সিটিনিউজবিডি :: পুলিশ চাইলে নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার অধিকতর তদন্ত করতে পারে। এ বিষয়ে পুর্ব অনুমতি লাগবে না বলে জানিয়েছেন আদালত।একই সঙ্গে মামলার চার্জশিটে ষড়যন্ত্রের ধারা যুক্ত হয়নি, এ ধারা যুক্ত করতে হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের দ্বৈত বেঞ্চ সোমবার সকালে এ আদেশ দেন।
এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মনিরুজ্জামান কবির ও বাদীপক্ষে আইনজীবী মন্টু ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবী মন্টু ঘোষ জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা চাইলে সাত খুন মামলার অধিকতর তদন্ত করতে পারবে। এ বিষয়ে আদালতের পূর্ব অনুমতি লাগবে না। এ ছাড়া মামলার চার্জশিটে ষড়যন্ত্রের ধারা যুক্ত হয়নি, এ ধারা যুক্ত করতে হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর সাত খুন মামলার অধিকতর তদন্ত চেয়ে করা আবেদনের আদেশের দিন পিছিয়ে আজ এ দিন ধার্য করেন আদালত।সাত খুন মামলার অধিকতর তদন্তের বিষয়ে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ নভেম্বর প্রথম দিনের, ১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দিনের ও ৬ ডিসেম্বর তৃতীয় দিনের মতো শুনানি নেন আদালত।
মামলার অধিকতর তদন্ত চেয়ে গত ২৩ নভেম্বর নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি হাইকোর্টে একটি ক্রিমিনাল রিভিশন আবেদন করেন। চার্জশিট দেওয়ার সময় সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন দেশের বাইরে ছিলেন উল্লেখ করে ওই আবেদন করা হয়।
জানা যায়, কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ২৮ এপ্রিল চার্জশিট দেওয়া হয়।
পরে সাত খুন মামলার বাদী কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি চার্জশিট নিয়ে বিচারিক আদালতে একটি নারাজি আবেদন করেন। ৯ নভেম্বর বিচারিক আদালত এ নারাজি আবেদন খারিজ করেন। পরবর্তী সময়ে বিচারিক আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে এবং মামলাটির অধিকতর তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে একটি ক্রিমিনাল রিভিশন আবেদন করেন তিনি।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহরণ করা হয়। ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ছয়জনের এবং ১ মে আরেকজনের লাশ পাওয়া যায়।
নিহত অপর ছয়জন হলেন— আইনজীবী চন্দন সরকার, নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম।
এ ঘটনায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ফতুল্লা মডেল থানায় নূর হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া, হাসমত আলী, আমিনুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ছাড়া চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল একই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একই থানায় আরেকটি মামলা করেন।
এদিকে চার্জশিট দেওয়ার সময় মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন বিদেশে থাকলেও বর্তমানে তিনি দেশের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ১২ নভেম্বর মধ্য রাতে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তাকে ফেরত পাঠায় ভারত।
৭ খুনের পর ভারতে পালিয়ে গিয়ে ধরা পড়েন নূর হোসেন।
