সিটিনিউজবিডি : গৃহকর্মী শিশুদের বেশির ভাগ সহ্য করতে হয় মানসিক, শারীরিক ও যৌন নির্যাতন। অনেক শিশুদের বেশির ভাগকেই কাজ করতে হয় ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা চাইল্ড ডমেস্টিক ওয়ার্কার্স’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে। কাজের বিনিময়ে তারা যে বেতন পায়, তা-ও নিয়ে নেন মা-বাবা। চার দেয়ালের ভেতর ঘটনাগুলো ঘটে বলে তা প্রায় ক্ষেত্রেই থাকে নজরের বাইরে।
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ল্ড ভিশন, টেরে ডেস হোমস নেদারল্যান্ডস, এডুকো ও গ্লোবাল মার্চ যৌথভাবে এই গবেষণা পরিচালনা করে। গাজীপুর, নরসিংদীসহ দেশের সাত বিভাগের ১০টি শহরে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়।
জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল বুধবার গবেষণা প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন গবেষণা দলের একজন অধ্যাপক রিয়াজুল করিম। আরেক গবেষক অধ্যাপক আহমদুল্লাহ মিয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। গবেষণায় ১ হাজার ২৬০ জন শিশুর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এদের ৯০ শতাংশই মেয়েশিশু। গড় বয়স ১৩ দশমিক ৫ বছর। তাদের ৭৫ শতাংশেরই বেতন নিয়ে যান তাদের মা-বাবা। এক-চতুর্থাংশের বেশি শিশু বলেছে, কাজ করতে গিয়ে তারা নানা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। অর্ধেক শিশু বলেছে, তারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার। ৭৫ শতাংশই কাজে খুশি নয়। ৯০ শতাংশ শিশুর কাজ শুরু হয় সকাল সাতটায়, শেষ হয় রাত ১২টায়। গত বছরের ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
গবেষণার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে রিয়াজুল করিম বলেন, ৪০ শতাংশ গৃহকর্মী শিশু তার গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীর সামনে কথা বলতে বাধ্য হয়। গবেষণায় ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু যৌন নির্যাতনের কথা বলার সুযোগ পায়। ২৫ শতাংশ বলেছে, তাদের অনেক কাজ করতে হয় ও অনেক বেশি সময় দিতে হয়। ফলে তাদের কোনো অবসর মেলে না।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, গৃহকর্মী শিশুদের ‘অদৃশ্য দাসত্ব’ বা তাদের অবস্থান বোঝানোর জন্য এই শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল। গবেষণায় তা করা হয়নি। গবেষণা অনুযায়ী ৫৬ শতাংশ শিশুরই মা-বাবা আছেন। তাহলে এই শিশুদের তাঁরা কেন গৃহকর্মের জন্য পাঠালেন? এই শিশুরা ছুটিতে বাড়িতে থাকা অবস্থায় কথা বললে তারা মনের কথাগুলো বলতে পারত।
আরেফিন সিদ্দিক শিশুদের দেখভাল ও সুরক্ষার জন্য সরকারের আলাদা অধিদপ্তর গঠন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপারসন এমরানুল হক চৌধুরী, পরিচালক আবদুস সহিদ মাহমুদ, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, এডুকোর দেশীয় পরিচালক নিজামুদ্দিন, টেরে ডেস হোমসের দেশীয় পরিচালক মাহমুদুল কবির, ওয়ার্ল্ড ভিশনের ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর সাবিরা সুলতানা বক্তব্য দেন।সুত্র – অনলাইন প্রথম আলো
এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.