‘ম্যারাডোনার চেয়ে মেসির অবদান বেশি’

0

স্পোর্টস ডেস্ক : আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির আগে এবং পরে উঠতি অনেক ফুটবলারের কপালে ‘নতুন ম্যারাডোনা’র তকমা সেঁটে গিয়েছিল। মেসিই যে ম্যারাডোনার একমাত্র যোগ্য উত্তরাধিকার সেটি এরই মধ্যে প্রমাণ পেয়েছে বিশ্বফুটবল। বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনার সাবেক কোচ সিজার মেনত্তির দাবী, আর্জেন্টিনার ফুটবল উৎকর্ষে ম্যারাডোনার চেয়ে নাকি মেসির অবদানই বেশি।

ব্যক্তিগত হিসাব নিকাশে ম্যারাডোনা থাকবেন মেসির থেকে যোজন যোজন পিছিয়ে। দেশের জার্সি গায়ে মেসির গোলসংখ্যা ১০৫ ম্যাচে ৪৯টি। আর ম্যারাডোনার গোলসংখ্যা ৯১ ম্যাচ থেকে ৩৪টি। আর ক্লাব পর্যায়ে তো নিজের পূর্বসুরীকে মেসি হার মানিয়েছেন অনেক আগেই। ম্যারাডোনার ৫৮৮ ম্যাচে ৩১২ গোলের রেকর্ডকে কিছুই মনে হবেনা যখন জানবেন মেসি ৫২৫ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ৪২৯টি।

কিন্তু একটা জায়গায় এসে বারবার ধাক্কা খাচ্ছেন ফুটবলের বিস্ময় মেসি। দেশের হয়ে বড় কোনো সাফল্য নেই আর্জেন্টাইন বর্তমান অধিনায়কের। সেরা ফর্মে থেকে ২০১০ সালের বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে একটাও গোল করতে পারেননি তিনি। ২০১৪’র বিশ্বকাপে দলকে ফাইনালে তুললেও জার্মানির সঙ্গে পেরে উঠেনি মেসির দল। এরপর চিলির বিপক্ষে কোপা আমেরিকার আসরে দলকে ফাইনালের মঞ্চে নিয়ে যান মেসি। সেখানেও আর্জেন্টাইনদের শিরোপা পাইয়ে দিতে পারেননি।

১৯৮৬ বিশ্বকাপে মাঝারি মানের দল নিয়ে ম্যারাডোনার একক জাদুতে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। আর এখানেই বারবার ঘুরেফিরে আসে মেসি-ম্যারাডোনা প্রসঙ্গ।

চারবারে ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর ম্যারাডোনার চেয়ে এগিয়ে জানান সিজার মেনত্তি। আজেন্টিনার এ সাবেক কোচ বলেন, শেষ ২০ মিটারে তারা দু’জনেই সমান। উন্নতির দিক দিয়ে ম্যারাডোনার কিছুটা পার্থক্য ছিল। দলপতি হিসেবেও ম্যারাডোনা এগিয়ে। তবে, মেসির উন্নতি ম্যারাডোনার থেকে অনেক বেশি। ক্লাব পর্যায়ে মেসি অনেক বেশি সুশৃঙ্খল।

মেনত্তি আরও যোগ করেন, মেসি একের পর এক গোল করে। ম্যারাডোনাও তাই করেছিল। কিন্তু, মেসি দেশের জার্সি গায়ে সেরা সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আর্জেন্টিনা কখনো বার্সা তারকার পাশে ছিল, কখনো ছিল না।

১৯৮৬ সালে শিরোপা জেতানো ম্যারাডোনা চার বছর পর ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে ‘ট্রাজিক হিরো’ খেতাব পান। ১৯৯০ সালে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরেছিল ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। ২৪ বছর পর ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে সেই জার্মানির কাছে হেরে ‘ট্রাজিক হিরো’ ম্যারাডোনার পাশে নাম লেখান মেসি। দুই যুগ পর মেসির আর্জেন্টিনাও পায় ১-০ ব্যবধানে হারের স্বাদ।

কিন্তু এসব যুক্তির ওজনটা ক্রমেই হালকা হয়ে যাচ্ছে। ম্যারাডোনা হয়ে উঠতে হলে মেসিকে দেশের জার্সি গায়ে একাই করে দেখাতে হবে আরও অনেক জাদু। মেসির সময়টাও কিন্তু ফুরিয়ে যাচ্ছে দ্রুত!

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.