‘২০৩০ সালের মধ্যে দেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত হবে’

0

সিটিনিউজবিডি : পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত হবে। এজন্য কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

শুক্রবার দুপুরে বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০১৫ উপলক্ষে ফার্মগেটের খামারবাড়িস্থ বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্স সেন্টার (বিএআরসি) অডিটোরিয়ামে ‘গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় কৃষি’ বিষয়ক প্রতিপাদ্যের এক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সারাবিশ্বের ৪৫ শতাংশ মানুষ ভাত খায়। এজন্য সারাবিশ্বে গড়ে ৭৫০ মিলিয়ন টন চালের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশে উৎপন্ন হয় ৩৫ মিলিয়ন টন, যা পৃথিবীর মোট উৎপাদনের ৫ শতাংশ। অথচ জনগণের দিক থেকে আমরা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ। এ হিসেবে বলা যায়, আমরা উৎপাদনের দিক থেকে এগিয়ে আছি।

তিনি বলেন, আমরা আরো এগিয়ে যাব। ২০৩০ সালের ভিশনের লক্ষ্য ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু আমরা এর অনেক আগেই লক্ষ্যে পৌঁছাবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমাদের গড় আয়ু বেড়েছে। ৪০ বছর আগে যেখানে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৩৮ বছর, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ বছর ৩ মাস। এই সময়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের হার বেড়েছে। এসব ক্ষেত্রে কৃষির অবদান অনস্বীকার্য।

মন্ত্রী বলেন, কৃষিকে বাদ দিয়ে কোনো পরিকল্পনা যেমন সম্ভব নয়, তেমন কৃষি ছাড়া উন্নয়নও সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মতিয়া চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার খাদ্য ঘাটতি নিয়েই ক্ষমতায় এসেছে। তখন অনেকে অনেক কিছু বলেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে একটা পিঁপড়াও না খেয়ে মরেনি। বরং খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে উদ্বৃত্ত করা হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা হলো মানুষের নিশ্চিন্ত জীবন, সেখানে কোনো অস্থিরতা থাকবে না। গ্রামীণ এলাকার উৎপাদিত পণ্য আমাদের ভোগ্য পণ্যের যোগানদাতা। পেটে যদি ক্ষুধা থাকে তাহলে মানুষ অস্থির হয়, হানাহানি করে। খাবারের অভাব থাকলে কখনো উন্নয়ন আশা করা যায় না। জিডিপি প্রবৃদ্ধি কখনো বাড়ে না। আমরা খাদ্যের অভাব কমিয়েছি। জিডিপি বাড়িয়েছি।

আওয়ামী লীগ সরকার সব শ্রেণির মানুষের খাদ্যের অভাব পূরণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা খাদ্য ঘাটতি নিয়ে সরকারের ড্রাইভিং সিটে বসেছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে আজ উদ্বৃত্ত করছে। এটা এমনি এমনি হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক প্রাপ্তিকে অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পদক বিদেশ থেকে কিনতে পাওয়া যায় না, কেউ এমনি এমনিও দেয় না। এটা অর্জনের বিষয়। সব কোয়ালিটি মেনটেইন করেই শেখ হাসিনা পদক ছিনিয়ে এনেছেন। কাজ দিয়েই আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে বুঝিয়ে দিয়েছি যে, যোগ্য আমরাই।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার সময় দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার টন। আমরা তা পূরণ করেছি। আমরা এখন এশিয়ার বাজার ধরেছি। সামনে ইউরোপের বাজার ধরব।

আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সরকার উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো বলেন, সরকার কৃষকের গায়ের ঘামের মূল্য বোঝে। কৃষকের পরিশ্রম আর কৃষি মন্ত্রণালয় প্রভাইড করার কারণে বাংলাদেশ আজ এই অবস্থানে আসতে পেরেছে।

কৃষি সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মকবুল হোসেন এমপি, জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার (ফাও) সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি মাইক রবসন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোশাররফ হোসেন, নাছিরুজ্জামান, বেগম ভিকারুন্নেসা, সীডের ডিজি আনোয়ার হোসেন, ডিজি (এক্সটেনশন) হামিদুর রহমান, বিএডিসির এমডি (সীড) রওনক মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. শামসুদ্দীন।

পরে ১৬-১৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী খাদ্য মেলার উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

এর আগে জাতীয় কার্যক্রমের আওতায় সকাল সাড়ে ৯টায় একটি বর্ণাঢ্য র্যা লি অনুষ্ঠিত হয়। র্যা লিটি সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে ফার্মগেটের বিএআরসি চত্বরে এসে শেষ হয়। এতে অংশ নেয় সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং স্কুলের ছাত্রছাত্রীসহ সর্বস্তরের জনগণ।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.