কক্সবাজার ত্রান ও পুনর্বাসন অফিসে চরম দুর্নীতি

0

জামাল জাহেদ,কক্সবাজার প্রতিনিধি :: জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন অফিসে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এবং টেষ্ট রিলিফ প্রকল্পে অনিয়ম ও দূর্নীতি হচ্ছে লাগামহীন ভাবে। অস্থিত্বহীন প্রকল্পের নামে হরিলুট করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা,যেনো দেখার কেউ নেই,জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের সুবিধার জন্য মুখ খোলে কিছু বলেনা,অদৃশ্য ফোনে গোপন কমিশন বানিজ্যে হিরো বনে যাচ্চেন জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।

উন্নয়নের নামে ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীদের মাঝে প্রকল্পের টাকা ভাগ বাটোয়ারা করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত ।যদিও দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে ভাগা ভাগি নিয়ে দ্বন্দে¡র কারণে অনেক প্রকল্পের চাল গম ফেরত গেছে। কোথাও প্রকল্পের কাজ সম্পুর্ণ না করে আবার অনেক ক্ষেত্রে সম্পুর্ণ কাজ না করে প্রকল্পের পুরোবিল উত্তোলন করা হয়েছে,গোপনে হজম করে যাচ্ছে ত্রান কর্মকর্তার সহ অফিসের সকলে। এ ব্যাপারে ত্রান ও পুনর্বাসন অফিসের দুর্নীতির জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগের পাহাড় জমলেও কোনো অ্যাকশনতো দূরের কথা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা।

দূর্নীতি এবং ক্ষমতাকসীনদের স্বেচ্ছাচারিতায় কক্সবাজার জেলার সবকটি উপজেলার টি আর (টেষ্ট রিলিফ) ও কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তার নামে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে আসলে দলীয় নেতা কর্মীদের পকেট ভারী করা হচ্ছে,আদৌও গ্রামীণ অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন হচ্ছেনা বলে বিশ্লেষকদের ধারনা। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ডিসিরা দেশের বিভিন্ন টিআর এবং কাবিখা নিয়ে সীমাহীন দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যরা টিআর ও কাবিখা নিয়ে অতি মাত্রায় নাক গলান। তাদের পছন্দসই নেতাদের নামে প্রকল্প বরাদ্দের কথা বলে ফলে এসব প্রকল্পে অনিয়ম হলেও তারা ভূমিকা রাখতে পারছেন না।

ডিসিরা বলেন, সব কাগজ পত্র ঠিক রেখে প্রকল্প শেষ করা হয়। কাজ শুরু ও শেষ করা পর্যন্ত মনিটরিং করা না হলে কাগজ পত্রে দুর্নীতি প্রমান করা সম্ভব হয়না।মাঝখানে কাগজপত্র প্রমানাধি দেখাশোনার জন্য পিআইও কে দায়িত্ব দিলেও সেও টন প্রতি ৩হাজার টাকা কমিশন নেয়,সরকার এসব প্রকল্প থেকে ভ্যাটও সরকারী রেভিনিউ তুলে নিলেও,এসব কথা বলে পিআইও ওরা ঠিকেই লাখ লাখ টাকা কেটে রাখতেছে।মহেশখালীর টিআর কাবিখা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। দরিদ্র জন গোষ্ঠির জন্যে বরাদ্দ খাদ্য শষ্য ও টাকা কক্সবাজারের সব উপজেলার দলীয় বিবেচনায় সরকারি দলের এমপি বা উপজেলা চেয়ারম্যানের আস্থা ভাজন লোকদের মাঝে বন্টন করে দেয়া হয়। এ ছাড়া তালিক অনুযায়ী দেকা যায় ভুয়া অনেক অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামেও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের লোকদের মধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনা দেখা যায়,বিষয়টি অনেক সময় এমপি পর্যন্ত গড়ায়।

