অনিশ্চয়তায় বাড়ী ফেরা !

0

সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি প্রতিনিধি::দীর্ঘ দিন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করার পরে প্রশাসন সহ নানান সংস্থার উপর আশা করে বেঁচে ছিলো গত ১৩ জুন রাঙামাটিতে সংগঠিত হওয়া পাহাড় ধসের ক্ষতিগ্রস্থরা। কিন্তু মঙ্গলবার প্রশাসনের দেওয়া ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে অনিশ্চয়তায় পরে গেলো সেসব সর্বহারা লোকেরা। অনিশ্চয়তায় বাড়ী ফিরে গেলো তারা।

গত জুন মাসে রাঙামাটির পাহাড় ধস ঘটনায় ১২০ জন মারা যায়, ক্ষয়ক্ষতির হয় হাজারো ঘর-বাড়ি। এই ঘটনার পরে প্রায় দীর্ঘ ৩ মাস ক্ষতিগ্রস্থ লোকেরা অবস্থান করছিলো আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে। আশায় বুক বেঁধেছিলো তাদের ক্ষতি সমমূল্য সহায়তা না পেলেও জীবন যাত্রা এগিয়ে  নিতে পাবে বিশেষ সহায়তা। এমনি কি সর্বহারা অনেকে মনে করেছিলো সরকার তাদের পূর্ণবাসনের জন্য ব্যবস্থাও করে দিবে, কিন্তু দীর্ঘ কষ্টের জীবন পার করার পরে সবাই যেনো হতাশ হয়ে ফিরেছে নিজ নীড়ে।
তেমনি একজন জামাল আহাম্মেদ, তিনি বলেন, পাহাড় ধসে আমার বাড়ি-ঘর সব কিছু শেষ হয়ে গিয়েছে, আশা ছিলো সরকার আমাদের পূর্ণবাসন করবে কিন্তু এখন দেখি আমাদেরকে টিন, টাকা আর চাউল দিয়ে বিদায় করে দিচ্ছে। এসব দিয়ে আমি কি করবো? টিন ও যে পরিমাণে টাকা দিয়েছে তা দিয়ে তো ২ রুমের একটা ঘরও তৈরি করা যাবে না ভালো না। তাছাড়া এগুলো দিয়ে আমরা কই ঘর তৈরি করবো, সেই পুরানো পাহাড়ে। তবে তো আমাদেরকে আবারো মৃত্যুর মুখে দিয়ে আসার অবস্থা হলো।
তার সাথে কথা বলার সময় পাশে থাকা হাবিব ড্রাইভার বলেন, আমার বাড়ি-ঘর সব নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘ দিন বউ, বাচ্চা নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলাম। কিন্তু এখন সরকার আমাদেরকে কিছু টাকা, টিন আর চাল দিয়ে বিদায় করে দিচ্ছে। বলছে আশ্রয় কেন্দ্রে আর থাকতে পারবো না আবার প্রশাসন বলছে পুরানো জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ তাই সেখানে ফিরে না যেতে। এখন আমরা কি করবো?  সেটা বলছে না কেউ।
তিনি আরো বলেন, এ টিন, টাকা আর চাল দিয়ে আমাদের কিছুই হবে না। এগুলো রেখে দিয়ে আমাদেরকে পূর্ণবাসন করার ব্যবস্থা করা হোক।
৬ নং ওয়ার্ডের সন্তানহারা জরিনা খাতুন’র সাথে কথা বলে তিনি জানান, ‘বাবা সন্তানকে হানায়ছি, ঘর-বাড়ি সব শেষ আমি এখন নিঃস। যে টাকা আর টিন দিছে এসব দিয়ে নতুন ঘর তৈরি করা যাবে না। আর আগের জায়গায় ঘর তৈরি করার অবস্থায় নাই। সে জায়গা আমার বুক খালি করে দিছে, আমি আর সেখানে যায়তে চাই না’ বলেও অশ্রু ভেজা চোখে এ মা নিজের কথা জানান।
সনাতন পাড়ার বাসিন্দা মুকুল ঘোষ বলেন, আমার আংশিক ক্ষতি হয়ছে সে জন্য আমারে ১ হাজার টাকা আর ৩০ কেজি চাল দিছে। এ অল্প ত্রাণ দিয়ে আমার কি হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন রাঙামাটিতে সংগঠিত হওয়া পাহাড় ধস দুর্ঘটনায় ১২০ জন নিহত হয় এবং হাজারো ঘর-বাড়ি ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ পাহাড় ধসে  পরে ক্ষতিগ্রস্থরা দীর্ঘদিন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করে। গত মঙ্গলবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সে সকল আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে বেশি ক্ষতির শিকার হওয়া পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্থ ১২০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। সেখানে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ২ বান ঢেউ টিন, নগত ৬ হাজার টাকা এবং ৩০ কেজি চাউল বিতরণ করেন। অন্যদিকে আংশিক ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে নগত ১ হাজার টাকা এবং ৩০ কেজি চাউল বিতরণ করেন।
এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.