ঢাকা : আজ বুধবার খুলে দেয়া হচ্ছে মগবাজার-মৌচাক নিমার্ণাধীন ফ্লাইওভারের একটি অংশ । ২ কিলোমিটার এই অংশটি বুধবার (৩০ মার্চ) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন।
উদ্বোধনের পর থেকেই যান চলাচলের জন্য ফ্লাইওভারটি খুলে দেয়া হবে। এছাড়া বাকি দুই অংশসহ পুরো ৮ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে চালু হবে। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দ্বিতীয় ধাপে ফ্লাইওভারটির বাংলামোটর-মৌচাকমুখি লেনটি আগামী ডিসেম্বরে ও শেষ ধাপে রাজারবাগ শান্তিনগরের দিকের অংশটি আগামী বছর জুনে খুলে দেয়া হবে। এরপর বাংলামোটর থেকে মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ হয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে গিয়ে শেষ হবে। আরেকটি ধাপে রামপুরা রোড থেকে মৌচাক হয়ে শান্তিনগর গিয়ে শেষ হবে।
১ হাজার ২১৮ দশমিক ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
তিন লেনবিশিষ্ট এ ফ্লাইওভারে ওঠানামার জন্য আটটি পথ থাকবে। এতে ফ্লাইওভার থেকে তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, এফডিসি, মগবাজার, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, বাংলামোটর, মগবাজার, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং শান্তিনগর মোড়ে ওঠানামা করা যাবে।
জানা গেছে, মগবাজার-মৌচাক ও মৌচাক-হাজিপাড়া-কাকরাইল ফ্লাইওভার প্রকল্প দু’টি গত ২০১১ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়, যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৪ সালের নভেম্বরে। তবে ড্রয়িং-ডিজাইনসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি সরবরাহে সমন্বয়ের অভাব ও সঠিক নকশা পরিবর্তন করায় অতিরিক্ত আরো দুই বছর সময় ব্যয় হচ্ছে।
প্রথমে এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭২ কোটি টাকা। যা এখন বেড়ে হাজার কোটি টাকার ওপরে চলে গেছে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে এর নির্মাণ কাজ শেষে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার কথা ছিল। এখন ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এছাড়া তেজগাঁও-পান্থপথ লিংক রোড এফডিসি গেটের পরিবর্তে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত ৪৫০ মিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। এতে করে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত যাচ্ছে ফ্লাইওভারটি। এ খাতে ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় ৮ দশমিক ৭০ কিলোমিটার ফ্লাইওভার, ৩ হাজার ৮৪৩ দশমিক ৭০ বর্গমিটার অবকাঠামো নির্মাণসহ দু’টি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনা হয়। এছাড়া ৪০ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে।

Comments are closed.