গ্রামীন অবকাঠামো সংস্থার (টেষ্ট রিলিফ, টিআর) ও গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষন (কাজের বিনিময়ে খাদ্য-কাবিখা) কর্মসূচির কাবিখার ৭০০/৬০০ মেট্রিক টন গম তুলে আশ্রয়ন প্রকল্পের জায়গা ভরাট কাজ করে যাচ্ছে অনায়সে,কাজের বিনিময়ে খাদ্যের এই প্রকল্পে মাটি ভরাট কাজে কোনো দুস্থ শ্রমিককে না লাগিয়ে ড্রজার বা ট্রলি দিয়ে মাটি ভরাট করা হচ্ছে এবং হয়েছে মহেশখালীর শাপলাপুর,কুতুবজোম,খুরুশকুলের সব কটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে।জেলায় চলতি অর্থ বছরে ত্রান ও পুর্নবাসন অধিদপ্তরে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাট চলছে।স্বয়ং ত্রান ও দুর্যোগ মন্ত্রীর আগমন ও ঠেকাতে পারছে জেলার অনিয়ম।টি আর কাবিখা প্রকল্পের সাড়ে ৫ কোটি টাকার মতো হিসাব মিলছেনা কুতুবজোমের ৩টি প্রকল্পের,যেহেতু একটি প্রকল্পে নৌবাহিনী কতৃক আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মান হলেও,দুটির কাজ এখন বন্ধ, কি কারনে এসব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকল্প বন্ধ হলো,তার কোন সঠিক তথ্য দিতে পারছেনা প্রকল্পের চেয়ারম্যান শফিউল আলম।

জেলার নাম প্রকাশ না করা এক কর্মকর্তা জানান,এসব বরাদ্দের বেশির টাকা হরিলুট হচ্ছে মুলত জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার যোগসাজেসে বলে অভিযোগ তোলেন।ভূয়া প্রকল্প দাখিল, একই প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক বরাদ্দ, ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত ডিও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হাতে প্রকল্প সভাপতিদের জিম্মি করে দলীয় তহবিল গঠনের নামে অর্থ কাটাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলে টিআর কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের কাজ নিয়ে মোটেও সন্তষ্ট নন কক্সবাজারের সবকটি উপজেলার জনগন।অন্যদিকে ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রণালয় উন্নয়নে বাজেট দেয় ২কোটি৩৩লাখ,দারিদ্র নিরসন ও নারী উন্নয়নে দেয় ৬কোটি ৮০লাখ,ও ৫কোটি ১০লাখ,উপজেলায় ত্রান কার্যালয়ে দেওয়া হয় ৪৩লাখ, কাবিখা,টেস্ট রিলিফ,ভিজিএফ,জিআর ও সাহায্য উন্নয়ন বাজেট দেয় ৭কোটি৪৪লাখ টাকা, (সাধারণ) প্রথম দফায় চট্রগ্রামে ৩৪৩.৭৫০মেঃটন,উপকুলীয় এলাকায় ১৯৬টি মুজিব কেল্লা সচল করার জন্য কোটি টাকা বাজেট দিলেও কোন কাজ করা হয়নি। দুই বছরে টি আর কাবিখা প্রকল্পের ৮ কোটি টাকার বিপরীতে তেমন উল্লেখ যোগ্য কোনো কাজ হয়নি বলে একাধিক মহল অভিযোগ করেছে। তাদের মতে, সরকারি বরাদ্দের সিংহভাগ জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা,ত্রান ও পুনর্বাসন ও দুর্যোগ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ক্ষমতাসীন দলের একটি সিন্ডিকেট হরিলুট ও ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছে জেলার সবকটি প্রকল্পের টাকা।

জেলার কয়েকটি বড় বড় সিন্ডিকেট ভূয়া প্রকল্প ভূয়া কমিটি দেখিয়ে অধিকাংশ বরাদ্দ লুটপাট করেছে। অধিকাংশ প্রকল্পের বিপরীতে গঠিত প্রকল্প কমিটি ছিল কাগজে কলমে। অনেক কমিটির সভাপতি জানেন না প্রকল্পের কোনো তথ্য।যেমনটি ঘটতেছে কুতুবজোমে।এমন কি তিনি যে সভাপতি তাও জানেন না। সিন্ডিকেটের নেতারা নিজেরা স্বাক্ষর করে গুদাম থেকে মালামাল তুলে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। ভূয়া মাষ্টার রোলের মাধ্যমে লুটপাট করা হচ্ছে জেলার সব প্রকল্প,তাদের অধিকাংশ নেতার মুখে শোনা যায়,সরকার নাকি টিআর কাবিকা টেস্ট রিলিফ,জিআর সাহায্যের সব প্রকল্প নাকি মাঠ পর্যায়ের নেতাদের পকেট গরম করার জন্য,আদৌও কি কাজের বিনিময়ে খাদ্য বলে হতদরিদ্র মানে সরকার দলীয় নেতারা,তা কারো বোধগম্য নয়।প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কাচা রাস্তা সঃস্কার সহ নদী খনন আর কার্পেটিং সড়কের পাশের মাটি ভরাটের মতো উপযোগি প্রকল্প কিন্তু জেলার ১৫টি ইউনিয়নের জনসাধারণ চলাচলের রাস্তা এখনো কাচা,অন্যদিকে মহেশখালী কুতুবজোমের বেরিবাধের উপরে থাকা কার্পেটিং সড়কের দুপাশে মাটি সরিয়ে গেছে দীর্ঘ ৩বছরে, বর্তমানে ও কোন চোখ পড়তেছেনা জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

