মো: সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি : রাঙামাটির বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী দপ্তর থেকে অবসরপ্রাপ্ত অনেক প্রবীণরা রয়েছে এই শহরে। তাদের এই অবসর সময় কাটানোর জন্য কোন প্রকার স্থান নেই। যাও ২০০২ সালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মানিক লাল দেওয়ান শহরের তবলছড়ি প্রাণী সম্পদ হাসপাতালের সামনে প্রবীণ পার্ক নামে একটি পার্ক নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু তা আজ সঠিক রক্ষনাবেক্ষণ এর অভাবে জরাজীর্ন অবস্থা রয়েছে। এমনও সংবাদ পাওয়া গেছে সে স্থানে রাতের বেলা বখাটে ও মাদক সেবীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। শহরের কিছুটা ভিতরে এই পার্ক হওয়ায় এখানে অতি সহজে অসামাজিক কর্মকান্ড করা যায় বলে প্রতিনিয়ত এই স্থানটিকে ব্যবহার করছে শহরের কিছু তরুণ বখাটেরা।
রাঙামাটির প্রবীণ ব্যাক্তি অমলেন্দু হাওলাদার বলেন, আমরা যারা চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি আমাদের সময় কাটানোর জন্য তেমন কোন স্থান নেই। যাও একটি প্রবীণ পার্ক আছে তাও আজ বখাটেরদের দখলে। প্রশাসন ও জেলা পরিষদ যদি নজর দেয় তবে এই পার্কটিকে প্রবীণদের জন্য একটু বিশ্রাম ও বিনোদনের স্থান হিসাবে তৈরি করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, পার্কটি রাঙামাটি শহরের এক পাশে হওয়ার কারণে এখানে বনরুপার এই পাশ থেকে তেমন কোন প্রবীণ সেখানে যায় না। কিন্তু যদি এটিকে রক্ষনাবেক্ষন করে প্রবীণদের জন্য সুন্দর বিনোদনের ব্যবস্থা করে দেওয়া যায় তবে শহরের প্রতিটি স্থান থেকে প্রবীণরা সেখানে গিয়ে বিনোদন করার সুযোগ পাবে।
রাঙামাটি প্রবীণ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ধর্মজ্যোতি চাকমা বলেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদ এটাকে নির্মাণ করেছে তাই আমরা অনুরোধ করবো এই পার্ক জেনো তারা রক্ষনাবেক্ষন করে। পার্কে বখাটেদের আড্ডা বসে তাই আমরা প্রশাসনকে অনুরোধ জানাবো এই পার্ককে বখাটে মুক্ত করার জন্য তারা যেনো উদ্দ্যোগ গ্রহন করে। এছাড়া পার্কে অপর পাশে বেশ কিছু জায়গা বেদখল হয়ে গেছে, তা জেনো দখল মুক্ত করে পার্কের সুন্দয্য রক্ষা করা হয়।
তিনি আরো বলেন, আমরা চেষ্ঠা করছি এই পার্কটিকে রক্ষা করে এটাকে প্রবীণদের মিলন মেলায় তৈরি করতে। ইতোমধ্যে পার্কের পাশে একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, যে ভবনটি হবে প্রবীণদের বিনোদনের স্থান এবং প্রবীণ সংগঠনের অফিস। আমরা এখান থেকে সমাজিক উন্নয়ন মূলক বিভিন্ন কাজ করবো। প্রবীণ বয়সে এসে পাহাড়ের বুকে একটু শান্তির স্থান খুঁজে নিতে চান বলে জানান এই প্রবীণ।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য রেমনিআনা পাংখোয়া বলেন, রাঙামাটিতে প্রবীণদের জন্য কিছু করার উদ্দ্যোগ ইতিমধ্যে জেলা পরিষদ হাতে নিয়েছে। তার মধ্যে প্রবীণদের জন্য বিনোদনের একটি ভবনও নির্মাণ করা হচ্ছে। আশা করা যায় চেয়ারম্যান চীন সফর শেষ করে বাংলাদেশে এসে তার মেয়াদ কালের মধ্যে প্রবীণদের পার্ক এবং তাদের জন্য বিনোদনের স্থান নির্মাণ প্রসঙ্গে সঠিক প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
