পদ্মায় দৃশ্যমান হয়েছে মূল সেতুর পিলার

0

সিটিনিউজবিডি : প্রথম শুরু হওয়া পদ্মা সেতুর মূল পাইলিংয়ের কাজ এগিয়ে চলছে। ৩ মিটার ব্যাসের ৪শ’ ফুট দীর্ঘ পাইলটির ৪০ ফুট ভেতরে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে নদীর মাঝে মাঝে চলছে ড্রেজিং ও পিলার পাইলিং এর কাজ।

চিনের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহর মধ্যে দু’টি পিলারের ওপর স্প্যান গার্ডার বসিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে পদ্মা নদীর ওপরে সেতু আকৃতি স্পষ্ট হবে।

তাতে পিলারের ওপর ভর করে দাঁড়াবে স্বপ্নের পদ্মাসেতু। এভাবে একটির পর একটি করে মোট ৪২টি পিলারের ওপর ১৫০ মিটার দীর্ঘ ৪১টি স্প্যান (মাওয়া থেকে জাজিরা পর্যন্ত) দিয়ে গড়ে উঠবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা বহুমুখী সেতু।

বর্তমানে মাওয়ায় পদ্মাতীরের অদূরে ট্রাস ফেব্রিকেশন ইয়ার্ডে সেতুর উপরিভাগের (স্প্যান) জয়েন্টের কাজ চলছে। কংক্রিট দিয়ে তৈরি না করে ওজন কমাতে এই সেতুটির মূল অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে স্টিল দিয়ে। তীব্র বায়ু প্রবাহ ও ভূমিকম্পজনিত ধাক্কা মোকাবেলায় বেছে নেওয়া হয়েছে ওয়ারেন ট্রাস ফর্ম। চিন এবং বাংলাদেশের শ্রমিকরা যৌথভাবে সেতুর জয়েন্ট, সেকশন, গার্ডার, টপকর্ড ও বটমকর্ড অংশের কাজ নিয়ে ব্যস্ত।

পদ্মাসেতু প্রকল্পের (মূল সেতু) নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মোঃ আবদুল কাদের জানান, এ পর্যন্ত ৩টি স্প্যান চিন থেকে এসেছে। যেগুলো মাওয়া অংশে ওয়ার্কশপে জয়েন্ট দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একটির কাজ শেষ হয়েছ মাত্র। অন্যটির কাজ চলছে। সেতুর নকশা পরিকল্পনা অনুযায়ী উপরের অংশের সোনালি রঙের দু’টি স্প্যানের মধ্যে ৩৪টি জয়েন্ট হবে। ওয়ার্কশপে এখন পর্যন্ত ৪টি জয়েন্টের কাজ শেষ হয়েছে।

তিনি জানান, একেকটি জয়েন্টের ওজন ৪৮ থেকে ৬০ টন। পদ্মাসেতুর প্রতিটি পিলারে ছয়টি করে মোট ২৪০টি পাইল থাকবে। আর দুই প্রান্তে আরও ১২টি করে ২৪টি পাইল থাকবে।

দেওয়ান কাদের আরও জানান, যে দু’টি স্প্যানের কাজ চলছে সেগুলো মাওয়া অংশের ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের মাঝামাঝিতে আর আরেকটি স্প্যান ৩৭ ও ৩৮ এর মাঝামাঝি বসবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মা নদীর মাঝে কয়েকটি পিলার দৃশ্যমান হয়েছে। নতুন আরও কয়েকটি পিলারের কাজ চলছে। তবে সংযোগ সেতুর কিছু কাজ উদ্বোধনের ঠিক আগে শেষ করা হবে, যাতে ফিনিশিং সুন্দর হয়। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে দেশের অন্য জেলাগুলোর যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক এগিয়ে যাবে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে। বাড়বে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.