মহেশখালী ৬টি ইউনিয়নের ৫টি আ:লীগ ১টি স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী

জামাল জাহেদ , ককসবাজার :  কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে ধলঘাটা ও মাতারবাড়ি ইউনিয়ন ছাড়া অন্য ৪টি ইউনিয়নে সকালে থেকে দুপুর ১২ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন চল্লেও বেলা বাড়ার সাথে উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের সর্ংঘষ,ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া,গুলিবর্ষণ ও সহিংসতার মধ্য দিয়েই মঙ্গলবার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।দুপুর সাড়ে ১২ টায় প্রথম সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের মগরিয়াকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ও বড় মহেশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে আওয়ামীলীগ মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান শরীফ বাদশার সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এনায়েত উল্লাহ বাবুলের সর্মথকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ১০ জন গুরুতর আহত হয়। নাহিদ নামের একজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিট্রেটের নেতৃত্চর্ব র‌্যাব,কোষ্ট গার্ড় ও বিজিবি,র সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। পরে ভ্রাম্যমান আদলতের নির্বাহী ম্যাজিট্রেট মগরিয়াকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে স্থগিত ঘোষনা করেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করায় র্দীঘ ১ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় বড় মহেশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহন আরম্ভ হয়।অপরদিকে কুতুবজোম ইউনিয়নের ৭ নং ওয়াড়র্ে তাজিয়াকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে জামায়াত-বিএনপি সমর্থীত বর্তমান চেয়ারম্যান মৌ শফিউল আলমের সর্মথকরা অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভোট কেন্দ্র দখলের জন্য (দুপুর ১২ টা/১ টা ও বিকাল ৩ টায়) পর পর তিনবার পুলিশের লক্ষ্য করে ১৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করলে পুলিশও আতœরক্ষার্থে ছয় রাউন্ড ফাকাগুলি বর্ষণ করেন।উক্ত কেন্দ্রে দায়িত্বরত সাব-ইন্সেপেক্টর আবু মুসার দুরদর্শিতা ও সাহসিকতায় পর পর তিনবার গুলি বর্ষণ করে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলেন জামায়াত-বিএনপি সর্মথকরা।এসময় সন্ত্রাসীদের হামলায় পুলিশের সাব-ইন্সেপেক্টর আবু মুসা,এস,আই শাহেদ ও কনেষ্টবল খোকন আহত হয়। পরে পুলিশ একজনকে আটক করে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে মহেশখালী থানার ওসি(তদন্ত) দিদারুল ফেরদৌসের নেতৃর্ত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে জামায়াত-বিএনপি সমর্থীত বর্তমান চেয়ারম্যান মৌ শফিউল আলমের সর্মথকরা ইট পাটকেল ছুড়ে।মহেশখালী উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারী ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ায় কারণে বড় ধরণের কোন সহিংসতা ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ৭ টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্টিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহুর্তে উচ্চ আদালতের স্থাগিতাদেশ থাকার কারণে কালারমারছড়া ইউনিয়ের নির্বাচন অনুষ্টিত হয়নি । তবে এবারের ইউপি নির্বাচনে ৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫ টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরাই (নৌকা প্রতীক) নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেণ।মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২ ঘটিকার সময় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো: আবুল কালাম ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার বেদারুল ইসলাম নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। এসময় অন্যান্যওদর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ বাবুল চন্দ্র বনিক,ওসি ওসি(তদন্ত) দিদারুল ফেরদৌস।

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.