অনলাইন ডেস্ক : ইয়াহু মেইল প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আশঙ্কায় অনেকেই তড়িঘড়ি করে ইয়াহু অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছেন। ইয়াহু মেইল হ্যাকিংয়ের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ২৩ সেপ্টেম্বর বিশেষজ্ঞরা ইয়াহু মেইল ব্যবহারকারীদের সতর্ক করেন। তাঁরা দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের কথা বলেন। শুক্রবার থেকেই ইয়াহু অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার হার বেড়ে গেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
২২ সেপ্টেম্বর ইয়াহু কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে, ২০১৪ সালে ইয়াহুতে বড় ধরনের হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে। এতে ৫০ কোটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও এনক্রিপটেড পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার প্রায় দুই বছর পর ইয়াহু হ্যাকিংয়ের ঘটনা জানানোয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেকেই ইয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়েন এবং ইয়াহু অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
ফ্লোরিডায় ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী রিক হলিস্টার (৫৬) বলেন, ‘আমরা সবাই ইয়াহু অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছি। বিষয়টি অবশ্যই তাদের আগে জানানো দরকার ছিল।’
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, হ্যাকিংয়ের আকার ও পাসওয়ার্ড রিসাইকেল পদ্ধতির কারণে পুরো ইন্টারনেটের ওপর এই হ্যাকিংয়ের ঘটনা প্রভাব ফেলতে পারে।
অনেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীই বলেছেন, তাঁরা দ্রুত ইয়াহুর আইডি-পাসওয়ার্ড ছাড়াও অন্যান্য অ্যাকাউন্টের তথ্য হালনাগাদ করেছেন। তা না হলে ব্যাংকিং তথ্যসহ আর্থিক বিষয়গুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
শুধু ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টেই নয়, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও ইয়াহু মেইলের ব্যবহার নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়ে গেছে। দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
এদিকে ইয়াহুর গাফিলতির অভিযোগে ইয়াহু ব্যবহারকারীদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসের ফেডারেল আদালতে একটি মামলা করেছেন রোনাল্ড সাচওয়াজ নামের এক ব্যক্তি।
হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার ঘটনায় ভেরিজনের কাছে ৪৮০ কোটি মার্কিন ডলারে ইয়াহু বিক্রি হওয়ার বিষয়টি আরও জটিলতার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
