আজ আন্তর্জাতিক মা দিবস

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। যদিও আমরা সবাই মাকে সবসময় ভালোবাসি, এরপরও প্রতি বছর এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মায়ের বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্বের কথা। তবে অনেকেই আলাদাভাবে মা, বাবা, কন্যা দিবস নিয়ে খুবই বিরক্ত। তাদের ভাষ্য আমি আমার বাবা-মাকে ভালোবাসবো সারাবছর, এজন্য আবার বিশেষ দিন কেন? আবার অনেকে এ দিবসটি নিয়ে খুবই উৎসাহিত। এমনটিই লক্ষ্য করা গেছে সোস্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন জনের প্রতিক্রিয়া থেকে।

যে যাই বলুক না কেন, পৃথক মা দিবস পালনে মায়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এতে মাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেও। এতে দোষের আবার কী হলো!

মাকে নিয়ে হাদিসে বর্ণিত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘পৃথিবীতে সন্তানের উত্তম আচরণ ও শ্রদ্ধা পাওয়ার সবচেয়ে বেশি অধিকারী হচ্ছেন মা।’ ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিং বলেছেন, ‘মাতৃত্বেই সকল মায়া-মমতা ও ভালোবাসার শুরু এবং শেষ।’ লেডি অ্যানি বলেছেন, ‘মা সবক্ষেত্রে সব পরিবেশেই মা।’ আর জন অস্টিনের মতে, ‘যে গৃহে মা নেই, স্নেহের শীতল হাতের স্পর্শ সেখানে নেই।’ অন্যদিকে সম্রাট নেপোলিয়ন বলেছেন, ‘যদি তুমি আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে একটি শিক্ষিত জাতি দেবো।’

ভিক্টর হুগোর মতে, ‘মায়ের হাতগুলো কোমলতা দিয়ে তৈরি, সন্তানরা সেখানে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে।’ সাহিত্যিক মার্ক টোয়েন বলেছেন, ‘মা কৃশকায় ও ছোট হলেও তার হৃদয়টা বেশ বড়। তা এতোটাই বড় যে, সবার বেদনা ও আনন্দ সেখানে জায়গা করে নিতে পারে।’

জানি না দিবসটি কখন থেকে কিভাবে চালু হয়েছে। কথিত আছে, ব্রিটেনেই প্রথম শুরু হয় মা দিবস পালনের রেওয়াজ। পরে বেশিরভাগ দেশেই মা দিবস হলো একটি সাম্প্রতিক রীতি, যা উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে ছুটির দিনটির রীতি অনুসারে চলে এসেছে। যখন অনান্য বহু দেশ ও সংস্কৃতি এটিকে গ্রহণ করে তখন এই দিনটিকে একটি অন্য মাত্রা দেয়া হয়। তেমনি আজ মা দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।

অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন ‘মা’র জন্যে এই একটি দিনই কি যথেষ্ট? এর জবাবে বলা যায়- আজ মা দিবসেও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অনেক মা অবহেলিত ও লাঞ্ছিত। অনেক মা আহাজারি করছেন। আমাদের সমাজেও সৃষ্টি হয়েছে বৃদ্ধাশ্রম। সেখানে আজও শত শত মা আহাজারি করছেন সন্তানকে একনজর দেখার জন্য, সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ভালেবাসার জন্য। কিন্তু আমাদের এই একবিংশ শতাব্দীর সভ্য সমাজের এক শ্রেণী আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ধনবান লোকেরা তাদের মা-বাবার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতেই যেন লজ্জাবোধ করেন। যে কারণে অনেকে জীবনের পড়ন্ত বেলায় বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। যা আমরা মাঝে মধ্যেই টেলিভিশনের পর্দায় কিংবা পত্রিকার পাতায় এমন অনেক মায়ের গল্প জানতে পারি। ফলে আজকের মা দিবসটি ওইসব ব্যক্তিদের হৃদয়ে নাড়া দেবে এমনটিই প্রত্যাশা করি।

