ঢাকা অফিস :: গুলশান থানায় দায়ের করা নাশকতা মামলায় বিএনপির পদত্যাগ করা ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরীসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। অভিযোগ গঠনের ফলে এ মামলায় তাদের আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হলো।
বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম লুৎফর রহমান শিশির তাদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলার অভিযোগ গঠন করে সাক্ষীর জন্য পয়লা মার্চ দিন ধার্য করেন তিনি।অভিযোগ গঠনের সময় আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের আশা করেন।
অভিযোগ গঠনের সময় বিএনপির পদত্যাগী ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরী,বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ,মোস্তফা,বাবুল সরদারসহ দশজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আর বাকী দুইজন উপস্থিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
অভিযোগ গঠন শুনানির আগে তাদের আইনজীবী এ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও জয়নুল আবেদীন মেজবাহ অব্যাহতির আবেদন করেন।শুনানিতে তারা বলেন, হয়রানির জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তাই তাদেরকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইকবাল হোসেন বলেন,সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদেরকে মামলা অব্যাহতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হোক।উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ২৭ জুন হরতাল চলাকালে গুলশান থানার মহাখালী রোডস্থ ওয়্যারলেস গেইটে শমসের মুবিন চৌধুরীসহ বিএনপির অজ্ঞাতনামা আরো ১০০/১৫০ কর্মী পুলিশের কাজে বাধা দেন। এছাড়া গাড়ীতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন তারা। পুলিশের কাজে বাধার একপর্যায়ে শমসের মুবিন চৌধুরী পুলিশ কনস্টেবল কাজী আলালকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় পারা দিয়ে ধরলে তার জিব বের হয়ে যায়।
এ ঘটনায় গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন শমসের মুবিন চৌধুরীসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
