সিটিনিউজবিডি :: মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের পর এবার একই অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর আইনজীবীরাও তার সঙ্গে দেখা করতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানালে কারা কর্তৃপক্ষ সে আবেদন গ্রহণ করেনি। তবে এখনও তারা অপেক্ষায় আছেন।
শুক্রবার দুপুরে সাকা চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলফেজ সানি কারা কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদনপত্র জমা দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আরও ৫ আইনজীবী।
দুপুর সোয়া ২টার দিকে সাকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলফেজ সানি ও অ্যাডভোকেট হুজ্জাতুল ইসলাম খান আল ফেসানী বলেন, আবেদনপত্র গ্রহণ করেনি কারা কর্তৃপক্ষ। তবে আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার আসব।
বেলা ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে সাকার আইনজীবীরা আবার কারা ফটকের সামনে আসেন এবং আবেদনপত্র দিতে দ্বারে দ্বারে ঘোরেন। এ সময় সাকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলফেস সানি বলেন, ‘আবেদনপত্র নিয়ে ঘুরছি। অনুমতি পেলে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ সাত আইনজীবী তার (সাকা) সঙ্গে দেখা করতে যাবেন।’
তবে বৃহস্পতিবারই কারা কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছিল আইনজীবীদের সঙ্গে এই শীর্ষ দুই যুদ্ধাপরাধীর সাক্ষাতের আর কোনো সুযোগ নেই। তবে তাদের পরিবার চাইলে দেখা করতে পারেন।
এর আগে শুক্রবার সকালে মুজাহিদের আইনজীবীদের দেখা না পাওয়ার অনুমতি প্রসঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেছার আলম বলেছিলেন, ‘আইন অনুযায়ী তারা (মুজাহিদের আইনজীবীরা) দেখা করতে পারেন না। তাই এখন পর্যন্ত তারা অনুমতি পাননি।’
বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটের পর সিনিয়র জেলসুপার জাহাঙ্গীর কবিরের নেতৃত্বে একজন ডেপুটি জেলার ও একজন সহকারী জেলার সাকা ও মুজাহিদকে রায় পড়ে শোনান।
এর আগে রাত পৌনে ৯টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র সহকারী জজ আফতাবুজ্জমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রায়ের অনুলিপি নিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়। এরপর সেখানে ওই রায় ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়।
কারা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার যেকোনো এক সময়ে একজন ম্যাজিস্টেট্রের নেতৃত্বে কারা কর্তৃপক্ষ সাকা ও মুজাহিদের কাছে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষার বিষয়ে জানতে চাইবেন। সাকা-মুজাহিদের রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় ফাঁসির দণ্ড থেকে বাঁচতে এ দুজনের কাছে এখন রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
তারা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর যদি ক্ষমা না পান তবে আইন অনুযায়ী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে যেকোনো সময় দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে পারবে কারা কর্তৃপক্ষ।
গত বুধবার সাকা ও মুজাহিদের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ওই রায়ের মধ্যে দিয়ে তাদের আইনি লড়াই শেষ হয়।