প্রসঙ্গত, আজ মা দিবসের সকালে ফেসবুক লগইন করতেই দেখতে পেলাম অনেকেই মাকে নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আবার অনেকে মায়ের সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করেছেন। যেখানে ফুটে উঠেছে মায়ের প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা। নিম্নে দু-একজনের স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো-

ঢাকা থেকে আয়েশা আখতার ডালিয়া নামে একজন স্ট্যাটাসে বলেন, ‘আম্মা তোমার সাথে আমার কোন ছবি নাই, কারণ তুমি ছবি তুলতে চাও না। সবাই যখন মা দিবসে ছবি দিচ্ছে আমি তখন কোন ছবি খুঁজে পেলাম না। ভাবলাম তোমাকে নিয়ে দুই লাইন লিখি।

ছোট বেলা থেকে তুমি আমাদের পাঁচ ভাইবোন এবং আমার ছয় জন চাচা ফুফুকে কত আদর, স্নেহ, ভালোবাসা দিয়ে মানুষ করেছ, কত ঝড় ঝাপটা এসেছে, তুমি আমাদের কিছুই বুঝতে দাওনি, সব কিছু নিজের উপর দিয়ে নিয়ে গেছো, যেমন পাখি তার ডানা মেলে তার বাচ্চাদের ঝড় বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে, ঠিক তেমনি করে তুমি আমাদের সযত্নে রক্ষা করেছো, মানুষ করেছো। আলহামদুলিলাহ!

Maবাংলাদেশের সকল মা’রাই এরকম, বাংলাদেশের সকল মাকে আমার পক্ষ থেকে স্যালুট! মা আমার, তুমি আমার জন্য যা করেছো আমি তার কোন কিছুই কোনদিন ফেরত দিতে পারব না। কিন্তু আমি চেয়েছি তোমার নামটা মানুষ চিরজীবন মনে রাখুক। এর জন্য গত দুই বছর আগে থেকে ‘রোকেয়া ফাউনডেশন’র যাত্রা শুরু হয়েছে। যেখানে অসংখ্য এতিম, পথশিশু, অসহায় কন্যা শিশুরা আশ্রয় পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে আমি তাদের তৈরি করার চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ্, আমি সফল হবো।

মা আমার, তুমি আমার জন্য, আমার বাচ্চাদের জন্য এবং রোকেয়া ফাউনডেশনের বাচ্চাদের জন্য দোয়া করো, আল্লাহ্ যেন আমাদের চলার পথ মসৃণ করে দেন। I LOVE YOU AMMA.’

মোহনা হক নামে অপর একজন বলেন, ‘নিজে মা না হলে হয়তো বুঝা হয়েই উঠত না মা তার সন্তানকে কতটা ভালোবাসেন। বুঝা হতোনা মা সন্তানের জন্য কতটা ত্যাগ করতে পারেন। ঠিক আমার মা ও আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। আমার দুই বাচ্চা তাই কত ঝামেলা সেখানে আমার মা আমাদের ছয় ভাই বোনকে বড় করেছেন সুন্দরভাবে। চির ঋণী মা এর কাছে আমরা প্রত্যেকে। মা দুনিয়ার বেহেস্তের নিয়ামত। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আমাদের সবার মা সুস্থ এবং সুন্দর থাকুক। মাকে অনেক ভালোবাসি হয়তো বলার অপেক্ষা রাখে না। মাকে আমরা সবাই অনেক অনেক ভালোবাসি। আমিও আমার মাকে অনেক ভালোবাসি অনেক এবং মিস করি প্রতি মুহূর্তে। মাকে ভালোবাসার অনুভূতি আমার কাছে প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তই একই রকম।’
সবশেষে কবির ভাষায় বলতে হয়-
‘মা কথাটি ছোট্ট অতি
কিন্তু যেন ভাই
ইহার চেয়ে নাম যে মধুর
ত্রিভুবনে নাই।’

আন্তর্জাতিক মা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সব মায়ের অধিকার ও যথাযথ মর্যাদা তাদের সন্তানরা সমুন্নত রাখুক এই কামনা করছি।

 

সংগৃহীতঃ  ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, বাংলামেইল২৪

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.