জিয়া মহিলা কলেজে মুখ থুবড়ে পড়েছে শিক্ষার মান

ফেনী: ফেনী সরকারি জিয়া মহিলা কলেজে শিক্ষক ও একাডেমিক ভবন সঙ্কটে মুখ থুবড়ে পড়েছে শিক্ষার মান। সীমিত সংখ্যক শ্রেণি কক্ষ হওয়ায় ছাত্রীদের নিয়মিত গাদাগাদি করে বসে আর পেছনে দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে হয়। এতে করে ছাত্রীরা ক্লাসে না বুঝে যেমন প্রাইভেট নির্ভর হচ্ছে, তেমনি ফলাফলও খারাপ করছে। গত বছরে এইচএসসি পরীক্ষায় ৮৫৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২৮২ জন ফেল করেছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি জিয়া মহিলা কলেজের ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পাশাপাশি রয়েছে স্নাতক, স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর।  ৪৩টি শিক্ষক পদ থাকলেও এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অর্ধেক পদই শূন্য। অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের এক-দুটি করে পদ খালি থাকলেও প্রভাষকের ২৬টি পদের মধ্যে ১৬টি পদই শূন্য।

এছাড়া তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ১০টি পদের ৬টি পদই শূন্য। গ্রন্থাগারিক, প্রদর্শক পদও খালি। এছাড়া ক্রীড়া শিক্ষকের পদ একদমেই নেই। বিজ্ঞান ভবন নামে একটি ভবনেই ৩ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান চলে। এতো সীমাবদ্ধতার পরে ছাত্রীদের বিনোদনের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাচ গানসহ পিঠা উৎসব আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

একাদশ শ্রেণির জাইমা সুলতানা, সাইমা আফরিন, নুসরাত নিশাত জানিয়েছেন, শিক্ষক ও একাডেমি ভবন সঙ্কটের কারণে তাদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নেই, নেই প্রদর্শকও।

শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ড. একেএম এমদাদুল হক জানান, ছাত্রী নিবাসের অবস্থা খুবই নাজুক। একশ ছাত্রী থাকার কথা থাকলেও সেখানে রয়েছে দেড়শ ছাত্রী। প্রত্যেক কক্ষে ৪ জনের পরিবর্তে রয়েছে আট থেকে দশ জন করে। খাটে বসে পাঠদান করতে সমস্যা হয় তাদের। এছাড়া টয়লেটের অবস্থা আরো নাকাল।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফাতেমা আফরোজ জানান, শিক্ষক সঙ্কট ও একাডেমিক সঙ্কটের কারণে ছাত্রীদের পড়ালেখার চরম ক্ষতি হচ্ছে। পাঠদান ব্যাহত হওয়ার কারণে ফলাফলেও বিপর্যয় হচ্ছে। ক্লাস করতে না পারায় ছাত্রীরা প্রাইভেট নির্ভর হচ্ছে। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক স্বল্পতার কথা জানিয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.