চকরিয়া প্রতিনিধি, সিটি নিউজঃঃ কক্সবাজারের চকরিয়ায় পারিবারিক কলহের জের ধরে কুলসুমা জান্নাত রিমা (২১) নামে এক গৃহবধুকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) ভোর রাতে উপজেলার শাহারবিল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মাইজঘোনা উত্তর পাড়া গ্রামে নিহতের শ্বশুর বাড়িতে ঘটেছে এ ঘটনা। থানা পুলিশ আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় স্বামীর ঘরের বীমের সাথে গলায় উড়না পেচানো ও ঝুলন্ত অবস্থায় কুলসুমার লাশটি উদ্ধার করেছে।
নিহত কুলসুমার মা নুরুন্নাহার দাবী করেছেন স্বামীর পরকীয়া প্রেমের প্রতিবাদ করায় তার মেয়েকে শনিবার ভোর রাতে হত্যা করা হয়েছে। চকরিয়া থানার এস আই মাইনুদ্দিন জানিয়েছে কুলসুমাকে ঘরের বীমের সাথে ও গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। শাওন কবির ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের সাথে কথা যায়নি।
চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের মুছার পাড়া গ্রামের মৃত মহিউদ্দিনের মেয়ে কুলসুমা জান্নাত রীমার সাথে শাহারবিল ইউনিয়নের উত্তর মাইজঘোনা গ্রামের বশির ড্রাইভারের ছেলে শাওন কবিরের বিয়ে হয় তিন বছর পূর্বে।
নুরুন্নাহার জানান, তার জামাতা ড্রাইভার শাওন কবির চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করা একজনের সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে।এ কারণে আমার মেয়েকে শাওন কবির প্রায় সময় নির্যাতন করতো। নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে অনেক সালিশ বিচারও হয়েছে। স্বামীর নির্যাতনে কিছু দিন আগে মেয়েকে বাবার বাড়ি নিয়ে যাই। পরে উভয় পরিবারের সমঝোতায় এক সাপ্তাহ পূর্বে কুলসুমাকে শ্বশুর বাড়িতে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েটি রাত ১১টার দিকে আমাকে ফোন দিয়ে কি যেন বলতে চেয়েছিল, কিন্তু মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ায় আর কথা বলতে পারেনি। সকালে মেয়ের শ্বশুর বাড়ি থেকে ফোন করে লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য খবর দেয়। এলাকাবাসী জানান, কুলসুমাকে হত্যার পর তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে দেয়া হয়েছে। শাওন কবির হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামী। এ ঘটনার আরও আগে শ্বশুর বাড়ির লোকজন কুলসুমা জান্নাত রিমা’র গর্ভের সন্তানও নষ্ট করে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ঘরের তীরের সাথে গলায় একটি ওড়না পেঁচানো ও ঝুলন্ত অবস্থায় লাশটি পাওয়া গেছে। নীচে একটি টি টেবিল ও তার উপর প্লাষ্টিকের মোড়া ছিল। শাওন কবিরসহ পরিবারের সবাই পালিয়ে যাওয়ায় কারও সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। শনিবার সকাল ৮টায় লাশটি উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
