চন্দনাইশে ঝগড়া-বিবাদের জের ধরে কোপাকুপি : স্ত্রী নিহত

0

নিজস্ব সংবাদদাতা,চন্দনাইশ : উপজেলার বৈলতলী জাফরাবাদ এলাকায় পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী-স্ত্রীর কোপাকুুপিতে স্ত্রী নিহত ও স্বামী আহত হয়। স্বামীকে মুমুর্ষ অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, মঙ্গলবার ১০ জানুয়ারি বেলা ১১ টায় উপজেলার বৈলতলী জাফরাবাদের নুরুল আলমের মেয়ে শাহীন আক্তার (৩৫) এর সাথে তার স্বামী ধোপাছড়ির মৃত টুনু মিয়ার ছেলে আবু তৈয়ব (৪০) এর মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়া-বিবাদের জের ধরে এক সময় উভয়ে দরজা বন্ধ করে একটি কক্ষে দা দিয়ে একে অপরকে কোপাকুপি করে। এতে স্বামী আবু তৈয়ব গুরুতর আহত হলেও স্ত্রী শাহীন আক্তার ঘটনাস্থলে মারা যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে শাহীন আক্তারকে মৃত অবস্থায় এবং তার স্বামী আবু তৈয়বকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে। আবু তৈয়বকে চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর, উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, স্বামী আবু তৈয়বের গলার বাম পাশে ও হাতে কাটা জখম হয়েছে। শাহীন আক্তারকে জবাই করা হয়েছে।

শাহীন বর্তমানে অন্তঃস্বত্বা। স্থানীয় চেয়ারম্যান আনোয়ারুল মোস্তফা চৌধুরী দুলাল জানান, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে একাধিকবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ নিয়ে বৈঠক হয়। জানা যায়, আবু তৈয়ব ৫/৬ বছর আগে বিদেশ থাকাকালীন স্ত্রীর নামে শ্বশুর বাড়ী জাফরাবাদ এলাকায় জায়গা ক্রয় করে। পরবর্তীতে বিদেশ থেকে এসে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার উর্ধ্বে খরচ করে আড়াই হাজার স্কয়ারফিট অত্যাধুনিক বাড়ী নির্মাণ করেন। এ বাড়ীর জায়গা আবু তৈয়বের নামে করে দেয়া নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়।

আরও জানা যায়, আবু তৈয়ব দীর্ঘ ১২ বছর পূর্বে তারই বড় ভাইয়ের স্ত্রী তিন সন্তানের জননী শাহীন আক্তারকে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়ী এলাকায় জায়গা করে বসতী স্থাপন করে। পরে আবু তৈয়বের ঘরে এক মেয়ে ও দুই জমজ ছেলে জন্ম নেয়। তাছাড়া শাহীন আক্তারের আগের ঘরের তিন সন্তানও তার সাথে চলে আসে। সেখান থেকে দুই ছেলেকে বিদেশ পাঠাই আবু তৈয়ব। দীর্ঘ ৫/৬ বছর ধরে আবু তৈয়ব কোন কাজ না করে ঘরে বসেই অলস জীবন যাপন করছে বলে জানান চেয়ারম্যান। সে সাথে নেশাদ্রব্য পান করার সাথে জড়িত রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, ঢাকায় ব্যাংক ডাকাতির মামলায় আবু তৈয়বকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছিল।

থানা অফিসার ইনচার্জ খন্দকার ফরিদ উদ্দিন বলেছেন, খবর পেয়ে তিনি, এস আই বাবুল মিয়া, এস আই রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে শাহীনকে মৃত অবস্থায় এবং তৈয়বকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তৈয়বকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আজ ১১ জানুয়ারি শাহীনের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হবে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.