যা কামিয়েছেন, তা নিয়ে পালাবারও পথ খুঁজে পাবেন না: ফখরুল

0

সিটিনিউজ ডেস্ক::বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,‘টাকা-পয়সা যা কামিয়েছেন, তা নিয়ে পালাবারও পথ খুঁজে পাবেন না। দেশের ইতিহাস খুলে দেখলে এ রকম নির্যাতনের চিত্র কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। সাধারণ মানুষের ওপর এমন নিপীড়ন-নির্যাতন ইতিপূর্বে আর করা হয়নি।’

রবিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগর বিএনপির কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফখরুল এই মন্তব্য করেন। কর্মিসভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগ এখন ‘লুটপাট সমিতিতে’ পরিণত হয়েছে ।  উন্নয়নের নামে দলটির নেতারা দেশের টাকা লুটপাট করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ তার।‘আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বলতে শুরু করেছে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে হাওয়া ভবন নাকি তৈরি হবে।  আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, ১৯৭৪-৭৫ সালে যে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল তখন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী বলেছিলেন আওয়ামী লীগের নাম পাল্টে রাখা উচিত নিখিল বাংলাদেশ লুটপাট সমিতি। আজকে আওয়ামী লীগ একটা লুটপাট সমিতিতে পরিণত হয়েছে।’

উন্নয়নের নামে লুটপাট চলছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা ফ্লাইওভার বানাচ্ছে, উড়াল সেতু বানাচ্ছে, হোটেল মতিঝিল, হিরাঝিল অনেক কিছু বানাচ্ছে, অন্যদিকে হাওরের দিকে মানুষেরা না খেয়ে মারা যাচ্ছে। আর তারা লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। ২০১৪ সালে ৭৪ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে এই দেশ থেকে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকেরাই লুটপাট করছে, নেতারাই করছে। তারা লুট করে বিদেশে টাকা পাচার করে দিচ্ছে। অথচ তারা বলে সততার কথা। গোটা দেশকে একটা অন্ধকার কারাগারে পরিণত করেছে। যারা ভিন্নমত পোষণ করে, তাদেরকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চায়, এই হচ্ছে আওয়ামী লীগ। এই আওয়ামী লীগ যদি বেশিদিন ক্ষমতায় থাকে তবে এই দেশের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

ফখরুল বলেন, ‘তাদের লুটপাটের জবাবদিহিতা নেবার মতো কোনো বিরোধীদল নেই।  তথাকথিত গৃহপালিত বিরোধী দল আজ নাকি একটা জোট গঠন করেছে।  ৫৯টি দল নিয়ে এই জোট গঠন করেছেন। মহাজোটের মধ্যে থেকেই জোট গঠন করেছেন, জাতীয় পার্টি কিন্তু এখনো মহাজোটের মধ্যেই আছে। তারা জানে মহাজোট থেকে বেরিয়ে এলে তাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপির অস্তিত্ব নাকি নাই, তাহলে বিএনপি ফোবিয়াতে ভোগেন কেন?  আপনাদের কর্মকাণ্ডে কেন সারাক্ষণ বিএনপি ভীতি? দুঃস্বপ্ন দেখেন কেন?’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘টাকা-পয়সা যা কামিয়েছেন, তা নিয়ে পালাবারও পথ খুঁজে পাবেন না। দেশের ইতিহাস খুলে দেখলে এ রকম নির্যাতনের চিত্র কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। সাধারণ মানুষের ওপর এমন নিপীড়ন-নির্যাতন ইতিপূর্বে আর করা হয়নি।’

বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায় উল্লেখ করে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘আজকে দেশে আইন তৈরি করা হয়েছে নিজেদের জন্য, সংবিধান পরিবর্তন করেছেন সেটাও আপনাদের জন্যেই। আবার বলছেন এই সংবিধানের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। আরে নির্বাচন তো আমরা করতে চাই, আমরা নির্বাচনমুখী দল। কিন্তু সে নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করে রাখবেন, আপনারা যেন একাই খেলতে পারেন সেই অবস্থা তৈরি করে রাখবেন, আমরা যারা বিরোধী দলে আছি তারা কোনো সুযোগ পাবো না। আমরা আহম্মক যে সে নির্বাচন করতে যাবো? আমরা সেই নির্বাচনে যাব যে নির্বাচনে একটা লেভেল প্লেইং ফিল্ড থাকবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা এমন একটা পরিস্থিতি চান যে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমরা নির্বাচনে যেতে চাই। কিন্তু সে নির্বাচন অবশ্যই একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে, একটি লেভেল প্লেইং ফিল্ড থাকতে হবে।  তবেই এই দেশের মানুষ সেই নির্বাচন গ্রহণ করবে। অন্যথায় কোনো নির্বাচন গ্রহণ করবে না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘২০৩০ সালে বিএনপি কী করবে এ নিয়ে জাতির সামনে আসছেন আমাদের নেত্রী। সেই ভিশন নিয়েও তারা বলছেন এটা নাকি ধাপ্পাবাজি। নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম তখনও এভাবেই বলেছিলেন। কিন্তু আজ প্রমাণিত হয়েছে যে আমাদের প্রস্তাবগুলো দেশের মানুষ গ্রহণ করেছিল।’

আওয়ামী লীগ ধাপ্পাবাজির রাজনীতি করে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন. ‘প্রতারণা করে আপনারা বারবার ক্ষমতায় এসেছেন। আমরা সেই প্রতারণার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আপনারা গণতন্ত্র হত্যা করেছেন ১৯৭৫ সালে, আমরা গণতন্ত্র উদ্ধার করেছি। বিএনপি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করে। ২০০৮ সালে অবৈধ এক-এগারোর সরকারের সাথে আঁতাত করে এখন পর্যন্ত ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ।’

কর্মিসভায় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী সোহেল প্রমুখ।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.