ঈদকে সামনে রেখে কক্সবাজারে কামার শিল্পীদের ব্যস্ততা

0

ককসবাজার প্রতিনিধি : পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ককসবাজার শহর ও উপজেলা গুলোতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কামারেরা। দম ফেলবারও সময় নেই তাদের। দিন-রাত টুং টাং শব্দ আসছে কামারের দোকান থেকে। আর কদির পর মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস টুকরো করার জন্য দা,কাটারী, ছুরি অপরিহার্য। আর এ কাদারী, দা ও ছুরি তৈরি করে কামারশিল্পীরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাজারঘাটা, কালুর দোকান, বাহারছড়া, বিমানবন্দর, বাস টার্মিনাল, বড় বাজার, চাঊলবাজার, পান বাজার সড়ক হাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বটি, ছুরি, কাটারি, দা, বেকি, কুঠার, খুন্তা ও লাঙ্গলের ফলাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বানাচ্ছে কামাররা। এসব ব্যবহার্য জিনিস স্থানীয় চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে পাইকারী ব্যবসায়ীরা। ককসবাজার থেকে লোহা কিনে সেগুলো আগুনে পুড়ে বটি, ছুরি, কাটারি, দা, বেকি, কুঠার, খুন্তা ও লাঙ্গলের ফলাসহ বিভিন্ন জিনিজপত্র তৈরি করছে কামাররা। বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামারশিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে এ শিল্প।
মহেশখালি উপজেলার হিন্দুপাড়া গ্রামের কামারশিল্পী কর্মকার জানান, এক সময় কামারদের যে কদর ছিল বর্তমানে তা আর নেই। মেশিনের সাহায্যে বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে ফলে আমাদের তৈরি যন্ত্রাদির প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হারাচ্ছে। হয়তবা এক সময় এই পেশা আর থাকবেনা।
খরুশকুলের রনজিৎ কর্মকার বলেন, আমার বাপ-দাদার মূল পেশা ছিল এটা। তারা গত হওয়ার পর ওই সূত্রে ধরে আমার জীবনেরও শেষ মূহুর্তে এই পেশা ধরে রেখেছি। সারা দিন চাকু, বটি, কাটারী তৈরি করে যা আয় হয় তা দিয়েই পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে বাঁচি। কেন না এই পেশা ছেড়ে অন্য কোন ভাল পেশায় যাব এই রকম আর্থিক সংগতি আমার নেই। আমাদের পূর্ব পুরুষরা এই কাজ করে আসছে সারা বছর তেমন কাজ হয়না। কোরবানি আসলে আমাদের ভাল কাজ হয় যা দিয়ে সারা বছর চলার জন্য কিছু আয় করে রাখি।
ককসবাজার শহরের কালুর দোকানের রাজিব বলেন, এই পেশায় আমরা যারা আছি খুবই অবহেলিত। এই পেশায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। কোরবানি ঈদ আসলে কিছু টাকা আয় করতে পারি। তবে সরকারি ভাবে এবং এনজিওর মাধ্যমে আমাদের কামাদেরকে সুদ মুক্ত ঋন দিলে পাইকারি মূল্যে উপকরণ কিনতে পারলে অবশ্যই এই দেশীয় কামার শিল্প পূর্বের ন্যায় ঘুড়ে দাড়াবে। সচেতন মহল মনে করেন কামারদের সরকার কিছু আর্থিক সহযোগীতা প্রদান করা দরকার তা না হলে হয়ত এই শিল্পী একদিন তার ঐতিহ্য হারাবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.