রাগীব আলী ও ছেলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন

0

সিটিনিউজবিডি : সিলেটের তারাপুর চা বাগান দখলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি মামলায় শিল্পপতি রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার দুপুরে সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

আদালতের এপিপি মাহফুজুর রহমান জানান, জালিয়াতি মামলায় ১৪ জন সাক্ষী ছিলেন। তন্মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য আগেই গ্রহণ করা হয়েছিল। আজ আরো দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

মামলার পরবর্তী তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে, গত ৪ ডিসেম্বর আসামিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জালিয়াতি মামলায় পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। একই দিন প্রতারণার মাধ্যমে দেবোত্তর সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

প্রসঙ্গত, প্রতারণার মাধ্যমে সিলেটের তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ভূমি আত্মসাৎ এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির আলোচিত দুটি মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে-মেয়েসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গত ১০ আগস্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

স্মারক জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। প্রতারণার মামলায় রাগীব আলী, তার ছেলে আবদুল হাই, জামাতা আবদুল কাদির, মেয়ে রুজিনা কাদির, রাগীব আলীর আত্মীয় মৌলভীবাজারের দেওয়ান মোস্তাক মজিদ, তারাপুর চা বাগানের সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পরোয়ানা জারির পরপরই ছেলেকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান রাগীব আলী। তার আত্মীয় দেওয়ান মোস্তাক মজিদ গত ১০ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরে ১২ নভেম্বর রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাইকে জকিগঞ্জ সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই দিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। গত ২৪ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জ থেকে রাগীব আলীকে আটক করে সে দেশের পুলিশ। ওই দিনই তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলা দুটিতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ রাগীব আলীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। মামলার আরেক আসামি পংকজ কুমার গুপ্ত জামিনে রয়েছেন।

৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গার উপর তারাপুর চা বাগান পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। নব্বইয়ের দশকে জালিয়াতির মাধ্যমে এটি দখলে নেন রাগীব আলী।

এ নিয়ে চলা মামলার প্রেক্ষিতে আদালতে একটি রিট পিটিশনের ভিত্তিতে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি তারাপুরে রাগীব আলীর দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে রাগীব আলী গংদের বিরুদ্ধে মামলা দুটিকে সক্রিয় করার নির্দেশনাও দেন। ১০ জুলাই পিবিআই মামলার চার্জশিট দাখিল করে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.