সিটিনিউজ ডেস্ক::ইউরোপে সার্বিয়া ভেঙে বের হওয়া দেশ রিপাবলিক অব কসোভোকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, ‘এ প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের মধ্যদিয়ে কসোভোকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল বাংলাদেশ।’ তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ১১৩ টি দেশ কসোভোকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশ ১১৪ তম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিল।’
মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসির ৫৭টি দেশের মধ্যে ৩৬টি দেশ এরই মধ্যে কসভোকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এসব বিবেচনায় বাংলাদেশও এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
যুগোস্লাভিয়া থেকে বের হয়ে আলাদা রাষ্ট্র সার্বিয়া ভেঙে কসভোর জন্ম ২০০৮ সালে। পূর্ব ইউরোপের দক্ষিণ পূর্ব এলাকায় ১০ হাজার ৯০৮ বর্গকিলোমিটারের দেশটি স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে বেশ কয়েক বছর।
স্বাধীনতা ঘোষণা করে কসভো। কিন্তু জাতিগত সংঘর্ষ চলতে থাকে। ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডেটনে সম্পাদিত এক চুক্তির আওতায় বসনিয়ান যুদ্ধ শেষ হয়, কিন্তু কসভোতে সার্বদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলতে থাকে। এই সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের দেশসমূহ কসভোর জনগণকে সাহায্য ও সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসে। ১৯৯৯ সালের ২৪ এপ্রিল সার্ব বাহিনী কসভো থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ১৯৯৯-এর জুনে ওই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তি রক্ষার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।
২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কসভোর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারিক আদালত ২০১০ সালের ২২ জুলাই কসভোর স্বাধীনতা ঘোষণাকে সমর্থনীয় বলে অভিমত জানায়।
কসভোর এর লোক সংখ্যা ২০ লাখেরও কম। এদের মধ্যে ৯৩ শতাংশই মুসলিম। তারা প্রধানত আলবেনিয় ভাষায় কথা বলে।
বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যও কসোভোকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
