নাটোর প্রতিনিধি : নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) পাঁচ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অনাদায়ে তাঁদের আরও এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।দীর্ঘ ১১ বছর বিচার–প্রক্রিয়া শেষে গতকাল সোমবার দুপুরে নাটোরের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। নাটোরের আটটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে বোমা বিস্ফোরণের মামলায় তারা আসামী ।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন নওগাঁ সদর উপজেলার কাজির মোড়ের হাফিজুর রহমান ওরফে নোমান (৩০), নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খোলাবাড়িয়ার দেলোয়ার হোসেন (৩০), রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার গোগ্রামের সিহাব উদ্দিন (৩০), বাগমারা উপজেলার হামিরকুশা গ্রামের আবদুল মতিন (৩০) ও বগুড়ার গাবতলী উপজেলার চকজাদু গ্রামের আবদুর রশিদ ওরফে আশিক (৩৩)।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত খালাস দিয়েছেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের শহিদুল ওরফে ফারুক (৩৬) ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ইটাগাছা গ্রামের শফিউল্লাহকে (৩২)।
আর অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় জামালপুর সদর উপজেলার চরসী খলিফাপাড়ার আবদুল্লাহ ইবনে ফজলের ছেলে শায়খ মো. আবদুর রহমান, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার চুনিপাড়া গ্রামের নাজির হোসেনের ছেলে সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই ও নাটোরের সিংড়া উপজেলার কালীগঞ্জ গ্রামের হামিদ আলীর ছেলে আবদুল আউয়ালকে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের মামলাটি থেকে অব্যাহতি দেন আদালত।
নাটোরের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক প্রদীপ কুমার রায় দুপুর ১২টার সময় রায় পড়ে শোনান। এ সময় আসামি তারেক ছাড়া অন্যরা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বিচারকের কাছে জানতে চান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে যে হাজতবাস করেছেন তা দণ্ডের ভেতর থেকে বাদ যাবে কি না। আদালত এ ব্যাপারে পরে মতামত জানাবেন বলে জানান। এরপর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের নাটোর কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জেএমবির সদস্যরা নাটোরের আদালত চত্বর, উকিল বার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ট্রেজারি অফিস, নাটোর প্রেসক্লাব, বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশন এলাকায় একযোগে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় নাটোর সদর থানায় মামলা করে পুলিশ। তদন্ত শেষে নাটোর সদর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান ২০০৫ সালের ১০ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.