জেলার ত্রান ও দুর্যোগ অফিসের কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে প্রকল্পের চাল গম সহ প্রকল্পের বেশির ভাগ টাকা লুটে নিয়েছে, দুর্নীতিপরায়ণ নেতারা।জনপ্রতিনিধিদদের দায়িত্বহীনতার কারনে বারবার দ্বিতীয় দফা সময় বাড়ানোর পরেও টি আর, (টেষ্ট রিলিফ) কাবিখা কাবিটা প্রকল্পের কাজের অর্ধেক টাকা পকেটে রেখেই কাজ না শেষ করা হচ্ছে প্রকল্প।কক্সবাজার জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন অফিস কাবিখায় ৯৯ দশমিক ৭৩ ভাগ ও টিআরে ৯৯ দশমিক ৯৭ ভাগ কাজ হয়েছে বলে রির্পোট দিয়েছে সরকারের উচ্চ মহলে যার কোন ভিত্তি মাঠ পর্যায়ে নেই বলে জানা যায়। বিভিন্ন উপজেলায় টেষ্ট রিলিফ ( টি আর ) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির (কাবিখা সর্বশেষ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্যে বরাদ্দকৃত চাল ও গমের টাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের নামে উত্তোলন করা হলেও অনেক প্রকল্পেই কোনো কাজ হয়নি। প্রকল্পের চাল ও গমের ডিও বিক্রি করে নগদ টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন উপজেলার পি আইও,নির্বাহী কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতারা ।

কক্সবাজার ৪টি আসনের স্ব স্ব সংসদ সদস্যেরা বরাদ্দকৃত কাবিখা এবং টিআর প্রকল্পের কাজ না করেই কিছু দলীয় নেতা কর্মীদের ভূয়া প্রকল্পের নামে বরাদ্দ দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে জনসাধারনের অভিযোগ।জেলায় কাবিখা প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দকৃত গম প্রকাশ্যে চলে গেছে কালো বাজারি সিন্ডিকেটের কব্জায়। এসব গম সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ট্রাকে সরাসরি চলে গেেছ কালোবাজারিদের গুদামে। সরকারি নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে জেলা সদরসহ ৭ উপজেলাতেই অধিকাংশ প্রকল্পের নাম মাত্র কাজ করনো হয়েছে টাকার বিনিময়ে। বরাদ্দকৃত কোটি কোটি টাকার গম বিক্রি করে দেয়া হয় কালোবাজারিদের কাছে। শতভাগ মাটি কাটা দেখিয়ে ভূয়া টিপসহি সহ জাল মাষ্টার রোল পিআই ও অফিসে জমা দিয়ে বরাদ্দের প্রায় সবগম ছাড়িয়ে নেয়া হয়।একই মসজিদ ও প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক প্রকল্প দেখিয়ে পুরো প্রকল্পটিই হরিলুট করেছ।এ ব্যাপারে জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,যদিও সরকার এ সব প্রকল্প টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মানের লক্ষ্যে,দুর্যোগ ব্যস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের সামাজিক কর্মসূচিকে প্রাধান্য দিয়ে বাস্তবায়ন করে যাচচ্ছে গ্রামীণ জীবনের অবকাঠামো, বিগত ৫বছরে গ্রামীণ অতিদরিদ্র ৯৩লাখ ৬১হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে উন্নয়ন ও সম্পদ সৃষ্টি করেছে সরকার,১৯৭০সালে ঘুর্নিঝড়ে ৩লক্ষ মানুষ মারা গেলেও ২০০৯সালে প্রলয়কারী ঘুর্নিঝড় আইলায় মারা যায় ১০৯জন, যার ফলে মৃত্যুহার হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে।রুপকল্প ২০২১ সফল করতে চাইলে অবশ্যই সব বরাদ্দের এসব অনিয়ম দুর্নীতি প্রতিরোধ করা দরকার।জেলার দুর্নীতিপরায়ণ ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাদের সঠিক মনিটরিং রাখা ও একান্ত জরুরী। জনগন চায় সরকারি প্রকল্পের অর্থ যথাযথ ভাবে ব্যবহার করে বাসস্তবায়ন করা হোক।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.