সিটিনিউজ ডেস্ক::গাইবান্ধা সফরে গিয়ে ত্রাণ হিসেবে খাবারের পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে ধানের চারাও বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে বন্যার্তদের।
শনিবার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরের কুঠিবাড়ি ঈদগাহ মাঠে এক সমাবেশে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দুর্গত মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন তিনি। সরকার প্রধানের এই সফরকে ঘিরে সকাল থেকেই গাইবান্ধায় বন্যার্তরা ভিড় করে। তবে তালিকাভুক্তরাই সে সুযোগ পেয়েছে।
ত্রাণ নিতে আসা দুর্গতদেরকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের যথেষ্ট পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী রয়েছে। একজন মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না। যাদের খাবার কেনার সামর্থ নেই, তাদেরকে বিনামূল্যে খাবার দেয়া হবে। হতদরিদ্রদের বিনামূল্যে ভিজিএফ ও ভিজিডি চাল দেয়া হবে।
বন্যাদুর্গতদের মনোবল না হারানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জানবেন, সব সময় আপনাদের পাশে আছি।… সরকারে থাকি আর বিরোধী দলে থাকি, মানুষের বিপদে সব সময় আওয়ামী লীগ পাশে দাঁড়িয়েছে।’
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল মেরামত, নতুন বইখাতা বিতরণ, রাস্তাঘাট ঠিক করার ঘোষণাও দেন শেখ হাসিনা। বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত করা হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষ হত্যা তাদের দ্বারা দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন বানচাল করতে জামায়াত-বিএনপি জোট গোবিন্দগঞ্জসহ সারাদেশে তাণ্ডব চালিয়ে মানুষ পুড়িয়েছে, এমনকি রিটার্নিং ও প্রিজাইডিং অফিসারকে হত্যা করেছে। শুধু তাই না, তারা এমপি লিটনকেও হত্যা করেছে।’
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সংসদ সদস্য ইউনুস আলী প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাবেশ শেষে তিন হাজার বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ জন কৃষকদের মধ্যে ধানের চারা বিতরণ করেন। পরে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সুধীসমাজ ও বন্যা ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর তিনি হেলিকপ্টার যোগে বগুড়ার সারিয়াকান্দির উদ্দেশে রওয়ানা দেন।
