাতে নিজ নিজ কর্মস্থলে যাতায়াত করতে কোনো অসুবিধায় না পড়ে, সেজন্য যান চলাচলেও কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না।’ চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইডিই প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কাসেম মো. ফজলুল কাদের ও নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান। এ সময় জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউর রহমান, অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমদসহ চট্টগ্রাম নির্বাচন কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে চসিক নির্বাচনের দিন সরকারী বেসরকারী অফিস ও কারখানা সমুহ খোঁলা রেখে ভোটগ্রহনের চেষ্টাকে হঠকারী সিদ্ধান্ত মনে করেন সচেতন ভোটারদের অনেকেই। তাদের মতে, ভোটের দিন সকালেই গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীরা যথারীতি কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন। কারন অফিস খোঁলা থাকায় কর্মস্থলে হাজিরা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়ে গেছে। কর্মস্থলে হাজিরা দিয়ে এসে অনেকের পক্ষে ভোট প্রদান সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে মহিলা শ্রমিকরা পড়বেন বেশি সমস্যায়।
সরকারী নির্দেশনায়,‘ভোটারদের ছুটি প্রদান করতে অনুরোধ করা হলেও বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক ও দায়িত্বশীলরা এ ব্যাপারে কতোটা আন্তরিক হয় সেটাও দেখার বিষয়। তবে চট্টগ্রামের একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারী ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ‘ভোটারদের জন্য কোন প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষনা করেননি। অনেক প্রতিষ্ঠান বলে দিয়েছে, ভোট প্রদানদের জন্য এক ঘন্টার’ ছুটি দিতে পারেন’। এতে করে নগরীর বিভিন্ন শিল্প কলকারখানায় কর্মরত কর্মকর্তা-শ্রমিকদের ভোট প্রদানের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীন।
আবার চসিক নির্বাচনের রির্টানিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান নির্বাচনের দিন সকল প্রকার যানবাহন চলাচল থাকবে বলে জানালেও, ইতিমধ্যে শহরে গনপরিবহন শুন্য হয়ে পড়েছে’। বাস ও মিনিবাস মালিকদের সংগঠনের মতে, পুলিশের রিকিউজিশনের ভয়ে মালিকরা রাস্তায় গাড়ি নামাচ্ছে না। একই অভিযোগ, অন্যান্য যানবাহন মালিকদের।
অনেকের মতে, কখন কি হয় এমন শংকায় রাস্তায় নামছে না ব্যক্তিগত গাড়িও। ভোট গ্রহনের বাকী মাত্র দুই দিন। এ অবস্থায় ভোটের দিন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় যানবাহনের অভাবে রাস্তায় সমস্যায় পড়ছে হাজার হাজার মানুষ। সে ক্ষেত্রে ভোটার উপস্থিতির অভিনব এ কৌশল কতোটা সুফল বয়ে আনে তাই এখন দেখার বিষয়।
সিটি নিউজ/জস
