গোলাম শরীফ :: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। রায়ের পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন এ রায় সমগ্র জাতি ও বিচার প্রার্থীর প্রত্যাশা পূরণ করেছে।
তিনি বলেন, নিজামীর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে তার ফাঁসি বহাল রয়েছে।চতুর্থ অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়েছ।নিজামীর মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় জাতি স্বস্তি অনুভব করছে।বিচারপ্রার্থীরাও স্বস্তিবোধ করছে।তিনি বলেন,এই রায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়, এখানে সব সাক্ষীর সাক্ষ্য বিবেবচনায় নিয়ে আদালত রায় দিয়েছে।
নিজামীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, উসকানি, হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনার সব অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে।ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালতেও তা প্রমাণিত হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর আসামিপক্ষ যদি রিভিউ করে তাহলে তারা সেটা করতে পারেন। তবে রিভিউ না করলেও যে কোনো সময় সরকার রায় কার্যকর করতে পারে । সেখানে কোনো বাধা নেই।
বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ তিনটি অভিযোগে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। এবং অন্য তিনটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেন।
বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ তাঁদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করলে আদালত রায়ের জন্য ৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
নিজামীর বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং হত্যা-গণহত্যাসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ১, ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ১৬ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয় ট্রাইব্যুনালের রায়ে।
এরমধ্যে ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে নিজামীকে ফাঁসি এবং ১, ৩, ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। ৫ ও ৯ থেকে ১৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়।
