জনতা ব্যাংকের ৯ কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

0

সিটিনিউজবিডি :: হলমার্ক কেলেঙ্কারির নন-ফান্ডেড অংশের (দ্বিতীয় অংশ) প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে জনতা ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজারসহ (জিএম) ৯ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে র‌বিবার সকাল থে‌কে তা‌দের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হ‌য়ে‌ছে। দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বাধীন এক‌টি টিম ওই ব্যাংক কর্মকর্তা‌দের জিজ্ঞাসাবাদ কর‌ছেন। পর্যায়ক্র‌মে এ জিজ্ঞাসাবাদ বি‌কেল পর্যন্ত চল‌বে ব‌লে দুদক সূ‌ত্রে জানা গে‌ছে।

যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হ‌চ্ছে তারা হলেন— জনতা ব্যাংক ভবন করপোরেট শাখার জিএম আব্দুছ ছালাম আজাদ, ডিজিএম এস এম আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ডিজিএম মো. আজমুল হক, এজিএম (অগ্রীম ও আইসিডি-২) মো. ফায়েজুর রহমান ভূঁইয়া, এজিএম আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, এসইও মো. সাখাওয়াত হোসেন, এসপিও জেসমিন আখতার, ইও জিনিয়া জেসমিন ও ইও জেসমিন খাতুন।

দুদক সূত্র জানায়, প্রায় পৌনে দুই বছর পর সোনালী ব্যাংকের হোটেল শেরাটন শাখা থেকে হলমার্ক গ্রুপসহ ৬টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইস্যুকৃত ব্যাংক-টু-ব্যাক এলসি’র বিপরীতে প্রদত্ত এক্সেপ্টেন্স তথা নন-ফান্ডেড দায় সংক্রান্ত এ অভিযোগের অনুসন্ধান কাজ শুরু করল দুদক। এ জালিয়াতি কমিশনের ‘সিডিউলভুক্ত অপরাধের’ তালিকায় থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘদিন এ অনুসন্ধান কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সম্প্রতি নতুন করে অনুসন্ধান টিম পুনর্গঠনের পর এ অনুসন্ধান পুনরায় শুরু করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, হলমার্ক ও তার পাঁচ সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফান্ডেড, নন-ফান্ডেডসহ মোট তিন হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রয়েছে। এর মধ্যে ফান্ডেড অংশের তদন্ত শেষ করেছে কমিশন। এ অংশে দায়ের করা মোট ৩৮টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মামলাগুলোর চার্জশিট ইতোধ্যেই আদালতে দাখিল করেছে কমিশন।
আর হলমার্কের নন-ফান্ডেড অংশের সঙ্গে ৩৭টি ব্যাংকের ১২০টি শাখায় সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ সব ব্যাংক থেকে হলমার্ক নগদ হাতিয়ে নিয়েছে এক হাজার ৫৩৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

নন-ফান্ডেড অংশের জালিয়াতিতে আক্রান্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সরকারি সাতটি, বেসরকারি ২৫টি ও বিদেশি পাঁচটি ব্যাংক রয়েছে। এসব ব্যাংকর সঙ্গে হলমার্ক সুতা, তুলা, ফেব্রিক্স এবং এক্সেসরিস সরবরাহ করেছে মর্মে জালিয়াতি করা হয়েছে।

সরকারি সাত ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে— অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক, কৃষি, সোনালী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।
বেসরকারি ২৫টি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে— প্রিমিয়ার, ব্র্যাক, ন্যাশনাল, ইউসিবিএল, ওয়ান, সিটি, উত্তরা, প্রাইম, ইসলামী, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, মার্কেন্টাইল, যমুনা, শাহজালাল, আল-আরাফা, সাউথইস্ট, এনসিসি, এসআইবিএল, এক্সিম, আইএফআইসি, ট্রাস্ট ব্যাংক, পূবালী, ডাচ্-বাংলা, ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও এবি ব্যাংক।

বিদেশি ৫টি ব্যাংকের মধ্যে রেয়েছে— স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক লিমিটেড, ব্যাংক আল-ফালাহ লিমিটেড ও এইচএসবিসি ব্যাংক লিমিটেড।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.