খালেদা জিয়ার জলাতঙ্ক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

0

ঢাকা অফিস : বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ‘জলাতঙ্ক’ রোগ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে মানুষ ছিলনা কুকুর ছিল খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই দিন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত অফিসার ছিল, মিডিয়ার লোকজনও ছিল, মানুষও ভোট দিতে গিয়েছিল। ‘জলাতঙ্ক’ রোগ হলে নাকি মানুষ চারপাশে শুধু কুকুর দেখে। ওনাকে কোন কুকুর কামড় দিল?

শনিবার (৯ জানুয়ারী) গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনায় তিনি আরো বলেন, কতবড় অডাসিটি, মানবসন্তান ও ভোটারদের তিনি কুকুর হিসেবে দেখলেন। এতবড় নোংরা কথা, জঘন্য কথা, গালি উনার মুখেই সাজে।

এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মানুষ পুডিয়ে মারে, ভোটারদের কুকুর বলে, তার জবাব জাতির কাছে একদিন দিতে হবে, তওবা করেন। মানুষকে কেন কুকুর বললেন? আমাকে বলেন ভাল কথা। আমার জনগণকে কেন গালি দিবেন? একজন রাজনৈতিক নেতা মানুষকে গালি দিতে পারেন, বিশ্বাস করা যায়না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পচাত্তরের পর জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর কমপক্ষে ৫৬৫ মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। দেশের বিভিন্ন কারাগারে প্রতি রাতে সেনা কর্মকর্তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে তখন। দেশে শুরু হয় ক্যু-পাল্টা ক্যু’র রাজনীতি। তিনি (জিয়া) যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় বসান, রাষ্ট্রপতি-মন্ত্রী-এমপি করেন। খালেদা জিয়াও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি দুর্নীতি-অনিয়ম, অত্যাচার-নির্যাতন চালায়। এর ফলে ১৯৯৬ সালে জনরোষে তারা ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হন। ১৫ ফেব্রুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন করেও তারা টিকে থাকতে পারেনি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে মেট্রোরেলের লাইন স্থাপনের প্রতিবাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনেরও কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, উন্নয়ন কাজে দয়া করে কেউ বাধা দেবেন না। উন্নয়নে বাধা দিলে মুখ থুবড়ে পড়তে হবে। মেট্রোরেলের জন্য পড়াশোনার ক্ষতি হবে না। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে রেললাইন গেছে। এই মেট্রোরেল আধুনিক প্রযুক্তির। এটা সাউন্ডপ্রুফ, শব্দদূষণ হবে না। মেট্রোরেলের আওয়াজে পড়ালেখায় ক্ষতি হবে- এই কথা ঠিক না। যদি পড়ালেখার ইচ্ছা থাকে, তাহলে ক্ষতি হবে কেন। ছুঁতো খোঁজার দরকার নেই। মানুষ ট্রেনে-বাসেও পড়াশোনা করে।

নতুন পে-স্কেল নিয়ে আন্দোলনরত কর্মকর্তাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেটে ক্ষুধা থাকলে আগে খাওয়ার কথা চিন্তা করে। এখন ক্ষুধা নেই বলে প্রেস্টিজের চিন্তা করছে। এই সরকার সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন শতভাগেরও বেশি বাড়িয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বোধহয় বেশি বাড়িয়ে ফেলেছি। ক্ষুধা মিটিয়েছি। তাই প্রেস্টিজ সামনে এসেছে।

বক্তব্যের শুরুতে আওয়ামী লীগের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ২০তম জাতীয় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ এবং তার প্রস্তুতির জন্য উপ-কমিটি গঠনের কথা বলেছেন তিনি।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.