সিটিনিউজবিডি: পঞ্চগড়ে পুরোহিতকে গলা কেটে হত্যার পর এবার মন্দির ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। আটোয়ারী উপজেলার একটি হরি মন্দিরে দুর্বৃত্তরা রাতের বেলা হামলা চালিয়ে মন্দিরের গম্বুজ ভেঙ্গে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় হিন্দু অধিবাসীরা।
আজ বুধবার সকালে স্থানীয়রা ওই মন্দিরের একটি ছোট গম্বুজ ভাঙা অবস্থায় দেখে। এ ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বীরা ধারণা করছেন, দুর্বৃত্তরা ইচ্ছাকৃতভাবেই মন্দিরের ওই গম্বুজটি ভেঙে দিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, সনাতন ধর্মালম্বীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই কেউ এ কাজ করে থাকতে পারে। এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে সনাক্ত ও আটক করতে পারেনি।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার একটি গৌড়ীয় মঠের প্রধান পুরোহিত হত্যার তিনদিন পরেই মন্দির হামলার এই ঘটনা ঘটলো। আজ বুধবার সকালে আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখোলা ইউনিয়নের মোলানি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মন্দির কমিটির সভাপতি হিরেন চন্দ্র রায় জানান, ‘প্রায় শতাধিক পরিবার এই মন্দিরে পুজো অর্চনা করে থাকে। স্থানীয় মুসলীমদের তাদের সম্পর্ক ভালো।
তবে একটি গোরস্থানের জমি নিয়ে গত কয়েক বছর থেকে মুসলমানদের সঙ্গে সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মন্দির ভেঙ্গে ফেলার পেছনে এটাও কারণ হতে পারে।’ খবর পেয়ে আটোয়ারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। বর্তমানে ওই মন্দির এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বীরা অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এভাবে চলতে থাকলে পূজা অর্জনা বন্ধ করে দিতে হবে বলে তারা মনে করছেন।
পুলিশ জানায়, শ্রী শ্রী হরি মন্দিরটি ১০ থেকে ১২ ফুট চওড়া, ওই মন্দিরের ছাদের মাঝখানে একটি বড় গম্বুজ রয়েছে। বড় গম্বুজের পাশ ঘিরে চার কোণায় আরও চারটি ছোট গম্বুজ রয়েছে। ছোট গম্বুজগুলো উচ্চতায় ২ থেকে ৩ ফুট এবং ১ ফুট চওড়া। সামনের বাম দিকের গম্বুজটি ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শ্রী শ্রী হরি মন্দিরটি ১৯৬১ সালে নির্মাণ করা হয়। ওই মন্দিরের ভেতরে রাধাকৃষ্ণের দুটি প্রতীমা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাপাতা এলাকায় চতুর্থ চীন মৈত্রী সেতু সংলগ্ন শ্রীশ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের প্রধান পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর দাসাধিকারীকে (৫০) গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় গুরুতর আহত হন আরও দুই পূজারি।
