খেলাধুলা: বাছাই পর্ব উতরাতে পারলে এই এশিয়া কাপেই বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের দেখা হয়ে যেতে পারে। এই পর্যায়ে অবশ্য সেটি শুধু সম্ভাবনাই। তবে আগামী ১৩ মার্চ ধর্মশালায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের ম্যাচে ওমানের বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়াটা নিশ্চিতই। সেই ম্যাচে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল নিশ্চিত এক ধকলের মুখেও পড়তে যাচ্ছে বলে দাবি সুফিয়ান মেহমুদের, ‘দেখবেন, ওই ম্যাচে আমাদের মালিঙ্গা বাংলাদেশকে কেমন ভোগায়!’ সুফিয়ান নিজেও একজন পেসার। দলে পেসার-স্পিনার মিলিয়ে বোলার আরো অনেকেই আছেন। তবে সুফিয়ানের মতো অন্যরাও নিজেদের বোলিং আক্রমণের পুরোভাগে রাখেন ‘আমাদের মালিঙ্গা’কেই। এই নামের অর্থোদ্ধার করতে সমস্যা হওয়ার কথা নয় কারোরই। শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গার মতো অদ্ভুত ‘স্লিঙ্গি’ অ্যাকশনের জন্যই আসলে ‘ওমানের মালিঙ্গা’ বনে গেছেন মুনিস আনসারী।
সুফিয়ান জানিয়ে রাখতে চাইলেন মিলটা শুধু অ্যাকশনেই নয়, ‘ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির ম্যাচে ওকে ভালোভাবে সামলাতে হলে কিন্তু বিশেষ পরিকল্পনা করেই নামতে হবে বাংলাদেশকে।’ গতির পাশাপাশি যাঁর বোলিং বৈচিত্র্য নিয়েও উচ্ছ্বসিত ওমানের অধিনায়ক সুলতান আহমেদ, ‘ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির বাছাই পর্বের সময় স্পিড গানে ওর গতি ঘণ্টায় ১৪১ কিলোমিটারও উঠেছে কখনো কখনো। ওর বোলিংয়ে গতির সঙ্গে আছে বৈচিত্র্যও।’ দুয়েমিলে র্যাংকিংয়ে সবচেয়ে নিচের দিকে থাকা দল হয়েও ওমানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্বপ্নপূরণের পেছনেও মুনিস আনসারীর অবদানের কথা বলতে ভোলেন না তাঁর অধিনায়ক, ‘‘আমাদের দলের কথা বলতে গেলে ‘মালিঙ্গা’র নাম নিতেই হবে। বাছাই পর্বে নেদারল্যান্ডসকে প্রায় একাই ধসিয়ে (৪ উইকেট নিয়ে) দিয়েছিল। আর নামিবিয়াকে হারিয়ে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি নিশ্চিত করা ম্যাচেও দুর্দান্ত পারফর্ম (২৩ রানে ৩ উইকেট) করেছিল মুনিস।’’ অধিনায়ক আর সুফিয়ানের সঙ্গে যখন তাঁকে নিয়ে বাক্যালাপ চলছে, তখন ফতুল্লায় নির্ধারিত অনুশীলনে যাওয়ার জন্য গতকাল দুপুরে হোটেল লা মেরিডিয়ানের লবিতে ওমানের ক্রিকেটাররাও নেমে আসছিলেন একে একে। সেখানে মুনিসকে দেখেই চিনিয়ে দিতে দেরি করলেন না সতীর্থ সুফিয়ান, ‘ওই তো মালিঙ্গা।’
নামকরণের কারণ যেমন দিব্যি অনুমান করা যায়, তেমনি অনেকে হয়তো এর মধ্যেই ধরে নিয়েছেন যে শ্রীলঙ্কার মালিঙ্গাকে দেখেই ওরকম অ্যাকশনে অভ্যস্ত হয়েছেন মুনিস। নিজের সম্পর্কে সেই ভুলটিই আগে ভাঙতে উদ্যোগী হলেন ডানহাতি এ পেসার, ‘শ্রীলঙ্কার মালিঙ্গা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসার আগেই আমার অ্যাকশন এ রকম। ছোটবেলা থেকে এই অ্যাকশনেই বোলিং করে আসছি।’ আর ওমান দলের অন্যদের মতো মুনিসেরও আছে ভারত কিংবা পাকিস্তানি যোগসূত্র। মুনিসের জন্মই যেমন ভারতের মধ্যপ্রদেশে। সতীর্থ পেসার সুফিয়ানের জন্ম ওমানে হলেও তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূতই। অধিনায়ক সুলতানের জন্ম পাকিস্তানের করাচিতে।
নিজের দেশে খেলেছেন এমনকি ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটও। ২০০০ সালে এক প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক চাকরি নিয়ে ছুটে যাওয়া ওমানে। স্থানীয় লিগে ওই প্রতিষ্ঠানের ক্রিকেট দলও থাকায় সমানতালে চলছিল খেলাও। একসময় চাকরি স্থায়ী হওয়ায় থেকে যান ওমানেই। দেশটির ক্রিকেট দলটিও তাঁর মতো চাকরিজীবীদেরই দল। পেশাদার ক্যারিয়ার শেষে এই দলের প্রধান কোচ দীলিপ মেন্ডিস, বোলিং কোচ রমেশ রত্নায়েক এবং স্পিন বোলিং কোচ সুনীল যোশীরা এখনো পেশাদার। অথচ ওমানের খেলোয়াড়রা? সুফিয়ানের জবাব, ‘আমরা সবাই অপেশাদার ক্রিকেটার।’ এই পেসারও যেমন চাকরি করেন, ‘আমি একটি ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিপণন কর্মকর্তা। এখন দেড় মাসের ছুটিতে আছি।’ ছুটিতে আছেন আরেক প্রতিষ্ঠানের সেলস অফিসার মুনিসও। যাঁর বোলিং নিয়ে বাংলাদেশকে ভোগানোর স্বপ্ন দেখা ওমানের স্বপ্নের পরিধি কিন্তু ওখানেই সীমিত নয়। ধর্মশালায় তাদের পক্ষে এমনকি অঘটনের জন্ম দেওয়াও অসম্ভব নয় বলে মনে করছেন সুফিয়ান। ‘টিম স্পিরিট আমাদের মূল শক্তি’—এভাবে যখন নিজ দলের শক্তির জানান দিচ্ছেন, তখন হোটেলের লবিতে ফতুল্লার অনুশীলনে যাওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ আজকের ম্যাচে ওমানের প্রতিপক্ষ হংকংয়ের ক্রিকেটাররাও। তত্ক্ষণাৎ সুফিয়ানের যুক্তি হয়ে গেলেন ওই ক্রিকেটাররাই, ‘হংকং কি গত ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে হারায়নি? ওরা যদি পেরে থাকে, তাহলে আমরা কেন পারব না?’ পারতে হলে ধর্মশালায়ও নিশ্চয়ই মুনিসের কাছ থেকে বিশেষ কিছুই চাইবেন ওমান অধিনায়ক। বাছাই পর্বে যে চাওয়ার পুরোটাই মিটিয়ে প্রথম স্বপ্নপূরণে অগ্রযোদ্ধাও তো ছিলেন এই ‘ওমানের মালিঙ্গা’ই!
