সিটিনিউজবিডি :: আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সেনাবাহিনী রাখার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। বিভিন্ন পৌর এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো ও নিয়ন্ত্রণে আছে উল্লেখ করে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় ঠিক করতে বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে তিন ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পৌর এলাকাগুলোর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক নয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে বৈঠকে জানিয়েছেন বিভিন্ন পৌর এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী রাখার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ৠাব-বিজিবি ও পুলিশ ফোর্স মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি ভালো।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কর্মকর্তারা বৈঠকে জানিয়েছেন, তেমন কোনো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নেই। নির্বাচনে পূর্ণ শৃঙ্খলা রয়েছে এবং থাকবে। পরিস্থিতি এখন ভালো। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার-প্রচারণা চলছে। কোনো কোনো জায়গায় দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সেদিকে নজরদারি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনাররা, ইসি সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, পৌর নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ভেদে ১৯ থেকে ২০ জন ফোর্স মোতায়েন করা হবে। এ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে তিন হাজার ৫৮৫টি। কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, এপিবিএন মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ভোটার এলাকায় ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, কোস্ট গার্ড- স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম হিসেবে মোতায়েন থাকবে। সবমিলিয়ে ৭০ হাজারের বেশি ফোর্স থাকছে এ নির্বাচনে।
সর্বশেষ ২০১১ সালের অষ্টম পৌরসভা নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিলো। এবার সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানো হবে কি-না, তা নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। তবে এখন পর্যন্ত সে পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সিইসি বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসের সমস্যা সাধারণ সমস্যা। মাঠ পর্যায় থেকে এ রকম কোনো সমস্যা এ নির্বাচনে নেই বলে জানানো হয়েছে বৈঠকে। কঠোর নজরদারির কারণে এসব সমস্যা বাড়তে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
